নিরাপত্তার শঙ্কায় হেলমেট পরে পরীক্ষার হলে জবি শিক্ষার্থীরা
- আপডেট সময় ০৫:৫৮:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
- / 18
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) একাডেমিক ভবনের ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে দুই শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনায় চরম নিরাপত্তা সংকটে ভুগছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। জরাজীর্ণ ভবনের নিচে বসে ক্লাস ও পরীক্ষা দিতে গিয়ে প্রাণের ঝুঁকিতে থাকা গণিত বিভাগের শিক্ষার্থীরা বুধবার (১ এপ্রিল) মাথায় হেলমেট পরে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এক অভিনব প্রতিবাদ জানান।
বুধবার সকালে গণিত বিভাগের একটি সেমিনার কক্ষে ক্লাস চলাকালে হঠাৎ ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে। এতে ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের দুই শিক্ষার্থী— তানভীর নিয়াজ ফাহিম ও মাহফুজুর রহমান মিতুল গুরুতর আহত হন। এই ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা দ্রুত নিরাপদ শ্রেণিকক্ষের দাবি জানান।
আহতদের সহপাঠীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক একাডেমিক ভবন দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এর আগেও গণিত বিভাগের শিক্ষক কক্ষের ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনা ঘটেছিল। ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নাঈম বলেন, “কখন কার মাথায় ছাদ ভেঙে পড়বে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নিয়ে ক্লাস-পরীক্ষা চালু রাখায় আমরা বাধ্য হয়ে হেলমেট পরে এসেছি।”
আরেক শিক্ষার্থী নয়ন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের ছোট ভাইরা আহত হওয়ার পরও প্রশাসন নির্বিকার। এমন মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে ক্লাসে বসা অসম্ভব, তাই আত্মরক্ষার জন্য এই ব্যবস্থা নিতে হয়েছে।”
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) নেতারা প্রশাসনের চরম অবহেলার সমালোচনা করেছেন। তারা অভিযোগ করেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বিষয়ে বারবার অবগত করা হলেও প্রশাসন উদাসীনতা দেখাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা দ্রুত কেরানীগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রকল্প বাস্তবায়নের জোর দাবি জানিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন পাটোয়ারী জানান, ফলস সিলিং থাকার কারণে মূল ছাদের ফাটল আগে চোখে পড়েনি। বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে এবং বিজ্ঞান ভবনের সংস্কারের নকশা ও ব্যয়ের হিসাব প্রস্তুত করা হয়েছে। বড় ধরনের সংস্কার কাজের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের প্রক্রিয়াও চলছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।











