ঢাকা ১১:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬

সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলেন আইজেনকট

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৩৬:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
  • / 18

ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলে নতুন জোট সরকার গঠনের জন্য বিরোধীদলীয় নেতা গাদি আইজেনকটকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ।

গত সপ্তাহের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কিংবা আইজেনকট, কোনো পক্ষই পার্লামেন্ট নেসেটে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। এ কারণে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা শেষে প্রেসিডেন্ট এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

নতুন সরকার গঠনের জন্য এখন ২৮ দিন সময় পাবেন দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান আইজেনকট। প্রয়োজন হলে এ মেয়াদ আরও ১৪ দিন বাড়ানো হতে পারে।

আরও পড়ুন  জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে সরকার ব্যর্থ, এনসিপি নিজেই ঘোষণা দেবে: নাহিদ ইসলাম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আইজেনকট লেখেন, ‘এখন সময় এসেছে একটি জাতীয় জরুরি সরকার গঠনের। জনগণের বিশ্বাসের প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখে আমি সবটুকু করার চেষ্টা করব।’

ইসরায়েলের রাজনৈতিক ইতিহাসে আজ পর্যন্ত কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ফলে দেশটিতে সব সময়ই জোট সরকার গঠিত হয়ে আসছে।

১২০ আসনের নেসেটে নেতানিয়াহুর ডানপন্থি লিকুদ পার্টি এবং তাঁর অতি-ডানপন্থি ও আল্ট্রা-অর্থোডক্স মিত্ররা পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে আইজেনকটের মধ্যপন্থি ‘ইয়াশার’ পার্টি এবং তাঁর ব্লকের আরও তিনটি বিরোধী দল মিলে পেয়েছে ৪৮টি আসন।

এবারের নির্বাচনে ইউনাইটেড আরব লিস্ট ও জয়েন্ট লিস্ট নামের দুটি আরব জোট একসঙ্গে রেকর্ড ১৯টি আসনে জয়ী হয়েছে। আরব ভোটারদের উপস্থিতির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায় এ ফল এসেছে। এতে আরব দলগুলোর সরকার গঠনের অন্যতম কিংমেকার হয়ে ওঠার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তবে একটি ব্যতিক্রম ছাড়া সব ইহুদি রাজনৈতিক দলই নির্বাচনের আগে আরব দলগুলোর সঙ্গে কোনো সরকার না গড়ার অঙ্গীকার করেছিল।

সপ্তাহজুড়ে সব দলের সঙ্গে আলোচনা শেষে প্রেসিডেন্ট হারজোগ জানান, তিনি সরকার গঠনের প্রথম সুযোগ আইজেনকটকে দিতে যাচ্ছেন। প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, এ সিদ্ধান্তের কথা আইজেনকট ও নেতানিয়াহু উভয়কেই জানানো হয়েছে। বিবৃতি অনুযায়ী, নবনির্বাচিত নেসেট সদস্যদের মধ্যে আইজেনকট ৬৭ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন পেয়েছেন। নেতানিয়াহুর পক্ষে সমর্থন এসেছে ৪৬ জনের।

ইসরায়েলি আইন অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া দলের নেতাকেই সরকার গঠনের জন্য ডাকতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। যিনি জোট গড়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে থাকবেন, তাঁকে বেছে নেওয়ার পূর্ণ এখতিয়ার প্রেসিডেন্টের রয়েছে।

নির্বাচনের ফলাফলের পর সরকার গঠনের তিনটি পথ খোলা আছে। প্রথমত, নেতানিয়াহু ও আইজেনকটের সমন্বয়ে জাতীয় ঐক্যের সরকার। দ্বিতীয়ত, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি জোট, যেখানে আইজেনকট ব্লকের সংসদ সদস্যদের নিজেদের দিকে টেনে আনার প্রয়োজন হতে পারে। তৃতীয়ত, আরব দলগুলোর সমর্থনে আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন সরকার।

আইজেনকট ও তাঁর ব্লকের প্রায় সব সদস্য এত দিন আরব দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আসছিলেন। তবে পর্দার আড়ালে কোনো ধরনের সমঝোতা হতে পারে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। এর বাইরে তিনি আল্ট্রা-অর্থোডক্স দলগুলোর সঙ্গেও চুক্তির চেষ্টা চালাতে পারেন, যদিও সেটি বেশ কঠিন ও জটিল।

ইসরায়েলে ঐক্যের সরকার গঠনের ইতিহাস নতুন নয়। ২০২০ সালে পরপর তিনটি নির্বাচন অচল হয়ে পড়লে নেতানিয়াহু ও তাঁর তৎকালীন প্রতিদ্বন্দ্বী বেনি গ্যান্টস ক্ষমতার হাতবদলের (রোটেশনাল গভর্নমেন্ট) ভিত্তিতে একটি চুক্তি করেছিলেন।

নির্বাচনের পর থেকেই আরেকটি পুনর্নির্বাচন এড়ানো ও একটি স্থিতিশীল সরকার গড়ার ওপর জোর দিয়ে আসছেন প্রেসিডেন্ট হারজোগ। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলাকালে তিনি মন্তব্য করেন, ‘বর্তমান বাস্তবতায় দল ও তাদের প্রতিনিধিদের বুঝতে হবে, সব প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার রক্ষা করা সব সময় সম্ভব হয় না।’

২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে গেছে ইসরায়েল। নেতানিয়াহু ও তাঁর বিরোধীদের মধ্যে সমঝোতার অভাবে সে সময় তিন বছরে পাঁচবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলেন আইজেনকট

আপডেট সময় ১০:৩৬:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

ইসরায়েলে নতুন জোট সরকার গঠনের জন্য বিরোধীদলীয় নেতা গাদি আইজেনকটকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ।

গত সপ্তাহের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কিংবা আইজেনকট, কোনো পক্ষই পার্লামেন্ট নেসেটে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। এ কারণে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা শেষে প্রেসিডেন্ট এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

নতুন সরকার গঠনের জন্য এখন ২৮ দিন সময় পাবেন দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান আইজেনকট। প্রয়োজন হলে এ মেয়াদ আরও ১৪ দিন বাড়ানো হতে পারে।

আরও পড়ুন  জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে সরকার ব্যর্থ, এনসিপি নিজেই ঘোষণা দেবে: নাহিদ ইসলাম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আইজেনকট লেখেন, ‘এখন সময় এসেছে একটি জাতীয় জরুরি সরকার গঠনের। জনগণের বিশ্বাসের প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখে আমি সবটুকু করার চেষ্টা করব।’

ইসরায়েলের রাজনৈতিক ইতিহাসে আজ পর্যন্ত কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ফলে দেশটিতে সব সময়ই জোট সরকার গঠিত হয়ে আসছে।

১২০ আসনের নেসেটে নেতানিয়াহুর ডানপন্থি লিকুদ পার্টি এবং তাঁর অতি-ডানপন্থি ও আল্ট্রা-অর্থোডক্স মিত্ররা পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে আইজেনকটের মধ্যপন্থি ‘ইয়াশার’ পার্টি এবং তাঁর ব্লকের আরও তিনটি বিরোধী দল মিলে পেয়েছে ৪৮টি আসন।

এবারের নির্বাচনে ইউনাইটেড আরব লিস্ট ও জয়েন্ট লিস্ট নামের দুটি আরব জোট একসঙ্গে রেকর্ড ১৯টি আসনে জয়ী হয়েছে। আরব ভোটারদের উপস্থিতির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায় এ ফল এসেছে। এতে আরব দলগুলোর সরকার গঠনের অন্যতম কিংমেকার হয়ে ওঠার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তবে একটি ব্যতিক্রম ছাড়া সব ইহুদি রাজনৈতিক দলই নির্বাচনের আগে আরব দলগুলোর সঙ্গে কোনো সরকার না গড়ার অঙ্গীকার করেছিল।

সপ্তাহজুড়ে সব দলের সঙ্গে আলোচনা শেষে প্রেসিডেন্ট হারজোগ জানান, তিনি সরকার গঠনের প্রথম সুযোগ আইজেনকটকে দিতে যাচ্ছেন। প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, এ সিদ্ধান্তের কথা আইজেনকট ও নেতানিয়াহু উভয়কেই জানানো হয়েছে। বিবৃতি অনুযায়ী, নবনির্বাচিত নেসেট সদস্যদের মধ্যে আইজেনকট ৬৭ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন পেয়েছেন। নেতানিয়াহুর পক্ষে সমর্থন এসেছে ৪৬ জনের।

ইসরায়েলি আইন অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া দলের নেতাকেই সরকার গঠনের জন্য ডাকতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। যিনি জোট গড়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে থাকবেন, তাঁকে বেছে নেওয়ার পূর্ণ এখতিয়ার প্রেসিডেন্টের রয়েছে।

নির্বাচনের ফলাফলের পর সরকার গঠনের তিনটি পথ খোলা আছে। প্রথমত, নেতানিয়াহু ও আইজেনকটের সমন্বয়ে জাতীয় ঐক্যের সরকার। দ্বিতীয়ত, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি জোট, যেখানে আইজেনকট ব্লকের সংসদ সদস্যদের নিজেদের দিকে টেনে আনার প্রয়োজন হতে পারে। তৃতীয়ত, আরব দলগুলোর সমর্থনে আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন সরকার।

আইজেনকট ও তাঁর ব্লকের প্রায় সব সদস্য এত দিন আরব দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আসছিলেন। তবে পর্দার আড়ালে কোনো ধরনের সমঝোতা হতে পারে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। এর বাইরে তিনি আল্ট্রা-অর্থোডক্স দলগুলোর সঙ্গেও চুক্তির চেষ্টা চালাতে পারেন, যদিও সেটি বেশ কঠিন ও জটিল।

ইসরায়েলে ঐক্যের সরকার গঠনের ইতিহাস নতুন নয়। ২০২০ সালে পরপর তিনটি নির্বাচন অচল হয়ে পড়লে নেতানিয়াহু ও তাঁর তৎকালীন প্রতিদ্বন্দ্বী বেনি গ্যান্টস ক্ষমতার হাতবদলের (রোটেশনাল গভর্নমেন্ট) ভিত্তিতে একটি চুক্তি করেছিলেন।

নির্বাচনের পর থেকেই আরেকটি পুনর্নির্বাচন এড়ানো ও একটি স্থিতিশীল সরকার গড়ার ওপর জোর দিয়ে আসছেন প্রেসিডেন্ট হারজোগ। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলাকালে তিনি মন্তব্য করেন, ‘বর্তমান বাস্তবতায় দল ও তাদের প্রতিনিধিদের বুঝতে হবে, সব প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার রক্ষা করা সব সময় সম্ভব হয় না।’

২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে গেছে ইসরায়েল। নেতানিয়াহু ও তাঁর বিরোধীদের মধ্যে সমঝোতার অভাবে সে সময় তিন বছরে পাঁচবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।