ইসরায়েলের নির্বাচনে আরব দলগুলোর উত্থান, চাপে নেতানিয়াহু
- আপডেট সময় ০৭:৩৬:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
- / 24
ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনে আরব ইসরায়েলিদের দলগুলোর উল্লেখযোগ্য সাফল্যের আভাস পাওয়া গেছে। বুথফেরত জরিপে আরব দলগুলোর জন্য ১৭টি আসনের পূর্বাভাস পাওয়া গেলেও কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ফলে নতুন সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তাঁর বিরোধী শিবিরের সামনে জোট গঠনের কঠিন হিসাব-নিকাশ দেখা দিয়েছে।
২৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেট নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ভোটার নেতানিয়াহুর বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। তবে বুথফেরত জরিপের পূর্বাভাস অনুযায়ী, তাঁর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৪টি আসন পেতে পারে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন।
নির্বাচনে কোনো পক্ষই সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সরকার গঠনের জন্য বিভিন্ন দলের মধ্যে জোট নিয়ে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কোন দল সরকার গঠন করতে পারবে, তা নির্ধারণে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে।
নেতানিয়াহুর জোটের আসনসংখ্যা ৬১-তে পৌঁছাতে বিরোধী শিবিরের কোনো দলের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করতে হতে পারে। এ শিবিরের নেতৃত্বে রয়েছেন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) সাবেক প্রধান গাদি আইজেনকট। নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য হিসাব-নিকাশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের দলও রয়েছে।
বুথফেরত জরিপে বেনেটের ‘টুগেদার’ দলের আসনসংখ্যা ১২ থেকে ১৩ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই দল নেতানিয়াহুর জোটে যোগ দিলে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন সম্ভব হতে পারে। তবে বেনেটের দল বর্তমানে নেতানিয়াহুবিরোধী শিবিরের অংশ। বেনেট ও ইয়ার লাপিদ নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর লক্ষ্যেই জোট গঠন করেছেন।
বুথফেরত জরিপের ফল প্রকাশের পর বেনেট সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নেতানিয়াহু নির্বাচনে হেরে গেছেন এবং তাঁর সরকারের বিদায় নেওয়ার সময় হয়েছে।
অন্যদিকে, নেতানিয়াহুবিরোধী জোটের নেতারা নির্বাচনী প্রচারে বারবার বলেছেন, তাঁরা আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট সরকার গঠন করবেন না। যদিও আরব দলগুলোর নেতারা বিরোধী শিবিরকে সহযোগিতার ইঙ্গিত দিয়েছেন। বেনেট শুরু থেকেই আরব দলগুলোর সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে অনমনীয় অবস্থান নিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিরোধী শিবিরের আরেক নেতা অ্যাভিগদর লিবারম্যানও সংখ্যালঘু সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে নতুন করে নির্বাচন আয়োজন করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।
এদিকে, সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে নেতানিয়াহুর নিজ দলের কয়েকজন প্রবীণ রাজনীতিক জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে জোটের শরিকদের প্রতি ভিন্ন অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের কেউ কেউ নেতানিয়াহুকে ছেড়ে গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
জোট গঠন নিয়ে আলোচনা কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস ধরে চললেও তত দিন নেতানিয়াহু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কোনো দল সরকার গঠনে সক্ষম না হলে নতুন নির্বাচন ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত তাঁর দায়িত্বে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, ইসরায়েলের অভ্যন্তরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে যে ক্ষমতা ধরে রাখতে নেতানিয়াহু ইরান বা প্রতিবেশী কোনো দেশের সঙ্গে নতুন করে সংঘাতে জড়াতে পারেন, অথবা চলমান সংঘাত আরও বাড়িয়ে দিতে পারেন। তবে এটি আশঙ্কা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ; এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়নি।
ধারণা করা হচ্ছে, যুদ্ধ পরিস্থিতি সরকার গঠনের আলোচনা প্রভাবিত করতে পারে। একই সঙ্গে জরুরি পরিস্থিতির যুক্তিতে ‘যুদ্ধকালীন জাতীয় ঐক্যের সরকার’ গঠনের দাবিও জোরালো হতে পারে। এমন সরকার গঠিত হলে নেতানিয়াহুর ক্ষমতা ধরে রাখার সম্ভাবনা বাড়তে পারে বলে প্রতিবেদনে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু এ ধরনের একটি ধারণার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনকে আগেই আভাস দিয়েছেন। নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির এক কর্মকর্তা সংবাদপত্রটিকে বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলে দ্রুত একটি স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য সরকার দেখতে চান। তবে সেই সরকারের কাঠামো কেমন হবে, তা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে এখনো মতভেদ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে।
নির্বাচনের পর সরকার গঠনের জটিল সমীকরণ এবং আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি—দুইয়ের মধ্যেই ইসরায়েলের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা এখন দেখার বিষয়। নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলো শেষ পর্যন্ত নিজেদের মতপার্থক্য কাটিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে পারবে কি না, তার ওপরও নতুন সরকারের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।
























