‘যতক্ষণ সরকার চাইবে, মাঠে থাকবে সেনাবাহিনী’: কুমিল্লায় সেনাপ্রধান
- আপডেট সময় ০৫:৩১:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
- / 78
দেশের আইনশৃঙ্খলা ও শান্তি রক্ষায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সেনাবাহিনী মাঠে কাজ করে যাচ্ছে এবং সরকার যতদিন চাইবে, ততদিন সেনাসদস্যরা এই দায়িত্ব পালন করে যাবেন বলে জানিয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে কুমিল্লা সেনানিবাসে আয়োজিত ‘সেনাবাহিনী ফায়ারিং প্রতিযোগিতা-২০২৬’ এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সেনাপ্রধান তাঁর বক্তব্যে দেশের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও মাঠপর্যায়ে সেনাবাহিনীর অবস্থান তুলে ধরে বলেন, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার সুমহান দায়িত্বে সেনাবাহিনী এখনো নিয়োজিত আছে।
গত ২০২৪ সালের ২০ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ দায়িত্বের অংশ হিসেবে এখনো সারা দেশের ৬২টি জেলায় প্রায় ১৬ থেকে ১৭ হাজার সেনাসদস্য সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। যদিও ইতোমধ্যে অনেক সৈনিককে মাঠপর্যায়ের দায়িত্ব থেকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে, তবে সম্পূর্ণ প্রত্যাহার এখনো শেষ হয়নি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, খুব শিগগিরই পরিস্থিতি বিবেচনা করে সব সেনাসদস্যকে ব্যারাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
তবে ব্যারাকে ফেরার পরও দেশের যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে বা সরকারের নির্দেশে বিভিন্ন ফিউল ডিপোসহ কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর সুরক্ষায় এবং অন্যান্য বিশেষ কাজে সেনাবাহিনী সরকারকে সময় সময় সব ধরনের সহায়তা দিয়ে যাবে।
সেনাবাহিনীর মূল পেশাগত দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, সেনাবাহিনীর প্রধান কাজ হলো সেনানিবাসে ফিরে গিয়ে নিয়মিত কঠোর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদের যুদ্ধের জন্য সদা প্রস্তুত রাখা।
নিজস্ব পদ্ধতি ও নিয়মের মধ্য দিয়ে এই প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমগুলো এখন আস্তে আস্তে পুরোদমে শুরু করতে হবে। দীর্ঘ সময় মাঠপর্যায়ে থাকার কারণে এতদিন সেনাবাহিনীর নিয়মিত ফায়ারিং অনুশীলন ও প্রশিক্ষণ কিছুটা ব্যাহত হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফায়ারিং প্রতিটি সৈনিকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি যোগ্যতা।
আজকের এই প্রতিযোগিতার ফলাফল এবং সৈনিকদের অসাধারণ দক্ষতা দেখে তিনি অত্যন্ত আশান্বিত হয়েছেন যে, দীর্ঘদিন মাঠের প্রতিকূল দায়িত্বে নিয়োজিত থাকার পরেও সেনাবাহিনীর ফায়ারিং সক্ষমতা বিন্দুমাত্র কমেনি, যা একটি অত্যন্ত ইতিবাচক লক্ষণ।
সেনাবাহিনীকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রাখা এবং অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, ব্যারাকে ফিরে আসার পাশাপাশি এখন থেকে সেনাবাহিনীর নিয়মিত সব ট্রেনিং ও ইভেন্টগুলো পর্যায়ক্রমে শুরু করা হচ্ছে।
বক্তব্য শেষে সেনাপ্রধান প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ও রানারআপ দলের চৌকস সদস্যদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার ও ট্রফি তুলে দেন। অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেসিও এবং অন্যান্য পদবির সেনাসদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


























