ঢাকা ০৪:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
পল্লবীতে নিরাপত্তা প্রহরী সালাহউদ্দিন হত্যা: ঘাতক অটোরিকশা চালক গ্রেপ্তার রোহিঙ্গা সংকটের কার্যকর সমাধান রাখাইনেই নিহিত: পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান থালাপতি বিজয়ের বিরুদ্ধে চেন্নাই পুলিশের মামলা বিসিএস ক্যাডার, প্রতিমন্ত্রী ও বর্তমান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী; এক নজরে সালাহউদ্দিন আহমদ ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত করতে সম্মত হয়েছে: দাবি ট্রাম্পের সংসার সুখের করতে স্বামীকে কৃতজ্ঞতা জানানোর দিন আজ খুলনা পুলিশ লাইনে কনস্টেবলের রহস্যজনক আত্মহত্যা জিলকদ মাসের চাঁদ দেখতে সন্ধ্যায় বসছে জাতীয় কমিটি শ্রমিকদের দক্ষতা অনুযায়ী পেশা বদলের অনুমতি দিল কুয়েত সরকার অনুমতি মেলেনি ইরানের, হরমুজ প্রণালিতে আটকা ‘বাংলার জয়যাত্রা’

কুমিল্লার গোমতী চরের মিষ্টিকুমড়ার বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:১৫:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ মার্চ ২০২৫
  • / 220

ছবি সংগৃহীত

 

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার গোমতী নদীর ভান্তির চরে এ বছর মিষ্টিকুমড়ার বাম্পার ফলনে কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আনন্দ। সবুজের মাঝে মিষ্টিকুমড়া বিকশিত হচ্ছে, যা পুরো চরের কৃষিজমি জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এই ফলন কৃষকদের মনে নতুন আশা এনে দিয়েছে।

মিষ্টিকুমড়া চাষে সফলতার পেছনে রয়েছে গত বছর আগস্টে হওয়া ভয়াবহ বন্যার পরের পরিস্থিতি। বন্যার স্রোতে গোমতী নদীর চরের কৃষিজমিতে প্রচুর পলি জমেছিল, যা এ বছর মিষ্টিকুমড়ার ভালো ফলন নিশ্চিত করেছে। নভেম্বরের শুরুতে জমিতে আলু ও মিষ্টিকুমড়ার চারা রোপণ করা হয়েছিল। বর্তমানে জমিগুলোতে শুধুমাত্র মিষ্টিকুমড়া রয়েছে এবং কৃষকরা এখন এসব তুলে বাজারে পাঠাচ্ছেন।

আরও পড়ুন  কুমিল্লায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৪ জন দগ্ধ 

এ বছর গোমতীর চরে শুধু মিষ্টিকুমড়া নয়, আলুরও ভালো ফলন হয়েছে। কৃষকরা গোমতীর বেড়িবাঁধ সড়কে মিষ্টিকুমড়া বিক্রি করছেন। প্রতিটি খেত থেকে ৪০-৬০ টাকায় মিষ্টিকুমড়া বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা চরে এসে এসব মিষ্টিকুমড়া সংগ্রহ করে বিভিন্ন বাজারে নিয়ে যাচ্ছেন।

ভান্তির গ্রামের কৃষক মো. মানিক জানান, গত বছর বন্যার পর জমির পলি ও দূষণের কারণে এ বছর ফসলের ফলন ভালো হয়েছে। তিনি ২৬ শতাংশ জমিতে আলু ও মিষ্টিকুমড়া চাষ করেছেন এবং ইতিমধ্যে আলু বিক্রি করে ৩০-৩৫ হাজার টাকা আয় করেছেন। এখন মিষ্টিকুমড়া বিক্রি করে ৪০-৫০ হাজার টাকার আশা করছেন।

মিষ্টিকুমড়ার চাষে সফলতা পেয়েছে বেশ কিছু হাইব্রিড জাত, যেমন মোহনা, পিরিতি সুপার, অনিক-১ ও ওয়ান্ডার বল। কৃষকদের মতে, মাটি ও আবহাওয়া এই ফলনের জন্য সহায়ক হয়েছে। বালীখাড়ার কৃষক মামুন মিয়া বলেন, ‘এই বছর মিষ্টিকুমড়ার বাম্পার ফলন হয়েছে, আশা করছি দাম আরও বাড়বে।’

কৃষি বিভাগের উপপরিচালক আইউব মাহমুদ বলেন, ‘বন্যার পর জমির পলি জমার কারণে মিষ্টিকুমড়ার ফলন ভালো হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দেওয়া সম্ভব হয়নি।’

এ বছর গোমতী চরের কৃষকরা মিষ্টিকুমড়ার ভালো ফলনে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করার সুযোগ পেয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

কুমিল্লার গোমতী চরের মিষ্টিকুমড়ার বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি

আপডেট সময় ০৩:১৫:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ মার্চ ২০২৫

 

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার গোমতী নদীর ভান্তির চরে এ বছর মিষ্টিকুমড়ার বাম্পার ফলনে কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আনন্দ। সবুজের মাঝে মিষ্টিকুমড়া বিকশিত হচ্ছে, যা পুরো চরের কৃষিজমি জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এই ফলন কৃষকদের মনে নতুন আশা এনে দিয়েছে।

মিষ্টিকুমড়া চাষে সফলতার পেছনে রয়েছে গত বছর আগস্টে হওয়া ভয়াবহ বন্যার পরের পরিস্থিতি। বন্যার স্রোতে গোমতী নদীর চরের কৃষিজমিতে প্রচুর পলি জমেছিল, যা এ বছর মিষ্টিকুমড়ার ভালো ফলন নিশ্চিত করেছে। নভেম্বরের শুরুতে জমিতে আলু ও মিষ্টিকুমড়ার চারা রোপণ করা হয়েছিল। বর্তমানে জমিগুলোতে শুধুমাত্র মিষ্টিকুমড়া রয়েছে এবং কৃষকরা এখন এসব তুলে বাজারে পাঠাচ্ছেন।

আরও পড়ুন  কুমিল্লায় বাস-অটোরিকশার সংঘর্ষে একজন নিহত, আহত ৫

এ বছর গোমতীর চরে শুধু মিষ্টিকুমড়া নয়, আলুরও ভালো ফলন হয়েছে। কৃষকরা গোমতীর বেড়িবাঁধ সড়কে মিষ্টিকুমড়া বিক্রি করছেন। প্রতিটি খেত থেকে ৪০-৬০ টাকায় মিষ্টিকুমড়া বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা চরে এসে এসব মিষ্টিকুমড়া সংগ্রহ করে বিভিন্ন বাজারে নিয়ে যাচ্ছেন।

ভান্তির গ্রামের কৃষক মো. মানিক জানান, গত বছর বন্যার পর জমির পলি ও দূষণের কারণে এ বছর ফসলের ফলন ভালো হয়েছে। তিনি ২৬ শতাংশ জমিতে আলু ও মিষ্টিকুমড়া চাষ করেছেন এবং ইতিমধ্যে আলু বিক্রি করে ৩০-৩৫ হাজার টাকা আয় করেছেন। এখন মিষ্টিকুমড়া বিক্রি করে ৪০-৫০ হাজার টাকার আশা করছেন।

মিষ্টিকুমড়ার চাষে সফলতা পেয়েছে বেশ কিছু হাইব্রিড জাত, যেমন মোহনা, পিরিতি সুপার, অনিক-১ ও ওয়ান্ডার বল। কৃষকদের মতে, মাটি ও আবহাওয়া এই ফলনের জন্য সহায়ক হয়েছে। বালীখাড়ার কৃষক মামুন মিয়া বলেন, ‘এই বছর মিষ্টিকুমড়ার বাম্পার ফলন হয়েছে, আশা করছি দাম আরও বাড়বে।’

কৃষি বিভাগের উপপরিচালক আইউব মাহমুদ বলেন, ‘বন্যার পর জমির পলি জমার কারণে মিষ্টিকুমড়ার ফলন ভালো হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দেওয়া সম্ভব হয়নি।’

এ বছর গোমতী চরের কৃষকরা মিষ্টিকুমড়ার ভালো ফলনে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করার সুযোগ পেয়েছেন।