গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেবে সরকার: তথ্যমন্ত্রী
- আপডেট সময় ০৬:৩৮:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬
- / 82
গণমাধ্যম খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও একটি টেকসই কাঠামো নিশ্চিত করতে গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য ‘মিডিয়া কমিশন’ গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। মন্ত্রী জানান, এই প্রক্রিয়ার প্রাথমিক ধাপ হিসেবে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বয়ে একটি পরামর্শ কমিটি গঠন করা হবে, যাদের সুপারিশের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী সময়ে পূর্ণাঙ্গ কমিশন যাত্রা শুরু করবে।
রোববার (৩ মে) রাজধানীর চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর মিলনায়তনে ‘জবাবদিহির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার প্রধান সহযোগী স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম’ শীর্ষক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য দেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমের জন্য একটি সুস্থ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রয়োজন, তবে সেটি কোনোভাবেই খবরদারি নয় বরং সহায়ক ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে। এ প্রসঙ্গে তিনি উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন স্বাধীন নিয়ন্ত্রণ সংস্থার উদাহরণ টেনে বলেন, সরকারের ভূমিকা হওয়া উচিত একজন সহায়কের, নিয়ন্ত্রকের নয়। আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষা করা সরকারের লক্ষ্য।
আলোচনা সভায় বর্তমান সংবাদপত্রের প্রচার সংখ্যা ও টেলিভিশনের দর্শকপ্রিয়তা (টিআরপি) পরিমাপের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, সঠিক তথ্য-উপাত্ত ছাড়া কোনো দাবিই প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে না। কোটি কোটি দর্শকের দেশে মাত্র কয়েকশ ডিভাইসের মাধ্যমে টিআরপি নির্ধারণ বাস্তবসম্মত নয় বলে তিনি মনে করেন। একই সঙ্গে সংবাদপত্রের সার্কুলেশন বা প্রচার সংখ্যা নিয়েও স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের জন্য নির্ভরযোগ্য ডেটা বা তথ্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এস এম শামীম রেজা মুক্ত সাংবাদিকতার পথে বিদ্যমান রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন। তিনি অপতথ্য মোকাবিলায় নাগরিকদের ডিজিটাল সাক্ষরতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন। এ সময় সম্পাদক ও সাংবাদিক নেতারা গণমাধ্যম শিল্পের সংস্কার, ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন এবং অপসাংবাদিকতা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। বক্তারা বলেন, শক্তিশালী ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া হলেও রাষ্ট্রকে এ বিষয়ে সংবেদনশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আব্দুল হাকিম জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সাংবাদিকতার প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি সাংবাদিকদের তালিকাভুক্তি ও নিবন্ধনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে বলেন, কেবল আইন করলেই হবে না, সেটির সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা জরুরি। মুক্ত গণমাধ্যম ও দায়বদ্ধতার ভারসাম্য রক্ষা করে একটি আধুনিক সংবাদ কাঠামো গড়ে তোলার ওপর সভায় বক্তারা ঐকমত্য পোষণ করেন।























