ঢাকা ০৪:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

ইয়েমেনে সরকারি বাহিনীর প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে হুথি হামলায় নিহত ৫৩

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:২৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
  • / 16

ছবি : সংগৃহীত

 

ইয়েমেনের দরিদ্র দেশটিতে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করার মধ্যে, দেশটির শাবওয়া প্রদেশে সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ শিবিরে ইরানসমর্থিত হুথিদের সোমবারের হামলায় ৫৩ জন নিহত ও ২০০ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।

রয়টার্সের যাচাই করা শাবওয়া প্রদেশের একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, মাটিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে আহত মানুষ ও রক্তে ভেজা মরদেহ।

আরও পড়ুন  শাহবাগে সাংবাদিকদের ওপর হামলায় নাছিরের দুঃখ প্রকাশ

লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বারে কৌশলগত জলপথ বাব আল-মানদেবের নিকটবর্তী এলাকায় গত সেপ্টেম্বরে হুথিরা অগ্রসর হওয়ার পর থেকে সৌদি আরবসমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার এবং হুথিদের মধ্যে পারস্পরিক হামলা চলে আসছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় প্রশাসনের সূত্র জানায়, প্রশিক্ষণ চলাকালীন নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে তিনটি ব্যালিস্টিক মিসাইল নিক্ষেপ করে হুথিরা।
দক্ষিণ-মধ্য ইয়েমেনের উপকূলীয় ও এডেন উপসাগরমুখী জ্বালানি সমৃদ্ধ প্রদেশ শাবওয়ায় দেশটির সবচেয়ে বড় শিল্প বিনিয়োগ প্রকল্প—বালহাফ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সুবিধা অবস্থিত।

এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে হুথির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, সৌদি বাহিনী পরিচালিত ওই প্রশিক্ষণ শিবিরটিকেই তারা লক্ষ্যবস্তু করেছিলেন। তবে এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

চলতি মাসেই হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলো পুনর্দখল এবং কৌশলগত প্রণালীর আশেপাশের হারানো ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারে একটি অভিযান শুরু করেছে সরকারি বাহিনী। অন্যদিকে, ইয়েমেনের দক্ষিণ পাহাড়ি অঞ্চলের হুথিবিরোধী শেষ প্রধান শক্তঘাঁটি তাইজ শহরটি অবরুদ্ধ করে রেখেছে হুথিরা।

বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরবের ওপর হুথিরা তাদের আক্রমণ জোরদার করায়—রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোকে লক্ষ্যবস্তু করে চালানো এই সংঘাত মার্কিন-ইসরাইলি জোট ও ইরানের মধ্যকার বৃহত্তর যুদ্ধের আরেকটি ফ্রন্টে পরিণত হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা দখল করে সরকারকে দক্ষিণাঞ্চলের দিকে তাড়িয়ে দিলে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। এরপরের বছর সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক হস্তক্ষেপ একটি রক্তক্ষয়ী স্থবিরতার জন্ম দেয়, যা ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার আগ পর্যন্ত বহাল ছিল।

ইয়েমেন ইতিমধ্যেই বিশ্বের অন্যতম নিকৃষ্ট মানবিক সংকটের মুখোমুখি রয়েছে। আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলো সেখানে পরিস্থিতি আরও দ্রুত অবনতির দিকে যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করে আসছে।

সূত্র: রয়টার্স

নিউজটি শেয়ার করুন

ইয়েমেনে সরকারি বাহিনীর প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে হুথি হামলায় নিহত ৫৩

আপডেট সময় ০৩:২৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

 

ইয়েমেনের দরিদ্র দেশটিতে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করার মধ্যে, দেশটির শাবওয়া প্রদেশে সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ শিবিরে ইরানসমর্থিত হুথিদের সোমবারের হামলায় ৫৩ জন নিহত ও ২০০ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।

রয়টার্সের যাচাই করা শাবওয়া প্রদেশের একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, মাটিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে আহত মানুষ ও রক্তে ভেজা মরদেহ।

আরও পড়ুন  ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত ৮ মার্কিন সেনা

লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বারে কৌশলগত জলপথ বাব আল-মানদেবের নিকটবর্তী এলাকায় গত সেপ্টেম্বরে হুথিরা অগ্রসর হওয়ার পর থেকে সৌদি আরবসমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার এবং হুথিদের মধ্যে পারস্পরিক হামলা চলে আসছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় প্রশাসনের সূত্র জানায়, প্রশিক্ষণ চলাকালীন নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে তিনটি ব্যালিস্টিক মিসাইল নিক্ষেপ করে হুথিরা।
দক্ষিণ-মধ্য ইয়েমেনের উপকূলীয় ও এডেন উপসাগরমুখী জ্বালানি সমৃদ্ধ প্রদেশ শাবওয়ায় দেশটির সবচেয়ে বড় শিল্প বিনিয়োগ প্রকল্প—বালহাফ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সুবিধা অবস্থিত।

এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে হুথির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, সৌদি বাহিনী পরিচালিত ওই প্রশিক্ষণ শিবিরটিকেই তারা লক্ষ্যবস্তু করেছিলেন। তবে এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

চলতি মাসেই হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলো পুনর্দখল এবং কৌশলগত প্রণালীর আশেপাশের হারানো ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারে একটি অভিযান শুরু করেছে সরকারি বাহিনী। অন্যদিকে, ইয়েমেনের দক্ষিণ পাহাড়ি অঞ্চলের হুথিবিরোধী শেষ প্রধান শক্তঘাঁটি তাইজ শহরটি অবরুদ্ধ করে রেখেছে হুথিরা।

বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরবের ওপর হুথিরা তাদের আক্রমণ জোরদার করায়—রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোকে লক্ষ্যবস্তু করে চালানো এই সংঘাত মার্কিন-ইসরাইলি জোট ও ইরানের মধ্যকার বৃহত্তর যুদ্ধের আরেকটি ফ্রন্টে পরিণত হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা দখল করে সরকারকে দক্ষিণাঞ্চলের দিকে তাড়িয়ে দিলে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। এরপরের বছর সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক হস্তক্ষেপ একটি রক্তক্ষয়ী স্থবিরতার জন্ম দেয়, যা ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার আগ পর্যন্ত বহাল ছিল।

ইয়েমেন ইতিমধ্যেই বিশ্বের অন্যতম নিকৃষ্ট মানবিক সংকটের মুখোমুখি রয়েছে। আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলো সেখানে পরিস্থিতি আরও দ্রুত অবনতির দিকে যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করে আসছে।

সূত্র: রয়টার্স