ঢাকা ০৩:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গ্রেফতারের আগে ওয়ারেন্টের সত্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ হাইকোর্টের

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:৫২:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 1

ছবি সংগৃহীত

 

ভুয়া গ্রেফতারি পরোয়ানার (ওয়ারেন্ট) মাধ্যমে নাগরিকদের হয়রানি বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট। গ্রেফতারের আগে পুলিশের কর্মকর্তাদের কেন্দ্রীয় তথ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা (সেন্ট্রাল ডেটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম) থেকে ওয়ারেন্টের সত্যতা যাচাই করতে বলা হয়েছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম ও বিচারপতি মুরাদ-এ-মাওলা সোহেলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

আরও পড়ুন  জামিন অনিশ্চিত: চিন্ময় দাশের মামলায় হাইকোর্টের রুল

একই সঙ্গে এ বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করে দেশের সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পাঠাতে পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) করা এক রিটের রুলের শুনানি শেষে আদালত এ সিদ্ধান্ত দেন।

রায়ে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দেশের সব অধস্তন আদালতের বিচারক—জেলা জজ, মহানগর জজ, সিজিএম ও সিএমএম—বরাবর নির্দেশনা পাঠাতে বলা হয়েছে। এতে কোনো নালিশি মামলা (সিআর মামলা) দায়েরের সময় বাদী ও আইনজীবীর পরিচয় নিশ্চিত করতে আইনজীবীর প্রফেশনাল কার্ড এবং বাদীর জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) কপি মামলার সঙ্গে যুক্ত করার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলেন, কোনো নাগরিককে গ্রেফতার করতে হলে ফৌজদারি কার্যবিধির বিধান অনুসরণ করতে হবে। তা না হলে আইনের ব্যত্যয় ঘটবে। ভুয়া ওয়ারেন্টের মাধ্যমে কাউকে গ্রেফতার করা হলে তার মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়। এ ধরনের ঘটনা ঠেকানো সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব।

আদালত আরও বলেন, আদালতের মাধ্যমে যেন মানুষ হয়রানির শিকার না হন, সেজন্য মামলা দায়ের ও গ্রেফতারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি। কারণ এ ধরনের ঘটনায় নাগরিকের যে ক্ষতি হয়, তা পরে পূরণ করা সম্ভব হয় না।

রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী মো. ছারওয়ার আহাদ চৌধুরী, সঞ্জয় মণ্ডল ও নাসরিন সুলতানা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জে আর খান রবিন এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. হুমায়ুন হোসেন তুহিন।

শুনানিতে মনজিল মোরসেদ জানান, ২০১২ সালে আরিফ নিয়াজী নামে এক নাগরিককে গুলশানের বাসা থেকে ভুয়া ওয়ারেন্টে গ্রেফতার করা হয়েছিল। আদালতে নেওয়ার পর তিনি জানতে পারেন, তার বিরুদ্ধে করা মামলা ও ওয়ারেন্ট দুটিই ভুয়া। পরে সংশ্লিষ্ট আদালতের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেও ভুয়া মামলার বিষয়টি প্রমাণিত হয়।

তিনি আরও বলেন, শত্রুতা হাসিলের উদ্দেশ্যে প্রভাবশালীরা ভুয়া ওয়ারেন্ট ব্যবহার করে নাগরিকদের হয়রানি করছেন—এমন বিভিন্ন প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। আইন অনুযায়ী কোনো কারণ ছাড়াই ভুয়া ওয়ারেন্টের কারণে মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

এসব গণমাধ্যম প্রতিবেদন যুক্ত করে ভুয়া ওয়ারেন্ট ও নালিশি মামলা বন্ধে নির্দেশনা চেয়ে জনস্বার্থে রিট করে এইচআরপিবি। প্রাথমিক শুনানি শেষে ২০১৩ সালের ৩০ জানুয়ারি হাইকোর্ট রুল জারির পাশাপাশি আরিফ নিয়াজীকে গ্রেফতারের বিষয়ে গুলশান থানার ওসিকে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন। সেই রুলের নিষ্পত্তি করে সোমবার আদালত এ রায় দেন।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জে আর খান রবিন রুলের বিরোধিতা করেন। তিনি আদালতকে জানান, ইতোমধ্যে সেন্ট্রাল ডেটা সিস্টেম চালু হয়েছে। ফলে ভুয়া ওয়ারেন্টের মাধ্যমে গ্রেফতারের সুযোগ নেই।

এ ছাড়া মামলাটি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি নিজে করেননি উল্লেখ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, এ কারণে তার প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ নেই।

এইচআরপিবির করা রিটে স্বরাষ্ট্র সচিব, আইজিপি, র‌্যাবের ডিজি, চট্টগ্রাম বিভাগের ডিআইজি, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার ও গুলশান থানার ওসিসহ মোট আটজনকে বিবাদী করা হয়েছিল।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

গ্রেফতারের আগে ওয়ারেন্টের সত্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ হাইকোর্টের

আপডেট সময় ০৩:৫২:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

ভুয়া গ্রেফতারি পরোয়ানার (ওয়ারেন্ট) মাধ্যমে নাগরিকদের হয়রানি বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট। গ্রেফতারের আগে পুলিশের কর্মকর্তাদের কেন্দ্রীয় তথ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা (সেন্ট্রাল ডেটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম) থেকে ওয়ারেন্টের সত্যতা যাচাই করতে বলা হয়েছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম ও বিচারপতি মুরাদ-এ-মাওলা সোহেলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

আরও পড়ুন  মেরাদিয়ায় কোরবানির হাট বসানোর অনুমতি বাতিল করলো হাইকোর্ট

একই সঙ্গে এ বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করে দেশের সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পাঠাতে পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) করা এক রিটের রুলের শুনানি শেষে আদালত এ সিদ্ধান্ত দেন।

রায়ে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দেশের সব অধস্তন আদালতের বিচারক—জেলা জজ, মহানগর জজ, সিজিএম ও সিএমএম—বরাবর নির্দেশনা পাঠাতে বলা হয়েছে। এতে কোনো নালিশি মামলা (সিআর মামলা) দায়েরের সময় বাদী ও আইনজীবীর পরিচয় নিশ্চিত করতে আইনজীবীর প্রফেশনাল কার্ড এবং বাদীর জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) কপি মামলার সঙ্গে যুক্ত করার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলেন, কোনো নাগরিককে গ্রেফতার করতে হলে ফৌজদারি কার্যবিধির বিধান অনুসরণ করতে হবে। তা না হলে আইনের ব্যত্যয় ঘটবে। ভুয়া ওয়ারেন্টের মাধ্যমে কাউকে গ্রেফতার করা হলে তার মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়। এ ধরনের ঘটনা ঠেকানো সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব।

আদালত আরও বলেন, আদালতের মাধ্যমে যেন মানুষ হয়রানির শিকার না হন, সেজন্য মামলা দায়ের ও গ্রেফতারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি। কারণ এ ধরনের ঘটনায় নাগরিকের যে ক্ষতি হয়, তা পরে পূরণ করা সম্ভব হয় না।

রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী মো. ছারওয়ার আহাদ চৌধুরী, সঞ্জয় মণ্ডল ও নাসরিন সুলতানা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জে আর খান রবিন এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. হুমায়ুন হোসেন তুহিন।

শুনানিতে মনজিল মোরসেদ জানান, ২০১২ সালে আরিফ নিয়াজী নামে এক নাগরিককে গুলশানের বাসা থেকে ভুয়া ওয়ারেন্টে গ্রেফতার করা হয়েছিল। আদালতে নেওয়ার পর তিনি জানতে পারেন, তার বিরুদ্ধে করা মামলা ও ওয়ারেন্ট দুটিই ভুয়া। পরে সংশ্লিষ্ট আদালতের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেও ভুয়া মামলার বিষয়টি প্রমাণিত হয়।

তিনি আরও বলেন, শত্রুতা হাসিলের উদ্দেশ্যে প্রভাবশালীরা ভুয়া ওয়ারেন্ট ব্যবহার করে নাগরিকদের হয়রানি করছেন—এমন বিভিন্ন প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। আইন অনুযায়ী কোনো কারণ ছাড়াই ভুয়া ওয়ারেন্টের কারণে মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

এসব গণমাধ্যম প্রতিবেদন যুক্ত করে ভুয়া ওয়ারেন্ট ও নালিশি মামলা বন্ধে নির্দেশনা চেয়ে জনস্বার্থে রিট করে এইচআরপিবি। প্রাথমিক শুনানি শেষে ২০১৩ সালের ৩০ জানুয়ারি হাইকোর্ট রুল জারির পাশাপাশি আরিফ নিয়াজীকে গ্রেফতারের বিষয়ে গুলশান থানার ওসিকে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন। সেই রুলের নিষ্পত্তি করে সোমবার আদালত এ রায় দেন।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জে আর খান রবিন রুলের বিরোধিতা করেন। তিনি আদালতকে জানান, ইতোমধ্যে সেন্ট্রাল ডেটা সিস্টেম চালু হয়েছে। ফলে ভুয়া ওয়ারেন্টের মাধ্যমে গ্রেফতারের সুযোগ নেই।

এ ছাড়া মামলাটি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি নিজে করেননি উল্লেখ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, এ কারণে তার প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ নেই।

এইচআরপিবির করা রিটে স্বরাষ্ট্র সচিব, আইজিপি, র‌্যাবের ডিজি, চট্টগ্রাম বিভাগের ডিআইজি, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার ও গুলশান থানার ওসিসহ মোট আটজনকে বিবাদী করা হয়েছিল।