উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে সুইস পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর
- আপডেট সময় ১২:৫৩:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
- / 22
উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইগনাজিও কাসিস। তিন দিনের এই সফরের শুরুতে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে অবস্থান করবেন তিনি। সেখানে সুইজারল্যান্ডের কূটনৈতিক কার্যালয়ের কার্যক্রম পুনরায় চালুর আনুষ্ঠানিক আয়োজনে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। এরপর শনিবার পিয়ংইয়ং থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি।
২০০৩ সালে সুইজারল্যান্ডের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিশেলিন কালমি-রে উত্তর কোরিয়া সফর করেছিলেন। এরপর এই প্রথম দেশটির ফেডারেল কাউন্সিলের কোনো সদস্য উত্তর কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন।
করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ২০২০ সালের মার্চে পিয়ংইয়ংয়ে সুইজারল্যান্ডের কূটনৈতিক মিশন বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৬ সালের ১৯ অক্টোবর থেকে কার্যালয়টি আবার কার্যক্রম শুরু করেছে। সুইস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, উত্তর কোরীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানো এবং রাজনৈতিক সংলাপ এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই মিশনটি পুনরায় চালু করা হয়েছে। কার্যালয়টি চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অবস্থিত সুইস দূতাবাসের অধীনে পরিচালিত হবে।
সফরকালে ইগনাজিও কাসিস উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো সন-হুই এবং দেশটির ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তবে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং-উনের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সুইস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যোগাযোগপ্রধান নিকোলাস বিদে জানিয়েছেন, কয়েক বছর আন্তর্জাতিক যোগাযোগ থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন থাকার পর উত্তর কোরিয়া ধীরে ধীরে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ও যোগাযোগ পুনরায় সক্রিয় করছে। সুইজারল্যান্ডও এই পরিস্থিতিতে দেশটিতে নিজেদের কূটনৈতিক উপস্থিতি আরও সুসংহত করতে আগ্রহী। তবে আলোচনা ও যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখবে সুইজারল্যান্ড।
১৯৫৩ সালে কোরীয় যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে কোরীয় উপদ্বীপের ৩৮তম সমান্তরাল রেখা বরাবর গঠিত অসামরিকীকৃত অঞ্চল (ডিএমজেড) পর্যবেক্ষণে ভূমিকা রেখে আসছে সুইজারল্যান্ড। নিরপেক্ষ দেশগুলোর তদারকি কমিশনের অংশ হিসেবে বর্তমানে পানমুনজমে দেশটির পাঁচজন সামরিক কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন।
১৯৭৪ সালে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে সুইজারল্যান্ড। এরপর ২০০৩ সাল থেকে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত রাজনৈতিক সংলাপ চলে আসছে। এ ছাড়া ১৯৯৭ সালে সুইজারল্যান্ডের উন্নয়ন সংস্থা পিয়ংইয়ংয়ে একটি কার্যালয় চালু করে। কৃষি ও নিরাপদ পানীয় জলের সরবরাহ নিয়ে কাজ করা সংস্থাটি ২০২৪ সালে দেশটিতে তাদের মানবিক কার্যক্রম শেষ করে।
বিশ্লেষকদের মতে, কাসিসের এই সফর উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার করার পাশাপাশি কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনার নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।
তথ্যসূত্র: সুইসইনফো

























