ঢাকা ০৩:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :
ছাত্রদলের পুস্তিকা ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধন করলেন রিজভী সাংবাদিকের লেখায় যেন কারও জীবন, ক্যারিয়ার ও মানসম্মান ক্ষতিগ্রস্ত না হয়: তথ্যমন্ত্রী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নতি হবে দুই সপ্তাহের মধ্যে: প্রতিমন্ত্রী অমিত জন্মের ১০০ বছরে উত্তম কুমার, দুই বাংলার দর্শকের ভালোবাসায় অমর মহানায়ক বিশ্ব ইজতেমা দুই পর্বে হবে, তারিখ ঘোষণা ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর সন্ধ্যার মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ো হাওয়া, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত শেখ হাসিনাসহ ৩০ জনকে আত্মসমর্পণে বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ তাবলিগ জামাতের মাওলানা এহসানুল হক আর নেই বৃষ্টির ফোঁটা থেকেই বিদ্যুৎ! নতুন সম্ভাবনা দেখছেন গবেষকরা

পটুয়াখালীর লবণাক্ত জমিতে সোনালি সম্ভাবনার বোরো ধান

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:৪৫:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল ২০২৫
  • / 572

ছবি সংগৃহীত

 

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লবণাক্ত জমিগুলোতে এখন দোল খাচ্ছে সোনালি বোরো ধানের ক্ষেত। আগে যেখানে বছরের একটি নির্দিষ্ট সময় আমন ধানই ছিল একমাত্র ভরসা, সেই জমিগুলো বছরের বাকি সময় পড়ে থাকত অনাবাদি। কিন্তু এখন বদলে গেছে চিত্র। স্থানীয় কৃষকেরা লবণাক্ত জমিতে লবণ সহিষ্ণু উন্নত জাতের বোরো ধান চাষে সফলতা পেয়েছেন।

এই অঞ্চলের কৃষকদের মতে, আগে তারা শুধুমাত্র বর্ষার মৌসুমে আমন ধান চাষ করতেন। কিন্তু ধীরে ধীরে নদী ও জলাশয়ের নোনা পানির প্রভাবে জমি চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়ছিল। অনেকেই হতাশ হয়ে চাষাবাদ থেকে পিছিয়ে পড়ছিলেন। তবে কৃষি বিভাগের পরামর্শে এবং উন্নত প্রযুক্তির সহায়তায় তারা এখন লবণ সহিষ্ণু জাতের ধান চাষে আগ্রহী হয়েছেন এবং ভালো ফলনও পাচ্ছেন।

আরও পড়ুন  বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ: পটুয়াখালীর ১৭টি অভ্যন্তরীণ রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ

চলতি মৌসুমে কলাপাড়ায় প্রায় ৩৫ হাজার হেক্টর জমিতে লবণ সহিষ্ণু বোরো ধানের চাষ হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় চারগুণ বেশি। কৃষকেরা জানান, যদি সঠিক সময়মতো সেচের পানি পাওয়া যেত, তাহলে উৎপাদন আরও দ্বিগুণ হতো।

কৃষক মুজিবুর রহমান বলেন, “আগে এই জমিতে শুধু আমন ধান হতো। এখন বোরো ধানও হচ্ছে। লাভও ভালো হচ্ছে। তবে পানির সমস্যা না থাকলে ফসল আরও ভালো হতো।”

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কলাপাড়া উপজেলা কর্মকর্তা জানান, “আমরা কৃষকদের উন্নত জাত ও চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। লবণাক্ত জমিতে চাষের জন্য ‘বিনা-৮’, ‘বিআর-২৩’ এর মতো লবণ সহিষ্ণু জাতের ধান সরবরাহ করা হয়েছে। কৃষকেরা এ উদ্যোগে সাড়া দিয়েছেন।”

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ঘুরে দেখা গেছে, বোরো ধানের সবুজ ক্ষেত এখন প্রায় সোনালি রঙ ধারণ করেছে। কৃষকেরা জমিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তারা আশাবাদী, ভালো দাম পেলে এ বছরের পরিশ্রম সফল হবে।

এভাবে কলাপাড়ার লবণাক্ত জমিগুলো এখন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। সময়মতো পানি সরবরাহ ও বাজার ব্যবস্থাপনা ঠিক থাকলে আগামী দিনে এই এলাকা আরও বেশি ধান উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

পটুয়াখালীর লবণাক্ত জমিতে সোনালি সম্ভাবনার বোরো ধান

আপডেট সময় ০৪:৪৫:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল ২০২৫

 

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লবণাক্ত জমিগুলোতে এখন দোল খাচ্ছে সোনালি বোরো ধানের ক্ষেত। আগে যেখানে বছরের একটি নির্দিষ্ট সময় আমন ধানই ছিল একমাত্র ভরসা, সেই জমিগুলো বছরের বাকি সময় পড়ে থাকত অনাবাদি। কিন্তু এখন বদলে গেছে চিত্র। স্থানীয় কৃষকেরা লবণাক্ত জমিতে লবণ সহিষ্ণু উন্নত জাতের বোরো ধান চাষে সফলতা পেয়েছেন।

এই অঞ্চলের কৃষকদের মতে, আগে তারা শুধুমাত্র বর্ষার মৌসুমে আমন ধান চাষ করতেন। কিন্তু ধীরে ধীরে নদী ও জলাশয়ের নোনা পানির প্রভাবে জমি চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়ছিল। অনেকেই হতাশ হয়ে চাষাবাদ থেকে পিছিয়ে পড়ছিলেন। তবে কৃষি বিভাগের পরামর্শে এবং উন্নত প্রযুক্তির সহায়তায় তারা এখন লবণ সহিষ্ণু জাতের ধান চাষে আগ্রহী হয়েছেন এবং ভালো ফলনও পাচ্ছেন।

আরও পড়ুন  পটুয়াখালীতে ৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকার অবৈধ চিংড়ির রেণু জব্দ

চলতি মৌসুমে কলাপাড়ায় প্রায় ৩৫ হাজার হেক্টর জমিতে লবণ সহিষ্ণু বোরো ধানের চাষ হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় চারগুণ বেশি। কৃষকেরা জানান, যদি সঠিক সময়মতো সেচের পানি পাওয়া যেত, তাহলে উৎপাদন আরও দ্বিগুণ হতো।

কৃষক মুজিবুর রহমান বলেন, “আগে এই জমিতে শুধু আমন ধান হতো। এখন বোরো ধানও হচ্ছে। লাভও ভালো হচ্ছে। তবে পানির সমস্যা না থাকলে ফসল আরও ভালো হতো।”

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কলাপাড়া উপজেলা কর্মকর্তা জানান, “আমরা কৃষকদের উন্নত জাত ও চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। লবণাক্ত জমিতে চাষের জন্য ‘বিনা-৮’, ‘বিআর-২৩’ এর মতো লবণ সহিষ্ণু জাতের ধান সরবরাহ করা হয়েছে। কৃষকেরা এ উদ্যোগে সাড়া দিয়েছেন।”

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ঘুরে দেখা গেছে, বোরো ধানের সবুজ ক্ষেত এখন প্রায় সোনালি রঙ ধারণ করেছে। কৃষকেরা জমিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তারা আশাবাদী, ভালো দাম পেলে এ বছরের পরিশ্রম সফল হবে।

এভাবে কলাপাড়ার লবণাক্ত জমিগুলো এখন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। সময়মতো পানি সরবরাহ ও বাজার ব্যবস্থাপনা ঠিক থাকলে আগামী দিনে এই এলাকা আরও বেশি ধান উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করবে।