নিলামে উঠছে শেহবাজ শরিফের এক কেজি স্বর্ণ
- আপডেট সময় ০৯:০৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
- / 22
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ কিরগিজস্তান সফরে উপহার হিসেবে পাওয়া এক কেজি খাঁটি স্বর্ণসহ তিন ডজনের বেশি সরকারি উপহার তোশাখানায় জমা দিয়েছেন। নতুন সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী, এসব উপহার উন্মুক্ত নিলামে বিক্রি করা হবে। বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ পাকিস্তানের সুবিধাবঞ্চিত এলাকাগুলোতে মেয়েদের প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দ্য নিউজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দেশটির ক্যাবিনেট ডিভিশনের প্রকাশিত নথির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।
নথি অনুযায়ী, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে পাওয়া সরকারি উপহারগুলো তোশাখানায় জমা দেন শেহবাজ শরিফ। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল এক হাজার গ্রাম বা এক কেজি খাঁটি স্বর্ণভর্তি একটি বাক্স। ৩১ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কিরগিজস্তানে সরকারি সফরের সময় তিনি এটি উপহার হিসেবে পান। পরে ৮ সেপ্টেম্বর স্বর্ণটি তোশাখানায় জমা দেওয়া হয়। তবে উপহারগুলোর আর্থিক মূল্য নির্ধারণের প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি।
প্রধানমন্ত্রীর জমা দেওয়া অন্য উপহারের মধ্যে রয়েছে হাতে তৈরি রেশম ও উলের কার্পেট, ফুলদানি, সাজসজ্জার প্লেট, কাফলিংক, টাই, ক্যালিগ্রাফি, চিত্রকর্ম ও ঐতিহ্যবাহী স্মারকসামগ্রী। এ ছাড়া ছিল রওজা-এ-রাসুলের (সা.) মডেল, তসবিহ, মডেল গাড়ি, কিরগিজ ধাঁচের কম্বল, ক্রিস্টালের ঢাল, ব্রোঞ্জের ফুলদানি, টেবিল ঘড়ি, বই, সুগন্ধি, অলিভ অয়েল, সাবান, স্কার্ফ এবং কাপ-সসারের সেট।
একই সময়ে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারিও সাতটি উপহার তোশাখানায় জমা দিয়েছেন। এসব উপহারের মধ্যে ছিল কার্পেট, তিরন্দাজির সরঞ্জাম, বাদ্যযন্ত্র, ফয়সাল মসজিদের বাঁধানো ছবি, দাবার সেট ও সাজসজ্জার সামগ্রী। এ ছাড়া উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার, অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব এবং তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারারসহ মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্যও ওই সময়ে পাওয়া সরকারি উপহার জমা দিয়েছেন।
তোশাখানা পাকিস্তানের সরকারি উপহার সংরক্ষণাগার। বিদেশি সরকার ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে দেশটির প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী এবং অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তারা যেসব উপহার পান, সেগুলোর নথি এখানে সংরক্ষণ করা হয়।
২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে জারি করা ‘তোশাখানা (ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৬’ অনুযায়ী, তোশাখানায় জমা দেওয়া পুরোনো ও নতুন সব উপহার উন্মুক্ত নিলামে বিক্রি করতে হবে। ক্যাবিনেট ডিভিশন এ নিলাম পরিচালনা করবে। ফেডারেল ক্যাবিনেট সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি পুরো প্রক্রিয়া তদারক করবে এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেবে।
বিধিমালা অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তাদের উপহার পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে অথবা বিদেশ সফর থেকে ফেরার ৩০ দিনের মধ্যে তা ঘোষণা করে তোশাখানায় জমা দিতে হবে। উপহার আলাদাভাবে পাকিস্তানে পাঠানো হলে এ ক্ষেত্রে সময়সীমা ৬০ দিন।
প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী ছাড়া অন্য সরকারি পদধারী এবং সরকারি প্রতিনিধিদলের সদস্যদের দাপ্তরিক দায়িত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ব্যক্তিগত উপহার গ্রহণে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। তবে কূটনৈতিক শিষ্টাচার বা সাংস্কৃতিক কারণে কোনো উপহার প্রত্যাখ্যান করা কঠিন হলে সেটি তোশাখানায় জমা দিতে হবে।
নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, নিলাম থেকে পাওয়া অর্থ পৃথক হিসাবে সংরক্ষণ করা হবে। পরে সেই অর্থ পাকিস্তানের সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত এলাকাগুলোতে মেয়েদের প্রাথমিক শিক্ষা প্রসারে ব্যয় করা হবে। সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় পাওয়া উপহারের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বিক্রির অর্থ জনকল্যাণে ব্যবহার করাই এ নীতির লক্ষ্য।
সূত্র: গালফ নিউজ























