ঢাকা ১২:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬

সাত ব্যান্ডের মিলনমেলা, রাত ১০টায় মঞ্চ মাতালেন জেমস

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৫৫:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
  • / 18

ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আয়োজিত ‘কনসার্ট ফর সলিডারিটি’ ঘিরে সংগীতপ্রেমীদের মিলনমেলায় পরিণত হয় পুরো এলাকা। শনিবার দুপুর থেকে শুরু হওয়া এ আয়োজনে একে একে গান পরিবেশন করে দেশের সাতটি জনপ্রিয় ব্যান্ড। সবশেষে রাত ১০টায় মঞ্চে ওঠেন নগরবাউল জেমস। ‘কবিতা তুমি স্বপ্নচারিণী হয়ে খবর নিয়ো না’ গান দিয়ে পরিবেশনা শুরু করেন তিনি।

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত হয় এই কনসার্ট। সহযোগিতায় ছিল বাংলাদেশ মিউজিক্যাল ব্যান্ডস অ্যাসোসিয়েশন (বামবা)। সবার জন্য উন্মুক্ত এই আয়োজনে অংশ নেয় নগরবাউল, মাইলস, ওয়ারফেজ, ফিডব্যাক, আর্টসেল, শিরোনামহীন ও মেকানিক্স।

দুপুরের পর থেকেই কনসার্টস্থলে বাড়তে থাকে দর্শকের উপস্থিতি। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রিয় ব্যান্ডের গান শুনতে আসেন সংগীতপ্রেমীরা। তরুণদের পাশাপাশি বিভিন্ন বয়সী মানুষের অংশগ্রহণে জমে ওঠে আয়োজন। বিএনপির র‍্যালি শেষে দর্শকের ভিড় আরও বাড়ে।

আরও পড়ুন  পাকিস্তানি শিল্পীদের সঙ্গে একই মঞ্চে গাইবেন জেমস

বিকেল সাড়ে তিনটায় মেকানিক্সের পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় কনসার্ট। প্রায় ৪০ মিনিটের পরিবেশনায় পাঁচটি গান গায় ব্যান্ডটি। দেশকে উৎসর্গ করে ‘অপরাজেয়’ গান দিয়ে শুরু হয় তাদের পরিবেশনা। এরপর ‘নিয়তি’, ‘ছিন্ন পৃষ্ঠা’, ‘শুভ্র শহর’ ও ‘বিস্ময়’ গান শোনায় তারা।

মেকানিক্সের দলনেতা ও কণ্ঠশিল্পী আফতাবুজ্জামান ত্রিদিব বলেন, গানের মাধ্যমে মানুষকে অনুপ্রাণিত করতে চায় তাঁদের ব্যান্ড। সমাজের অসংগতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে গানের মধ্য দিয়েই প্রতিবাদ জানিয়ে যেতে চান তাঁরা।

এরপর মঞ্চে আসে শিরোনামহীন। ‘পাখি’ গান দিয়ে পরিবেশনা শুরু করে ব্যান্ডটি। পরে কাজী নজরুল ইসলামের ‘দুর্গম গিরি কান্তার-মরু’সহ ‘মা’, ‘ইচ্ছে ঘুড়ি’, ‘এই অবেলায়’ ও ‘আবার হাসিমুখ’ গান পরিবেশন করে তারা।

শিরোনামহীনের দলনেতা জিয়াউর রহমান বলেন, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এ আয়োজনে বামবার সহযোগিতা থাকায় নিজেদের আয়োজনের মতোই আনন্দ পাচ্ছেন তাঁরা। অনুষ্ঠানজুড়ে শৃঙ্খলার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানান তিনি।

এরপর মঞ্চে গান পরিবেশন করে আর্টসেল ও ফিডব্যাক। ‘সে কি তুমি’ গান দিয়ে পরিবেশনা শুরু করে ফিডব্যাক। এই কনসার্টের মধ্য দিয়েই ব্যান্ডটির ৫০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন শুরু হয়। এ ছাড়া মঞ্চ মাতায় ওয়ারফেজও।

মাইলস পরিবেশন করে তাদের জনপ্রিয় গান ‘জ্বালা জ্বালা’, ‘চাঁদ তারা’, ‘পিয়াসী মন’, ‘সে কোন দরদিয়া’, ‘নীলা’, ‘ধিকিধিকি’ ও ‘ফিরিয়ে দাও’।

বামবার সহসভাপতি ও ওয়ারফেজের শেখ মনিরুল আলম বলেন, উন্মুক্ত স্থানে বড় পরিসরে এমন আয়োজনের ক্ষেত্রে বিপুল দর্শক সামলানো চ্যালেঞ্জের। ব্যান্ড নির্বাচন, সাউন্ড, লাইট, মঞ্চের কারিগরি ব্যবস্থা ও নিরাপত্তাসহ প্রতিটি বিষয়ে নির্দিষ্ট মান বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম বলেন, মানুষকে আনন্দ দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এ আয়োজন। আনন্দের মধ্য দিয়ে বিপ্লবের চেতনা ধারণের সুযোগ করে দিতে দেশের বিভিন্ন জেলার শিল্পকলা একাডেমিতেও নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

কনসার্ট ঘিরে অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশে জোরদার করা হয় নিরাপত্তাব্যবস্থা। দর্শকদের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দায়িত্ব পালন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

সাত ব্যান্ডের মিলনমেলা, রাত ১০টায় মঞ্চ মাতালেন জেমস

আপডেট সময় ১১:৫৫:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আয়োজিত ‘কনসার্ট ফর সলিডারিটি’ ঘিরে সংগীতপ্রেমীদের মিলনমেলায় পরিণত হয় পুরো এলাকা। শনিবার দুপুর থেকে শুরু হওয়া এ আয়োজনে একে একে গান পরিবেশন করে দেশের সাতটি জনপ্রিয় ব্যান্ড। সবশেষে রাত ১০টায় মঞ্চে ওঠেন নগরবাউল জেমস। ‘কবিতা তুমি স্বপ্নচারিণী হয়ে খবর নিয়ো না’ গান দিয়ে পরিবেশনা শুরু করেন তিনি।

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত হয় এই কনসার্ট। সহযোগিতায় ছিল বাংলাদেশ মিউজিক্যাল ব্যান্ডস অ্যাসোসিয়েশন (বামবা)। সবার জন্য উন্মুক্ত এই আয়োজনে অংশ নেয় নগরবাউল, মাইলস, ওয়ারফেজ, ফিডব্যাক, আর্টসেল, শিরোনামহীন ও মেকানিক্স।

দুপুরের পর থেকেই কনসার্টস্থলে বাড়তে থাকে দর্শকের উপস্থিতি। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রিয় ব্যান্ডের গান শুনতে আসেন সংগীতপ্রেমীরা। তরুণদের পাশাপাশি বিভিন্ন বয়সী মানুষের অংশগ্রহণে জমে ওঠে আয়োজন। বিএনপির র‍্যালি শেষে দর্শকের ভিড় আরও বাড়ে।

আরও পড়ুন  পাকিস্তানি শিল্পীদের সঙ্গে একই মঞ্চে গাইবেন জেমস

বিকেল সাড়ে তিনটায় মেকানিক্সের পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় কনসার্ট। প্রায় ৪০ মিনিটের পরিবেশনায় পাঁচটি গান গায় ব্যান্ডটি। দেশকে উৎসর্গ করে ‘অপরাজেয়’ গান দিয়ে শুরু হয় তাদের পরিবেশনা। এরপর ‘নিয়তি’, ‘ছিন্ন পৃষ্ঠা’, ‘শুভ্র শহর’ ও ‘বিস্ময়’ গান শোনায় তারা।

মেকানিক্সের দলনেতা ও কণ্ঠশিল্পী আফতাবুজ্জামান ত্রিদিব বলেন, গানের মাধ্যমে মানুষকে অনুপ্রাণিত করতে চায় তাঁদের ব্যান্ড। সমাজের অসংগতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে গানের মধ্য দিয়েই প্রতিবাদ জানিয়ে যেতে চান তাঁরা।

এরপর মঞ্চে আসে শিরোনামহীন। ‘পাখি’ গান দিয়ে পরিবেশনা শুরু করে ব্যান্ডটি। পরে কাজী নজরুল ইসলামের ‘দুর্গম গিরি কান্তার-মরু’সহ ‘মা’, ‘ইচ্ছে ঘুড়ি’, ‘এই অবেলায়’ ও ‘আবার হাসিমুখ’ গান পরিবেশন করে তারা।

শিরোনামহীনের দলনেতা জিয়াউর রহমান বলেন, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এ আয়োজনে বামবার সহযোগিতা থাকায় নিজেদের আয়োজনের মতোই আনন্দ পাচ্ছেন তাঁরা। অনুষ্ঠানজুড়ে শৃঙ্খলার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানান তিনি।

এরপর মঞ্চে গান পরিবেশন করে আর্টসেল ও ফিডব্যাক। ‘সে কি তুমি’ গান দিয়ে পরিবেশনা শুরু করে ফিডব্যাক। এই কনসার্টের মধ্য দিয়েই ব্যান্ডটির ৫০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন শুরু হয়। এ ছাড়া মঞ্চ মাতায় ওয়ারফেজও।

মাইলস পরিবেশন করে তাদের জনপ্রিয় গান ‘জ্বালা জ্বালা’, ‘চাঁদ তারা’, ‘পিয়াসী মন’, ‘সে কোন দরদিয়া’, ‘নীলা’, ‘ধিকিধিকি’ ও ‘ফিরিয়ে দাও’।

বামবার সহসভাপতি ও ওয়ারফেজের শেখ মনিরুল আলম বলেন, উন্মুক্ত স্থানে বড় পরিসরে এমন আয়োজনের ক্ষেত্রে বিপুল দর্শক সামলানো চ্যালেঞ্জের। ব্যান্ড নির্বাচন, সাউন্ড, লাইট, মঞ্চের কারিগরি ব্যবস্থা ও নিরাপত্তাসহ প্রতিটি বিষয়ে নির্দিষ্ট মান বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম বলেন, মানুষকে আনন্দ দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এ আয়োজন। আনন্দের মধ্য দিয়ে বিপ্লবের চেতনা ধারণের সুযোগ করে দিতে দেশের বিভিন্ন জেলার শিল্পকলা একাডেমিতেও নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

কনসার্ট ঘিরে অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশে জোরদার করা হয় নিরাপত্তাব্যবস্থা। দর্শকদের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দায়িত্ব পালন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা।