ঢাকা ০৫:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :

একসঙ্গে ৯ কবর খুঁড়লাম, হাত কাঁপছিল এবং খুব কষ্ট লাগছিল

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:৩৫:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
  • / 150

ছবি: সংগৃহীত

বাগেরহাটের মোংলা পৌর কবরস্থানের এক কোণে পাশাপাশি খোঁড়া হয়েছে ৯টি কবর। হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, এই কবরগুলোতে শায়িত হবেন একই পরিবারের ৯ সদস্য।

বাগেরহাটের রামপালে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক ও তার পরিবারের সদস্যদের দাফনের জন্য এসব কবর প্রস্তুত করা হয়েছে। শুক্রবার জুমার নামাজের পর জানাজা শেষে খোঁড়া কবরগুলোতে তাদের দাফনের প্রস্তুতি চলছে।

মোংলা কবরস্থানের খাদেম ও গোরখোদক মুজিবুর ফকির বলেন, ১৭ বছর ধরে কবরস্থানের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। কিন্তু কখনও একসঙ্গে একই পরিবারের এত সদস্যের জন্য কবর খুঁড়তে হয়নি। পাশাপাশি ৯টি কবর খুঁড়তে গিয়ে তার হাত কাঁপছিল এবং খুব কষ্ট লাগছিল।

আরও পড়ুন  জনসম্মুখে প্রথমবার বক্তব্য রাখলেন জাইমা রহমান

তিনি আরও জানান, পরিবারের সম্মতিতেই একই জায়গায় পাশাপাশি কবরগুলো খোঁড়া হয়েছে, যাতে স্বজনরা একই স্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত থাকতে পারেন।

শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিহতদের মরদেহ মোংলার শেওলাবুনিয়ায় পৌঁছালে পুরো এলাকা শোকে স্তব্ধ হয়ে যায়। শত শত মানুষ শেষবারের মতো তাদের দেখতে ছুটে আসেন। চারদিকে তখন কান্না আর শোকের মাতম।

আব্দুর রাজ্জাকের বাড়ির ভেতরে রাখা হয়েছে পরিবারের নিহত চার নারীর মরদেহ। আর উপজেলা পরিষদ চত্বরে রাখা হয়েছে বাকি পাঁচজনের মরদেহ। আশপাশের ৯টি মসজিদ থেকে আনা হয়েছে ৯টি খাটিয়া। গোসল শেষে একে একে রাখা হয়েছে স্বজনদের নিথর দেহ।

নিহত আব্দুর রাজ্জাকের ছোট ভাই সাজ্জাদ সরদার বলেন, রাজ্জাক ভাই ছেলের বিয়ে দিয়ে নতুন বউ ঘরে তুলবেন—এই আনন্দে সবাই ছিলাম। কিন্তু সেই বিয়ের আনন্দই আজ পুরো পরিবারকে শেষ করে দিল।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর মোংলা উপজেলা পরিষদ চত্বরে জানাজা শেষে আব্দুর রাজ্জাক ও তার পরিবারের ৯ সদস্যকে মোংলা পৌর কবরস্থানে পাশাপাশি খোঁড়া ওই ৯টি কবরে দাফন করা হবে।

উল্লেখ্য, গত বুধবার রাতে খুলনার কয়রা উপজেলার নাকসা গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সালাম মোড়লের মেয়ে মার্জিয়া আক্তারের সঙ্গে বিয়ে হয় মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের ছোট ছেলে আহাদুর রহমানের। বিয়ের পর বর-কনেসহ দুই পরিবারের সদস্যরা একটি মাইক্রোবাসে ফিরছিলেন। পথে রামপাল উপজেলার বেলাইবিজ এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসের চালকসহ ১৪ জন নিহত হন।

নিউজটি শেয়ার করুন

একসঙ্গে ৯ কবর খুঁড়লাম, হাত কাঁপছিল এবং খুব কষ্ট লাগছিল

আপডেট সময় ০৪:৩৫:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

বাগেরহাটের মোংলা পৌর কবরস্থানের এক কোণে পাশাপাশি খোঁড়া হয়েছে ৯টি কবর। হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, এই কবরগুলোতে শায়িত হবেন একই পরিবারের ৯ সদস্য।

বাগেরহাটের রামপালে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক ও তার পরিবারের সদস্যদের দাফনের জন্য এসব কবর প্রস্তুত করা হয়েছে। শুক্রবার জুমার নামাজের পর জানাজা শেষে খোঁড়া কবরগুলোতে তাদের দাফনের প্রস্তুতি চলছে।

মোংলা কবরস্থানের খাদেম ও গোরখোদক মুজিবুর ফকির বলেন, ১৭ বছর ধরে কবরস্থানের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। কিন্তু কখনও একসঙ্গে একই পরিবারের এত সদস্যের জন্য কবর খুঁড়তে হয়নি। পাশাপাশি ৯টি কবর খুঁড়তে গিয়ে তার হাত কাঁপছিল এবং খুব কষ্ট লাগছিল।

আরও পড়ুন  বেদনায় একেবারে নীল হয়ে গেছি : মির্জা ফখরুল

তিনি আরও জানান, পরিবারের সম্মতিতেই একই জায়গায় পাশাপাশি কবরগুলো খোঁড়া হয়েছে, যাতে স্বজনরা একই স্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত থাকতে পারেন।

শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিহতদের মরদেহ মোংলার শেওলাবুনিয়ায় পৌঁছালে পুরো এলাকা শোকে স্তব্ধ হয়ে যায়। শত শত মানুষ শেষবারের মতো তাদের দেখতে ছুটে আসেন। চারদিকে তখন কান্না আর শোকের মাতম।

আব্দুর রাজ্জাকের বাড়ির ভেতরে রাখা হয়েছে পরিবারের নিহত চার নারীর মরদেহ। আর উপজেলা পরিষদ চত্বরে রাখা হয়েছে বাকি পাঁচজনের মরদেহ। আশপাশের ৯টি মসজিদ থেকে আনা হয়েছে ৯টি খাটিয়া। গোসল শেষে একে একে রাখা হয়েছে স্বজনদের নিথর দেহ।

নিহত আব্দুর রাজ্জাকের ছোট ভাই সাজ্জাদ সরদার বলেন, রাজ্জাক ভাই ছেলের বিয়ে দিয়ে নতুন বউ ঘরে তুলবেন—এই আনন্দে সবাই ছিলাম। কিন্তু সেই বিয়ের আনন্দই আজ পুরো পরিবারকে শেষ করে দিল।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর মোংলা উপজেলা পরিষদ চত্বরে জানাজা শেষে আব্দুর রাজ্জাক ও তার পরিবারের ৯ সদস্যকে মোংলা পৌর কবরস্থানে পাশাপাশি খোঁড়া ওই ৯টি কবরে দাফন করা হবে।

উল্লেখ্য, গত বুধবার রাতে খুলনার কয়রা উপজেলার নাকসা গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সালাম মোড়লের মেয়ে মার্জিয়া আক্তারের সঙ্গে বিয়ে হয় মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের ছোট ছেলে আহাদুর রহমানের। বিয়ের পর বর-কনেসহ দুই পরিবারের সদস্যরা একটি মাইক্রোবাসে ফিরছিলেন। পথে রামপাল উপজেলার বেলাইবিজ এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসের চালকসহ ১৪ জন নিহত হন।