ঢাকা ০২:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম :
ইশরাকের পদত্যাগের খবর ভিত্তিহীন, দাবি প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরের বক্স অফিসে ‘জেলার ২’-এর ঝড় আগারগাঁওয়ে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন ফিলিস্তিনিদের জলপাই চুরির পক্ষে ইসরাইলি রাব্বির ফতোয়া ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের সুদিন ফেরাতে আর্থিক সহায়তার জোরালো দাবি স্যামির আইয়ুব বাচ্চুর প্রয়াণ দিবসে তাঁকে উৎসর্গ করে কন্সট্যান্টের ‘শেষ বিকেল’ সাজেক ফেরার পথে চাঁদের গাড়ি উল্টে দুর্ঘটনা, আহত ৭ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মুম্বাইয়ে তলব করলেন রুবিও, চরম বিতর্কে মোদি সরকার ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আখলাকিকে নিয়োগ দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, সৌদি রাষ্ট্রদূতকে তলব

ঝালকাঠিতে বাড়ছে তিল চাষ, কৃষকের মুখে হাসি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:২৩:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ মে ২০২৫
  • / 626

ছবি সংগৃহীত

 

ঝামেলা কম, খরচও তুলনামূলকভাবে কম এই সুবিধা কাজে লাগিয়ে ঝালকাঠিতে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে তিল চাষ। তেমন পরিচর্যার প্রয়োজন না হওয়া, রোগবালাই কম হওয়া এবং বাজারে ভালো দাম থাকায় কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে এই তেলবীজ ফসলে। অন্যান্য ফসলের তুলনায় তিনগুণ লাভজনক হওয়ায় অনেক কৃষক এখন তিল চাষকে দেখছেন ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ হিসেবে।

জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে ঝালকাঠি জেলায় ৩৯২ হেক্টর জমিতে তিলের আবাদ হয়েছিল। চলতি বছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯৬ হেক্টর। জেলার চারটি উপজেলাতেই তিল চাষ হচ্ছে, এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি হয়েছে কাঠালিয়ায় ১৬৫ হেক্টর জমিতে। এছাড়া রাজাপুরে ১১০ হেক্টর, ঝালকাঠি সদরে ৮৬ হেক্টর এবং নলছিটিতে ৩৫ হেক্টর জমিতে তিল চাষ হয়েছে।

আরও পড়ুন  ঝালকাঠির পতিত জমিতে তুলা চাষে সাফল্য, গাবখান অঞ্চলে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার

কৃষক সালাম, আবু বকর, মাসুম ও জলিল সিকদার জানান, তারা স্থানীয় জাত ছাড়াও বারি তিল-২, বারি তিল-৪ এবং বিনা তিল-৩ চাষ করছেন এবং ভালো ফলন পাচ্ছেন। তারা বলেন, “বীজ বপনের মাত্র তিন মাসের মধ্যেই ফসল তোলা যায়। অন্যান্য ফসলের মতো বেশি পরিচর্যার ঝামেলা নেই। রোগবালাই কম হওয়ায় কীটনাশকও তেমন ব্যবহার করতে হয় না। এমনকি রাসায়নিক সারও প্রয়োজন হয় না।”

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, তিল চাষকে আরও ফলনশীল করতে প্রদর্শনী প্লট, প্রশিক্ষণ ও কৃষি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে নিয়মিত। কৃষকদের আগ্রহ বাড়ায় ভবিষ্যতে তিল চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।

ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “চলতি মৌসুমে জেলায় ৩৯৬ হেক্টর জমিতে তিলের আবাদ হয়েছে। সারাদেশে যদি এই চাষ আরও বাড়ানো যায়, তাহলে অভ্যন্তরীণভাবে ভোজ্যতেলের ঘাটতি অনেকাংশে পূরণ করা সম্ভব হবে বলে আমরা মনে করছি।”

কম খরচ, কম পরিচর্যা আর ভালো বাজারমূল্য এই তিনের সমন্বয়ে ঝালকাঠির কৃষকদের নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে তিল চাষ। আগামী দিনে এই তেলবীজ ফসল দেশের কৃষি অর্থনীতিতেও বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলেই আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ঝালকাঠিতে বাড়ছে তিল চাষ, কৃষকের মুখে হাসি

আপডেট সময় ০৫:২৩:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ মে ২০২৫

 

ঝামেলা কম, খরচও তুলনামূলকভাবে কম এই সুবিধা কাজে লাগিয়ে ঝালকাঠিতে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে তিল চাষ। তেমন পরিচর্যার প্রয়োজন না হওয়া, রোগবালাই কম হওয়া এবং বাজারে ভালো দাম থাকায় কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে এই তেলবীজ ফসলে। অন্যান্য ফসলের তুলনায় তিনগুণ লাভজনক হওয়ায় অনেক কৃষক এখন তিল চাষকে দেখছেন ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ হিসেবে।

জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে ঝালকাঠি জেলায় ৩৯২ হেক্টর জমিতে তিলের আবাদ হয়েছিল। চলতি বছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯৬ হেক্টর। জেলার চারটি উপজেলাতেই তিল চাষ হচ্ছে, এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি হয়েছে কাঠালিয়ায় ১৬৫ হেক্টর জমিতে। এছাড়া রাজাপুরে ১১০ হেক্টর, ঝালকাঠি সদরে ৮৬ হেক্টর এবং নলছিটিতে ৩৫ হেক্টর জমিতে তিল চাষ হয়েছে।

আরও পড়ুন  সুনামগঞ্জ হাওরে ধান কাটা-মাড়াইয়ে জোর তৎপরতা, কৃষকের মুখে হাসি

কৃষক সালাম, আবু বকর, মাসুম ও জলিল সিকদার জানান, তারা স্থানীয় জাত ছাড়াও বারি তিল-২, বারি তিল-৪ এবং বিনা তিল-৩ চাষ করছেন এবং ভালো ফলন পাচ্ছেন। তারা বলেন, “বীজ বপনের মাত্র তিন মাসের মধ্যেই ফসল তোলা যায়। অন্যান্য ফসলের মতো বেশি পরিচর্যার ঝামেলা নেই। রোগবালাই কম হওয়ায় কীটনাশকও তেমন ব্যবহার করতে হয় না। এমনকি রাসায়নিক সারও প্রয়োজন হয় না।”

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, তিল চাষকে আরও ফলনশীল করতে প্রদর্শনী প্লট, প্রশিক্ষণ ও কৃষি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে নিয়মিত। কৃষকদের আগ্রহ বাড়ায় ভবিষ্যতে তিল চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।

ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “চলতি মৌসুমে জেলায় ৩৯৬ হেক্টর জমিতে তিলের আবাদ হয়েছে। সারাদেশে যদি এই চাষ আরও বাড়ানো যায়, তাহলে অভ্যন্তরীণভাবে ভোজ্যতেলের ঘাটতি অনেকাংশে পূরণ করা সম্ভব হবে বলে আমরা মনে করছি।”

কম খরচ, কম পরিচর্যা আর ভালো বাজারমূল্য এই তিনের সমন্বয়ে ঝালকাঠির কৃষকদের নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে তিল চাষ। আগামী দিনে এই তেলবীজ ফসল দেশের কৃষি অর্থনীতিতেও বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলেই আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।