ঢাকা ০৯:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
ফুয়েল কার্ড চাইতেই মুহূর্তেই ফাঁকা ফিলিং স্টেশন

ফুয়েল কার্ড চাইতেই মুহূর্তেই ফাঁকা আধা কিলোমিটার মোটরসাইকেলের লাইন!

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৪৮:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
  • / 173

ছবি: সংগৃহীত

পঞ্চগড়ের বোদায় জ্বালানি তেলের বাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে উপজেলা প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপে এক চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে সুবহানাকা ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা প্রায় আধা কিলোমিটার দীর্ঘ মোটরসাইকেলের লাইন মুহূর্তের মধ্যেই উধাও হয়ে যায়, যখন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিজে উপস্থিত হয়ে ‘ফুয়েল কার্ড’ যাচাই শুরু করেন।

জ্বালানি সংকট ও অব্যবস্থাপনা রোধে জেলা প্রশাসনের পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, বৈধ কাগজপত্র ও ফুয়েল কার্ড ছাড়া তেল দেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শনিবার সকাল ৮টায় বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রবিউল ইসলাম সুবহানাকা ফিলিং স্টেশনে তদারকিতে নামলে দেখা যায়, লাইনে দাঁড়ানো অধিকাংশ চালকের কাছেই প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র নেই। কার্ড যাচাই শুরু হতেই তারা দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।

আরও পড়ুন  রংপুরে লাইসেন্স ও হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেলে মিলবে না তেল

এই পদক্ষেপে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সাধারণ গ্রাহকরা। মাড়েয়া এলাকার ৬৫ বছর বয়সী মিজানুর রহমান জানান:
“আগে তেল নেওয়া যুদ্ধের মতো ছিল। লাইসেন্সবিহীন গাড়িগুলো নিয়ম ভেঙে আগে তেল নিয়ে যেত। আজ প্রশাসনের কারণে কোনো ভিড় ছাড়াই তেল নিতে পেরেছি।”

কলেজ শিক্ষক আহসান হাবিব এবং চাকরিজীবী জাহাঙ্গীর আলমও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ফুয়েল কার্ডের মাধ্যমে তেল বণ্টন ব্যবস্থা চালু হওয়ায় প্রকৃত গ্রাহকরা হয়রানিমুক্ত সেবা পাচ্ছেন।

উপজেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, এখন থেকে নিম্নোক্ত শর্তগুলো মেনে তেল সংগ্রহ করতে হবে:
প্রয়োজনীয় নথিপত্র: ড্রাইভিং লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন, ট্যাক্স টোকেন এবং হেলমেট থাকা বাধ্যতামূলক।
সময়সূচি: মোটরসাইকেলের জন্য প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তেল সরবরাহ করা হবে।
ফুয়েল কার্ড সংগ্রহ: আবেদনকারীদের উপজেলা বা জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইট অথবা ফেসবুক পেজ থেকে ফরম ডাউনলোড করে প্রিন্ট নিতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট ইউএনও (পৌরসভার ক্ষেত্রে বিআরটিএ ইন্সপেক্টর) থেকে স্বাক্ষর করিয়ে নিতে হবে।
নিষেধাজ্ঞা: প্লাস্টিক বোতল, ড্রাম বা অন্য কোনো পাত্রে তেল নেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। খোলা বাজারে বা অননুমোদিত ডিলার পয়েন্টে জ্বালানি তেল বিক্রি করলে নেওয়া হবে আইনি ব্যবস্থা।
ইউএনও মো. রবিউল ইসলাম জানান, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী এই তদারকি নিয়মিত চলবে এবং অবৈধভাবে তেল মজুদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ফুয়েল কার্ড চাইতেই মুহূর্তেই ফাঁকা ফিলিং স্টেশন

ফুয়েল কার্ড চাইতেই মুহূর্তেই ফাঁকা আধা কিলোমিটার মোটরসাইকেলের লাইন!

আপডেট সময় ১১:৪৮:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

পঞ্চগড়ের বোদায় জ্বালানি তেলের বাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে উপজেলা প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপে এক চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে সুবহানাকা ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা প্রায় আধা কিলোমিটার দীর্ঘ মোটরসাইকেলের লাইন মুহূর্তের মধ্যেই উধাও হয়ে যায়, যখন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিজে উপস্থিত হয়ে ‘ফুয়েল কার্ড’ যাচাই শুরু করেন।

জ্বালানি সংকট ও অব্যবস্থাপনা রোধে জেলা প্রশাসনের পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, বৈধ কাগজপত্র ও ফুয়েল কার্ড ছাড়া তেল দেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শনিবার সকাল ৮টায় বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রবিউল ইসলাম সুবহানাকা ফিলিং স্টেশনে তদারকিতে নামলে দেখা যায়, লাইনে দাঁড়ানো অধিকাংশ চালকের কাছেই প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র নেই। কার্ড যাচাই শুরু হতেই তারা দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।

আরও পড়ুন  আটকের পর যা বললেন গুলিতে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক হান্নান

এই পদক্ষেপে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সাধারণ গ্রাহকরা। মাড়েয়া এলাকার ৬৫ বছর বয়সী মিজানুর রহমান জানান:
“আগে তেল নেওয়া যুদ্ধের মতো ছিল। লাইসেন্সবিহীন গাড়িগুলো নিয়ম ভেঙে আগে তেল নিয়ে যেত। আজ প্রশাসনের কারণে কোনো ভিড় ছাড়াই তেল নিতে পেরেছি।”

কলেজ শিক্ষক আহসান হাবিব এবং চাকরিজীবী জাহাঙ্গীর আলমও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ফুয়েল কার্ডের মাধ্যমে তেল বণ্টন ব্যবস্থা চালু হওয়ায় প্রকৃত গ্রাহকরা হয়রানিমুক্ত সেবা পাচ্ছেন।

উপজেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, এখন থেকে নিম্নোক্ত শর্তগুলো মেনে তেল সংগ্রহ করতে হবে:
প্রয়োজনীয় নথিপত্র: ড্রাইভিং লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন, ট্যাক্স টোকেন এবং হেলমেট থাকা বাধ্যতামূলক।
সময়সূচি: মোটরসাইকেলের জন্য প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তেল সরবরাহ করা হবে।
ফুয়েল কার্ড সংগ্রহ: আবেদনকারীদের উপজেলা বা জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইট অথবা ফেসবুক পেজ থেকে ফরম ডাউনলোড করে প্রিন্ট নিতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট ইউএনও (পৌরসভার ক্ষেত্রে বিআরটিএ ইন্সপেক্টর) থেকে স্বাক্ষর করিয়ে নিতে হবে।
নিষেধাজ্ঞা: প্লাস্টিক বোতল, ড্রাম বা অন্য কোনো পাত্রে তেল নেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। খোলা বাজারে বা অননুমোদিত ডিলার পয়েন্টে জ্বালানি তেল বিক্রি করলে নেওয়া হবে আইনি ব্যবস্থা।
ইউএনও মো. রবিউল ইসলাম জানান, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী এই তদারকি নিয়মিত চলবে এবং অবৈধভাবে তেল মজুদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।