সৌদি আরবে বিমানবন্দরে হুথিদের হামলা, দুই বাংলাদেশিসহ নিহত ১২
- আপডেট সময় ০৭:২৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
- / 30
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, মিসর, জর্ডান, সিরিয়া, ফিলিস্তিন ও সুদানের একজন করে নাগরিক রয়েছেন। হামলার পর ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ হতাহতের এ তথ্য জানায়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর প্রকাশ করেছে।
বিবৃতি অনুযায়ী, নিহত ১২ জনের মধ্যে চারজন সৌদি আরবের নাগরিক এবং দুজন বাংলাদেশের নাগরিক। বাকি ছয়জনের মধ্যে একজন করে যুক্তরাষ্ট্র, মিসর, জর্ডান, সিরিয়া, ফিলিস্তিন ও সুদানের নাগরিক রয়েছেন।
গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর উপসাগরীয় কোনো আরব দেশে এটিকে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। এ কারণে সাময়িকভাবে বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।
চলতি সপ্তাহে রিয়াদের বিমানবন্দরে হুথি গোষ্ঠীর ধারাবাহিক হামলা সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের পরিকল্পনায় বড় ধরনের আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। রিয়াদকে বৈশ্বিক ভ্রমণ ও ব্যবসার কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
এ পরিস্থিতিতে আগামী কয়েক সপ্তাহে সৌদি আরবে অনুষ্ঠেয় গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক আয়োজনগুলোও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শনিবার রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করেছেন হুথি গোষ্ঠীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-বুখাইতি। তিনি দাবি করেন, ইয়েমেনে সৌদি আরবের হামলার জবাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, সৌদি হামলায় বেসামরিক অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
আল-বুখাইতি বলেন, ইয়েমেনের বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর, বিয়ের অনুষ্ঠান ও শোকসভার হল, হাসপাতাল এবং বাজারের মতো বেসামরিক স্থাপনায় হামলা বা ক্ষতিসাধন করা উচিত নয়—এ বিষয়টি বিশ্বকে বোঝাতেই হুথিরা এ হামলা চালিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, ইয়েমেনের এসব স্থাপনার ক্ষেত্রে যে নিয়ম প্রযোজ্য, বিশ্বের অন্য কোথাও একই ধরনের স্থাপনার ক্ষেত্রেও সেই নিয়ম কার্যকর হওয়া উচিত।
হামলার বিষয়ে সৌদি আরবের কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের একজন প্রতিবেদক বিমানবন্দরের দিকে অন্তত ছয়টি অ্যাম্বুলেন্স যেতে দেখেছেন বলে জানিয়েছেন। এ সময় পুলিশ বিমানবন্দরে প্রবেশের পথ বন্ধ করে দিয়েছিল।



















