পরিবারের বক্তব্যে বাংলাদেশি শনাক্ত করে ফেরত পাঠানো যায়? কলকাতা হাইকোর্টের প্রশ্ন
- আপডেট সময় ০৭:৫৫:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
- / 28
অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসী সন্দেহে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের এক বাসিন্দাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কলকাতা হাইকোর্ট। শুধু পরিবারের সদস্যদের বক্তব্যের ভিত্তিতে কাউকে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করে বহিষ্কার করা যায় কি না, তা জানতে চেয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ওই ব্যক্তির বহিষ্কারাদেশ পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে জানতে চান, মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা শহিদুল শেখকে গত ৮ আগস্ট থেকে কোন ভিত্তিতে আটক রাখা হয়েছে। শহিদুলের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশ ও সেখানে বসবাসের অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে শহিদুলের স্ত্রী আদালতে আবেদন করে অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামীকে বেআইনিভাবে আটক করা হয়েছে। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত রাজ্য সরকারের কাছে প্রতিবেদন চেয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার রানিনগর থানার পুলিশ ও মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপারের প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয় রাজ্য সরকার। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বৈধ পাসপোর্ট বা ভিসা ছাড়াই ভারতে বসবাস করছিলেন শহিদুল।
রাজ্য সরকারের পক্ষে আদালতে উপস্থিত অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার জানান, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পরিচালিত বিশেষ অভিযানের সময় কিছু গোপন তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই শহিদুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। সরকারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, শহিদুল নিজেই সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ ও বসবাসের কথা স্বীকার করেছেন।
তবে শহিদুলকে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করার পরও তাঁর ভোটার কার্ড, আধার কার্ড ও প্যান কার্ড কীভাবে তৈরি হলো, তা জানতে চান বিচারপতি। জবাবে রাজ্য সরকারের আইনজীবী দাবি করেন, জাল নথি ব্যবহার করে এসব পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেছিলেন শহিদুল।
সরকারের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, শহিদুল যাঁকে নিজের বাবা বলে দাবি করেন, সেই কালাম শেখের স্ত্রী ও মেয়ে তাঁকে চেনেন না বলে জানিয়েছেন।
আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, পরিবারের সদস্যদের বক্তব্যের ভিত্তিতেই কাউকে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে প্রমাণ করা যায় না। এ ছাড়া ফরেনার্স রেজিস্ট্রেশন অফিসের (এফআরও) সামনে নিজের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগও শহিদুলকে দেওয়া হয়নি বলে উল্লেখ করেন বিচারপতি।
রাজ্য সরকারের আইনজীবী যুক্তি দেন, প্যান নম্বর, আধার কার্ড ও স্কুলের সনদের মতো নথি জাল করার অভিযোগ ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে সন্দেহের যথেষ্ট কারণ তৈরি করে। তাঁর মতে, এ ধরনের অভিযোগ দেশ থেকে বহিষ্কারের ভিত্তি হতে পারে।
তবে আদালত প্রশ্ন তোলেন, ১৯৭০-এর দশকে সীমান্ত পেরিয়ে আসা বহু মানুষের ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের কিছু বক্তব্যের ভিত্তিতে কি একইভাবে তাঁদের ফেরত পাঠানো সম্ভব?
উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত ২৮ সেপ্টেম্বর জারি করা বহিষ্কারাদেশ পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত স্থগিত রাখেন। আদেশে বলা হয়, ন্যায়বিচারের স্বার্থে উপযুক্ত আদালতে পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত ওই বহিষ্কারাদেশ কার্যকর থাকবে না। মামলাটি আগামী ১৪ অক্টোবর উপযুক্ত বেঞ্চে উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে শুনানির সময় সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের সুবিধা অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
শহিদুল পেশায় কৃষক। মুর্শিদাবাদের দুবাপাড়া এলাকায় স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে বসবাস করতেন তিনি। তাঁর স্বজনদের দাবি, তাঁর বাবাও ওই এলাকায় থাকতেন।
শহিদুলের স্ত্রী ৩৪ বছর বয়সী দেজিনা বিবি জানান, গত ৮ আগস্ট রাতে রানিনগর থানার পুলিশ অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসী সন্দেহে তাঁর স্বামীকে মুর্শিদাবাদ থেকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি আর স্বামীর দেখা পাননি।

























