ঢাকা ০৪:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :
ছাত্রদলের পুস্তিকা ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধন করলেন রিজভী সাংবাদিকের লেখায় যেন কারও জীবন, ক্যারিয়ার ও মানসম্মান ক্ষতিগ্রস্ত না হয়: তথ্যমন্ত্রী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নতি হবে দুই সপ্তাহের মধ্যে: প্রতিমন্ত্রী অমিত জন্মের ১০০ বছরে উত্তম কুমার, দুই বাংলার দর্শকের ভালোবাসায় অমর মহানায়ক বিশ্ব ইজতেমা দুই পর্বে হবে, তারিখ ঘোষণা ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর সন্ধ্যার মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ো হাওয়া, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত শেখ হাসিনাসহ ৩০ জনকে আত্মসমর্পণে বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ তাবলিগ জামাতের মাওলানা এহসানুল হক আর নেই বৃষ্টির ফোঁটা থেকেই বিদ্যুৎ! নতুন সম্ভাবনা দেখছেন গবেষকরা

ঝালকাঠিতে বাড়ছে তিল চাষ, কৃষকের মুখে হাসি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:২৩:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ মে ২০২৫
  • / 564

ছবি সংগৃহীত

 

ঝামেলা কম, খরচও তুলনামূলকভাবে কম এই সুবিধা কাজে লাগিয়ে ঝালকাঠিতে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে তিল চাষ। তেমন পরিচর্যার প্রয়োজন না হওয়া, রোগবালাই কম হওয়া এবং বাজারে ভালো দাম থাকায় কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে এই তেলবীজ ফসলে। অন্যান্য ফসলের তুলনায় তিনগুণ লাভজনক হওয়ায় অনেক কৃষক এখন তিল চাষকে দেখছেন ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ হিসেবে।

জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে ঝালকাঠি জেলায় ৩৯২ হেক্টর জমিতে তিলের আবাদ হয়েছিল। চলতি বছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯৬ হেক্টর। জেলার চারটি উপজেলাতেই তিল চাষ হচ্ছে, এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি হয়েছে কাঠালিয়ায় ১৬৫ হেক্টর জমিতে। এছাড়া রাজাপুরে ১১০ হেক্টর, ঝালকাঠি সদরে ৮৬ হেক্টর এবং নলছিটিতে ৩৫ হেক্টর জমিতে তিল চাষ হয়েছে।

আরও পড়ুন  লক্ষ্মীপুরে সয়াবিনের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা, কৃষকদের মুখে হাসি

কৃষক সালাম, আবু বকর, মাসুম ও জলিল সিকদার জানান, তারা স্থানীয় জাত ছাড়াও বারি তিল-২, বারি তিল-৪ এবং বিনা তিল-৩ চাষ করছেন এবং ভালো ফলন পাচ্ছেন। তারা বলেন, “বীজ বপনের মাত্র তিন মাসের মধ্যেই ফসল তোলা যায়। অন্যান্য ফসলের মতো বেশি পরিচর্যার ঝামেলা নেই। রোগবালাই কম হওয়ায় কীটনাশকও তেমন ব্যবহার করতে হয় না। এমনকি রাসায়নিক সারও প্রয়োজন হয় না।”

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, তিল চাষকে আরও ফলনশীল করতে প্রদর্শনী প্লট, প্রশিক্ষণ ও কৃষি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে নিয়মিত। কৃষকদের আগ্রহ বাড়ায় ভবিষ্যতে তিল চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।

ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “চলতি মৌসুমে জেলায় ৩৯৬ হেক্টর জমিতে তিলের আবাদ হয়েছে। সারাদেশে যদি এই চাষ আরও বাড়ানো যায়, তাহলে অভ্যন্তরীণভাবে ভোজ্যতেলের ঘাটতি অনেকাংশে পূরণ করা সম্ভব হবে বলে আমরা মনে করছি।”

কম খরচ, কম পরিচর্যা আর ভালো বাজারমূল্য এই তিনের সমন্বয়ে ঝালকাঠির কৃষকদের নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে তিল চাষ। আগামী দিনে এই তেলবীজ ফসল দেশের কৃষি অর্থনীতিতেও বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলেই আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ঝালকাঠিতে বাড়ছে তিল চাষ, কৃষকের মুখে হাসি

আপডেট সময় ০৫:২৩:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ মে ২০২৫

 

ঝামেলা কম, খরচও তুলনামূলকভাবে কম এই সুবিধা কাজে লাগিয়ে ঝালকাঠিতে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে তিল চাষ। তেমন পরিচর্যার প্রয়োজন না হওয়া, রোগবালাই কম হওয়া এবং বাজারে ভালো দাম থাকায় কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে এই তেলবীজ ফসলে। অন্যান্য ফসলের তুলনায় তিনগুণ লাভজনক হওয়ায় অনেক কৃষক এখন তিল চাষকে দেখছেন ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ হিসেবে।

জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে ঝালকাঠি জেলায় ৩৯২ হেক্টর জমিতে তিলের আবাদ হয়েছিল। চলতি বছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯৬ হেক্টর। জেলার চারটি উপজেলাতেই তিল চাষ হচ্ছে, এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি হয়েছে কাঠালিয়ায় ১৬৫ হেক্টর জমিতে। এছাড়া রাজাপুরে ১১০ হেক্টর, ঝালকাঠি সদরে ৮৬ হেক্টর এবং নলছিটিতে ৩৫ হেক্টর জমিতে তিল চাষ হয়েছে।

আরও পড়ুন  ঝালকাঠির বিলাতি গাবের সুবাস ছড়াচ্ছে দেশের প্রান্তে প্রান্তে, বাড়ছে দেশজুড়ে চাহিদা

কৃষক সালাম, আবু বকর, মাসুম ও জলিল সিকদার জানান, তারা স্থানীয় জাত ছাড়াও বারি তিল-২, বারি তিল-৪ এবং বিনা তিল-৩ চাষ করছেন এবং ভালো ফলন পাচ্ছেন। তারা বলেন, “বীজ বপনের মাত্র তিন মাসের মধ্যেই ফসল তোলা যায়। অন্যান্য ফসলের মতো বেশি পরিচর্যার ঝামেলা নেই। রোগবালাই কম হওয়ায় কীটনাশকও তেমন ব্যবহার করতে হয় না। এমনকি রাসায়নিক সারও প্রয়োজন হয় না।”

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, তিল চাষকে আরও ফলনশীল করতে প্রদর্শনী প্লট, প্রশিক্ষণ ও কৃষি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে নিয়মিত। কৃষকদের আগ্রহ বাড়ায় ভবিষ্যতে তিল চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।

ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “চলতি মৌসুমে জেলায় ৩৯৬ হেক্টর জমিতে তিলের আবাদ হয়েছে। সারাদেশে যদি এই চাষ আরও বাড়ানো যায়, তাহলে অভ্যন্তরীণভাবে ভোজ্যতেলের ঘাটতি অনেকাংশে পূরণ করা সম্ভব হবে বলে আমরা মনে করছি।”

কম খরচ, কম পরিচর্যা আর ভালো বাজারমূল্য এই তিনের সমন্বয়ে ঝালকাঠির কৃষকদের নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে তিল চাষ। আগামী দিনে এই তেলবীজ ফসল দেশের কৃষি অর্থনীতিতেও বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলেই আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।