পুলিশের ১৭ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর
- আপডেট সময় ১১:৫৬:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
- / 93
বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ১৭ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ‘জনস্বার্থে’ বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। রোববার (৩ মে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এই আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮–এর ৪৫ ধারার বিধান অনুযায়ী সরকার এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো কর্মকর্তাদের তালিকায় পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের প্রধান, ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তা এবং মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার রয়েছেন। উল্লেখযোগ্য কর্মকর্তাদের মধ্যে আছেন এন্টি টেরোরিজম ইউনিটের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ, হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ, সিআইডির ডিআইজি হাবিবুর রহমান এবং পুলিশ অধিদপ্তরের ডিআইজি সালেহ মোহাম্মদ তানভীর। এছাড়াও এনএসআইয়ের পরিচালক হারুন-অর-রশীদ এবং পুলিশ স্টাফ কলেজের ডিআইজি এস এম আক্তারুজ্জামানকেও একই প্রজ্ঞাপনে অবসরে পাঠানো হয়েছে।
তালিকায় আরও রয়েছেন পিটিসি নোয়াখালীর কমান্ড্যান্ট হায়দার আলী খান, পিটিসি খুলনার কমান্ড্যান্ট মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া, ট্যুরিস্ট পুলিশের ডিআইজি রুহুল আমিন এবং রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মজিদ আলী।
হাইওয়ে ও নৌ-পুলিশের একাধিক ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তাসহ রেলওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদা) ফারহাত আহমেদকেও এই আদেশের আওতাভুক্ত করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অবসরপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তারা বিধি অনুযায়ী সকল অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্ত হবেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে এবং পুলিশ বাহিনীর চেইন অফ কমান্ড আরও সুসংহত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে বাধ্যতামূলক অবসরের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়নি, যা সাধারণত ‘জনস্বার্থ’ শব্দটির মাধ্যমে প্রশাসনিকভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। এই আকস্মিক রদবদল পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ কাঠামোতে নতুন পরিবর্তন আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

























