ঢাকা ১১:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জামায়াত আমিরের এক্স ‘হ্যাকড’: গ্রেপ্তার নিয়ে পুলিশের ভেতরে দ্বিমত

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:০২:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 128

ছবি: খবরের কথা

 

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার ছরওয়ারে আলমকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। তবে এই গ্রেপ্তারকে ঘিরে পুলিশের ভেতরেই মতবিরোধ দেখা দিয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

মঙ্গলবার মধ্যরাতে মতিঝিল থানা এলাকা থেকে ছরওয়ারে আলমকে আটক করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা গ্রেপ্তারের তথ্য প্রকাশ না পেলেও রাতে ডিএমপির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা আসে।

আরও পড়ুন  সাবেক চীফ জাস্টিস খায়রুল হক গ্রেপ্তার

সংবাদ সম্মেলনের আগে ডিবির দুজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রাথমিক তদন্তে ছরওয়ারে আলমের বিরুদ্ধে হ্যাকিংয়ে জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাদের ভাষ্য, রাজনৈতিক চাপের কারণেই তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও করেছেন ডিবির কয়েকজন কর্মকর্তা।

রাত সাড়ে ১০টার দিকে মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে আসেন ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম। সেখানে তিনি জানান, জামায়াতের পক্ষ থেকে হাতিরঝিল থানায় করা জিডির পর বিষয়টি সাইবার অপরাধ হওয়ায় ডিবির কাছে তদন্তভার আসে। পরে হাতিরঝিল থানায় মামলা হলে ছরওয়ারে আলমকে সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

তিনি আরও বলেন, ছরওয়ারে আলমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, কম্পিউটারের হার্ডডিস্কসহ ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে এবং সেগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। ফরেনসিক প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত বলা সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।

তবে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নে বারবার অস্পষ্ট উত্তর দেন ডিবি প্রধান। এক পর্যায়ে তিনি বলেন, গ্রেপ্তার করেছে হাতিরঝিল থানার পুলিশ, ডিবি নয়। আবার প্রমাণ আছে বললেও কী ধরনের প্রমাণ, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি।

সংবাদ সম্মেলন শেষে পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তার নিয়ে ডিবির ভেতরে দ্বিধা বিভক্তি তৈরি হয়েছিল বলেই সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হয়। তবে এই দাবি অস্বীকার করেন ডিবি প্রধান।

উল্লেখ্য, ৩১ জানুয়ারি রাতে জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে নারীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যসংবলিত একটি পোস্ট ভাইরাল হয়। পরে জামায়াত দাবি করে, সাইবার হামলার মাধ্যমে ওই পোস্ট দেওয়া হয়েছিল এবং এটি তাদের অবস্থান নয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

জামায়াত আমিরের এক্স ‘হ্যাকড’: গ্রেপ্তার নিয়ে পুলিশের ভেতরে দ্বিমত

আপডেট সময় ১২:০২:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার ছরওয়ারে আলমকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। তবে এই গ্রেপ্তারকে ঘিরে পুলিশের ভেতরেই মতবিরোধ দেখা দিয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

মঙ্গলবার মধ্যরাতে মতিঝিল থানা এলাকা থেকে ছরওয়ারে আলমকে আটক করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা গ্রেপ্তারের তথ্য প্রকাশ না পেলেও রাতে ডিএমপির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা আসে।

আরও পড়ুন  সারাদেশে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ১৫৪২

সংবাদ সম্মেলনের আগে ডিবির দুজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রাথমিক তদন্তে ছরওয়ারে আলমের বিরুদ্ধে হ্যাকিংয়ে জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাদের ভাষ্য, রাজনৈতিক চাপের কারণেই তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও করেছেন ডিবির কয়েকজন কর্মকর্তা।

রাত সাড়ে ১০টার দিকে মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে আসেন ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম। সেখানে তিনি জানান, জামায়াতের পক্ষ থেকে হাতিরঝিল থানায় করা জিডির পর বিষয়টি সাইবার অপরাধ হওয়ায় ডিবির কাছে তদন্তভার আসে। পরে হাতিরঝিল থানায় মামলা হলে ছরওয়ারে আলমকে সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

তিনি আরও বলেন, ছরওয়ারে আলমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, কম্পিউটারের হার্ডডিস্কসহ ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে এবং সেগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। ফরেনসিক প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত বলা সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।

তবে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নে বারবার অস্পষ্ট উত্তর দেন ডিবি প্রধান। এক পর্যায়ে তিনি বলেন, গ্রেপ্তার করেছে হাতিরঝিল থানার পুলিশ, ডিবি নয়। আবার প্রমাণ আছে বললেও কী ধরনের প্রমাণ, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি।

সংবাদ সম্মেলন শেষে পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তার নিয়ে ডিবির ভেতরে দ্বিধা বিভক্তি তৈরি হয়েছিল বলেই সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হয়। তবে এই দাবি অস্বীকার করেন ডিবি প্রধান।

উল্লেখ্য, ৩১ জানুয়ারি রাতে জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে নারীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যসংবলিত একটি পোস্ট ভাইরাল হয়। পরে জামায়াত দাবি করে, সাইবার হামলার মাধ্যমে ওই পোস্ট দেওয়া হয়েছিল এবং এটি তাদের অবস্থান নয়।