খুলনায় বিএনপি কার্যালয়ে ঢুকে যুবদলের দুই কর্মীকে গুলি, এলাকায় তীব্র উত্তেজনা
- আপডেট সময় ০৭:১১:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
- / 76
খুলনা নগরীর পুটিমারী বাজারে প্রকাশ্য দুপুরে স্থানীয় বিএনপি কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকে যুবদলের দুই কর্মীকে গুলি করেছে এক দুর্বৃত্ত। বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুর পৌনে ২টার দিকে লবণচরা থানার পুটিমারী বাজার সংলগ্ন জলমা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পুটিমারী বাজার কমিটির সভাপতি ও যুবদলের সক্রিয় সদস্য মাসুম বিল্লাহ (৩৫) এবং জাহিদ (৩৫) নামের দুই তরুণকে উদ্ধার করে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি ও তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের তথ্যানুযায়ী, দুপুরে ৫ থেকে ৭ জন যুবক ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়ের ভেতরে বসে নিজেদের মধ্যে কথা বলছিলেন। এ সময় একাধিক অপরাধমূলক মামলার আসামি ও তাদের পূর্বপরিচিত পারভেজ নামের এক যুবক মোটরসাইকেল চালিয়ে হুট করে দলীয় কার্যালয়ের সামনে আসে। পারভেজ কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করার পরপরই সেখানে উপস্থিত মাসুম বিল্লাহ ও জাহিদের সঙ্গে তার কোনো একটি বিষয় নিয়ে তীব্র কথা কাটাকাটি ও বিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে পারভেজ নিজের কাছে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র বের করে তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। পারভেজের ছোড়া গুলি মাসুমের বাম পায়ের উরুতে এবং জাহিদের ডান হাতে বিদ্ধ হলে তারা রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপরই পারভেজ দ্রুত নিজের মোটরসাইকেলটি নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা আমীর এজাজ খান নিশ্চিত করেছেন যে, গুলিবিদ্ধ মাসুম বিল্লাহ ও জাহিদ দুজনই স্থানীয় যুবদলের ডেডিকেটেড কর্মী। দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে এভাবে হামলার ঘটনায় তিনি তীব্র নিন্দা ও জড়িতদের দ্রুত শাস্তির দাবি জানান।
খবর পেয়ে লবণচরা থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোশারেফ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুপুরে ওই দুই যুবক স্থানীয় বিএনপি কার্যালয়ে বসে গল্প করার সময় এক যুবক মোটরসাইকেলে এসে তাদের লক্ষ্য করে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।
এতে একজনের হাতে এবং অন্যজনের পায়ে গুলি লেগেছে। তবে আহতরা কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী কি না, সে বিষয়ে পুলিশ এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি। ঘটনার মূল হোতা পারভেজকে গ্রেপ্তার এবং অস্ত্রটি উদ্ধারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম ইতিমধ্যে বিশেষ অভিযানে নেমেছে বলে জানান তিনি।
























