সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া দুই বাংলাদেশিকে নিয়ে গোপন নথিতে যা আছে
- আপডেট সময় ১০:৩৪:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
- / 74
সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি নাগরিকের আটক, অভিযোগ ও কারাবাসের তথ্য তুলে ধরে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে ‘গোপনীয়’ নথি পাঠিয়েছে জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল। নথিতে বলা হয়েছে, নজরুল ইসলাম আব্দুল বশির ও সুইটি আক্তারকে ২০২৩ সালের আগস্টে পৃথক অভিযোগে আটক করা হয়েছিল। তবে বন্দিদের তালিকায় তাঁদের মৃত্যুদণ্ডের কথা উল্লেখ ছিল না বলে জানিয়েছে কনস্যুলেট।
রোববার (১৮ অক্টোবর) কনস্যুলেটের শ্রম উইং থেকে পাঠানো ওই চিঠি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। চিঠির তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবের মক্কায় ওই দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ৩০ সেপ্টেম্বর কনস্যুলেটের হাতে আসা বন্দিদের তালিকা অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১ আগস্ট সৌদি আরবের সাইবার অপরাধ আইনে নজরুল ইসলামকে আটক করা হয়। পরদিন ব্যভিচারের অভিযোগে আটক হন সুইটি আক্তার।
চিঠি অনুযায়ী, নজরুল জেদ্দা সংশোধনাগারে এবং সুইটি জেদ্দা মহিলা কারাগারে বন্দি ছিলেন। তাঁরা দুজনই ‘আল মাজাল কোম্পানিতে’ পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন।
কনস্যুলেটের পাঠানো নথিতে বলা হয়েছে, বন্দিদের তালিকায় মোট ৯৭ জনের অপরাধের সংক্ষিপ্ত বিবরণ ছিল। কিন্তু নজরুল ও সুইটির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কলামে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। ওই তালিকায় তাঁদের মৃত্যুদণ্ডের সাজা সম্পর্কেও কিছু উল্লেখ ছিল না।
নথিতে আরও বলা হয়েছে, সৌদি আরবে সাইবার অপরাধ বা ব্যভিচারের অভিযোগে কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নজির আগে পাওয়া যায়নি।
কনস্যুলেটের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলে বর্তমানে ৩০৬ জন বাংলাদেশি কারাগারে রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৪৭ জনের কারাদণ্ডের মেয়াদ এক মাস থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত। নথিতে সাইবার অপরাধের তিনটি পৃথক মামলার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যেগুলোতে কারাদণ্ডের মেয়াদ ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত ছিল।
নথিতে বলা হয়েছে, সৌদি কর্তৃপক্ষ মৃত্যুদণ্ড দেওয়া বা তা কার্যকরের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কিংবা অনানুষ্ঠানিক কোনোভাবেই বাংলাদেশ দূতাবাস বা জেদ্দা কনস্যুলেট জেনারেলকে অবহিত করেনি।
এ পরিস্থিতিতে কনস্যুলেট সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা শাখায় একটি ‘নোট ভার্বাল’ পাঠিয়েছে। এতে দুই বাংলাদেশির রায়ের অনুলিপি এবং বিচারপ্রক্রিয়ার বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী প্রতিবেদন দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কনস্যুলেট।
























