ঢাকা ১০:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

মঙ্গলের উপগ্রহ থেকে নমুনা আনতে জাপানের অভিযান

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:৩৩:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
  • / 15

ছবি : সংগৃহীত

 

মঙ্গলের উপগ্রহ ফোবোস থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে মহাকাশ অভিযান চালাতে যাচ্ছে জাপান। সৌরজগতের উৎপত্তি এবং পৃথিবীতে প্রাণের উদ্ভব সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে সহায়তা করতে পারে এই অভিযান। সফল হলে মঙ্গল অঞ্চলে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে এটি হবে বিশ্বের প্রথম অভিযান।

জাপান অ্যারোস্পেস এক্সপ্লোরেশন এজেন্সি (জাকসা) জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোর ৪টা ৪১ মিনিটে জাপানের তানেগাশিমা মহাকাশকেন্দ্র থেকে এইচ-৩ রকেটে এমএমএক্স মহাকাশযান উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়টি সোমবার রাত ১টা ৪১ মিনিট।

আরও পড়ুন  মাটিকাটায় সেনাবাহিনীর অভিযান, 'হিটলু বাবু গ্যাং'-এর ১০ সদস্য গ্রেপ্তার

পরিকল্পনা অনুযায়ী, উৎক্ষেপণের প্রায় এক বছর পর মঙ্গলের কাছাকাছি পৌঁছাবে মহাকাশযানটি। এরপর মঙ্গলের উপগ্রহ ফোবোসকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ তিন বছর প্রদক্ষিণ করবে এটি। পরে ফোবোসের পৃষ্ঠে অবতরণ করে অন্তত ১০ গ্রাম নমুনা সংগ্রহের চেষ্টা করা হবে।

অবতরণের উপযুক্ত স্থান নির্ধারণের জন্য আগে ফোবোসের পৃষ্ঠ পর্যবেক্ষণ করবে আইডেফিক্স নামের একটি রোভার। ফোবোসে অবতরণ ও নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি মহাকাশযানটি মঙ্গলের আরেক উপগ্রহ ডেইমোসও পর্যবেক্ষণ করবে। সব কার্যক্রম শেষ করে পৃথিবীতে ফিরে আসার কথা রয়েছে এমএমএক্সের।

মঙ্গলের দুই উপগ্রহ কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে, তা জানা এই অভিযানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এ বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেলে সৌরজগতের উৎপত্তি সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ ধারণা মিলতে পারে।

মঙ্গলের উপগ্রহগুলোর উৎপত্তি নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে দুটি প্রধান তত্ত্ব রয়েছে। একটি হলো ‘দৈত্যাকার সংঘর্ষ’ তত্ত্ব। অন্যটি ‘মহাকর্ষীয় আকর্ষণে বন্দী’ তত্ত্ব। প্রথম তত্ত্ব অনুযায়ী, বড় কোনো মহাজাগতিক সংঘর্ষের ফলে উপগ্রহগুলোর সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। দ্বিতীয় তত্ত্বে বলা হয়, মহাকর্ষীয় আকর্ষণে অন্য কোনো মহাজাগতিক বস্তু মঙ্গলের কক্ষপথে আটকা পড়ে উপগ্রহে পরিণত হয়ে থাকতে পারে।

ফরাসি জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী ও আইডেফিক্স প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত প্যাট্রিক মিশেল বলেন, এমএমএক্স অভিযান এমন প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে, যার মাধ্যমে বাইরের সৌরজগৎ থেকে পানি, উদ্বায়ী পদার্থ ও জৈব যৌগ ভেতরের পাথুরে গ্রহগুলোর অঞ্চলে পৌঁছেছিল। এসব প্রক্রিয়া গ্রহগুলোকে প্রাণের উপযোগী করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে থাকতে পারে।

ফোবোসের পৃষ্ঠে নিরাপদে অবতরণ করা এমএমএক্স অভিযানের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। উপগ্রহটির মহাকর্ষ অত্যন্ত দুর্বল হওয়ায় মহাকাশযানের অবতরণ-সহায়ক পা তৈরির ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীদের বিশেষ সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে।

মহাকাশ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার অভিজ্ঞতা রয়েছে জাপানের। ২০২০ সালে দেশটির হায়াবুসা-২ অভিযান একটি গ্রহাণু থেকে সংগ্রহ করা ৫ দশমিক ৪ গ্রাম শিলা ও ধূলিকণা পৃথিবীতে ফিরিয়ে এনেছিল। তবে আগের গ্রহাণু অভিযানের তুলনায় এমএমএক্স আরও জটিল। কাওয়াকাতসুর ভাষ্য অনুযায়ী, এবার মহাকাশযানটিকে মঙ্গলের খুব কাছাকাছি যেতে হবে এবং সেখান থেকে পৃথিবীতে ফিরে আসতে হবে। এ ক্ষেত্রে মঙ্গলের শক্তিশালী মহাকর্ষীয় আকর্ষণ অতিক্রম করাও বড় চ্যালেঞ্জ।

মঙ্গল গ্রহ থেকে সরাসরি শিলা ও মাটির নমুনা পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছে। নাসার পারসিভিয়ারেন্স রোভার ২০২১ সাল থেকে মঙ্গলের পৃষ্ঠে অনুসন্ধান চালিয়ে নমুনা সংগ্রহ করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত এক ভোটের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অধীনে নমুনা ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনাটি কার্যত বাতিল হয়ে যায়।

অন্যদিকে, চীন জানিয়েছে, তাদের তিয়ানওয়েন-৩ মহাকাশযান ২০২৮ সালের দিকে উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে। এই অভিযানের মাধ্যমে ২০৩১ সালের মধ্যেই মঙ্গল থেকে নমুনা পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার আশা করছে দেশটি। সে ক্ষেত্রে এমএমএক্স অভিযানের আগেই মঙ্গল গ্রহ থেকে নমুনা ফিরিয়ে আনতে পারে চীন।

তবে জাপানি বিজ্ঞানীদের মতে, মঙ্গলের পৃষ্ঠের তুলনায় ফোবোস থেকে সংগ্রহ করা বালু ও শিলায় আরও বৈচিত্র্যময় নমুনা পাওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে কোনো মহাজাগতিক বস্তুর সঙ্গে মঙ্গলের সংঘর্ষে ফোবোসের সৃষ্টি হয়ে থাকলে, উপগ্রহটির উপাদানে মঙ্গলের ভূতাত্ত্বিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ চিহ্ন থাকতে পারে।

তথ্যসূত্র: জিও নিউজ।

নিউজটি শেয়ার করুন

মঙ্গলের উপগ্রহ থেকে নমুনা আনতে জাপানের অভিযান

আপডেট সময় ০৯:৩৩:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

 

মঙ্গলের উপগ্রহ ফোবোস থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে মহাকাশ অভিযান চালাতে যাচ্ছে জাপান। সৌরজগতের উৎপত্তি এবং পৃথিবীতে প্রাণের উদ্ভব সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে সহায়তা করতে পারে এই অভিযান। সফল হলে মঙ্গল অঞ্চলে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে এটি হবে বিশ্বের প্রথম অভিযান।

জাপান অ্যারোস্পেস এক্সপ্লোরেশন এজেন্সি (জাকসা) জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোর ৪টা ৪১ মিনিটে জাপানের তানেগাশিমা মহাকাশকেন্দ্র থেকে এইচ-৩ রকেটে এমএমএক্স মহাকাশযান উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়টি সোমবার রাত ১টা ৪১ মিনিট।

আরও পড়ুন  তীব্র শীত ও তুষারপাতে জাপানে বাড়ছে দুর্ঘটনা, নিহত ৩০

পরিকল্পনা অনুযায়ী, উৎক্ষেপণের প্রায় এক বছর পর মঙ্গলের কাছাকাছি পৌঁছাবে মহাকাশযানটি। এরপর মঙ্গলের উপগ্রহ ফোবোসকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ তিন বছর প্রদক্ষিণ করবে এটি। পরে ফোবোসের পৃষ্ঠে অবতরণ করে অন্তত ১০ গ্রাম নমুনা সংগ্রহের চেষ্টা করা হবে।

অবতরণের উপযুক্ত স্থান নির্ধারণের জন্য আগে ফোবোসের পৃষ্ঠ পর্যবেক্ষণ করবে আইডেফিক্স নামের একটি রোভার। ফোবোসে অবতরণ ও নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি মহাকাশযানটি মঙ্গলের আরেক উপগ্রহ ডেইমোসও পর্যবেক্ষণ করবে। সব কার্যক্রম শেষ করে পৃথিবীতে ফিরে আসার কথা রয়েছে এমএমএক্সের।

মঙ্গলের দুই উপগ্রহ কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে, তা জানা এই অভিযানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এ বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেলে সৌরজগতের উৎপত্তি সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ ধারণা মিলতে পারে।

মঙ্গলের উপগ্রহগুলোর উৎপত্তি নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে দুটি প্রধান তত্ত্ব রয়েছে। একটি হলো ‘দৈত্যাকার সংঘর্ষ’ তত্ত্ব। অন্যটি ‘মহাকর্ষীয় আকর্ষণে বন্দী’ তত্ত্ব। প্রথম তত্ত্ব অনুযায়ী, বড় কোনো মহাজাগতিক সংঘর্ষের ফলে উপগ্রহগুলোর সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। দ্বিতীয় তত্ত্বে বলা হয়, মহাকর্ষীয় আকর্ষণে অন্য কোনো মহাজাগতিক বস্তু মঙ্গলের কক্ষপথে আটকা পড়ে উপগ্রহে পরিণত হয়ে থাকতে পারে।

ফরাসি জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী ও আইডেফিক্স প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত প্যাট্রিক মিশেল বলেন, এমএমএক্স অভিযান এমন প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে, যার মাধ্যমে বাইরের সৌরজগৎ থেকে পানি, উদ্বায়ী পদার্থ ও জৈব যৌগ ভেতরের পাথুরে গ্রহগুলোর অঞ্চলে পৌঁছেছিল। এসব প্রক্রিয়া গ্রহগুলোকে প্রাণের উপযোগী করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে থাকতে পারে।

ফোবোসের পৃষ্ঠে নিরাপদে অবতরণ করা এমএমএক্স অভিযানের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। উপগ্রহটির মহাকর্ষ অত্যন্ত দুর্বল হওয়ায় মহাকাশযানের অবতরণ-সহায়ক পা তৈরির ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীদের বিশেষ সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে।

মহাকাশ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার অভিজ্ঞতা রয়েছে জাপানের। ২০২০ সালে দেশটির হায়াবুসা-২ অভিযান একটি গ্রহাণু থেকে সংগ্রহ করা ৫ দশমিক ৪ গ্রাম শিলা ও ধূলিকণা পৃথিবীতে ফিরিয়ে এনেছিল। তবে আগের গ্রহাণু অভিযানের তুলনায় এমএমএক্স আরও জটিল। কাওয়াকাতসুর ভাষ্য অনুযায়ী, এবার মহাকাশযানটিকে মঙ্গলের খুব কাছাকাছি যেতে হবে এবং সেখান থেকে পৃথিবীতে ফিরে আসতে হবে। এ ক্ষেত্রে মঙ্গলের শক্তিশালী মহাকর্ষীয় আকর্ষণ অতিক্রম করাও বড় চ্যালেঞ্জ।

মঙ্গল গ্রহ থেকে সরাসরি শিলা ও মাটির নমুনা পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছে। নাসার পারসিভিয়ারেন্স রোভার ২০২১ সাল থেকে মঙ্গলের পৃষ্ঠে অনুসন্ধান চালিয়ে নমুনা সংগ্রহ করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত এক ভোটের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অধীনে নমুনা ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনাটি কার্যত বাতিল হয়ে যায়।

অন্যদিকে, চীন জানিয়েছে, তাদের তিয়ানওয়েন-৩ মহাকাশযান ২০২৮ সালের দিকে উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে। এই অভিযানের মাধ্যমে ২০৩১ সালের মধ্যেই মঙ্গল থেকে নমুনা পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার আশা করছে দেশটি। সে ক্ষেত্রে এমএমএক্স অভিযানের আগেই মঙ্গল গ্রহ থেকে নমুনা ফিরিয়ে আনতে পারে চীন।

তবে জাপানি বিজ্ঞানীদের মতে, মঙ্গলের পৃষ্ঠের তুলনায় ফোবোস থেকে সংগ্রহ করা বালু ও শিলায় আরও বৈচিত্র্যময় নমুনা পাওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে কোনো মহাজাগতিক বস্তুর সঙ্গে মঙ্গলের সংঘর্ষে ফোবোসের সৃষ্টি হয়ে থাকলে, উপগ্রহটির উপাদানে মঙ্গলের ভূতাত্ত্বিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ চিহ্ন থাকতে পারে।

তথ্যসূত্র: জিও নিউজ।