গঙ্গা পানি চুক্তি নিয়ে কারিগরি আলোচনা চলছে: ভারত
- আপডেট সময় ০২:০২:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 36
গঙ্গা পানি চুক্তি নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে ভারত। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ কথা বলেন।
চলতি বছরের ডিসেম্বরেই ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির ৩০ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। এ পরিস্থিতিতে চুক্তির পরবর্তী কাঠামো নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে।
বাংলাদেশের পানিসম্পদমন্ত্রী সম্প্রতি বিদ্যমান চুক্তি নবায়নের পরিবর্তে গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে নতুন চুক্তির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান জানতে চাইলে জয়সওয়াল বলেন, গঙ্গাসহ দুই দেশের অভিন্ন নদীগুলোর বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য যৌথ নদী কমিশন রয়েছে। সেই কাঠামোর আওতায় নদীসংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হচ্ছে এবং গঙ্গা পানি চুক্তি নিয়েও কারিগরি পর্যায়ের বৈঠক অব্যাহত রয়েছে।
ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের ঢাকা সফরের বিষয়ে জানতে চাইলে জয়সওয়াল বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য বা আপডেট নেই।
এদিকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান জাতিসংঘে আবারও কাশ্মীর ইস্যু তোলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ওই মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে। তাঁর ভাষ্য, জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং দেশটির ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের বিষয় হওয়ায় এতে কোনো বহিঃস্থ পক্ষের অধিকার বা এখতিয়ার নেই।
ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে ভারত, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকার যৌথ বিবৃতির প্রসঙ্গও আসে ব্রিফিংয়ে। গাজা ও দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে জনসংখ্যাগত পরিবর্তন না করার আহ্বানের বিষয়ে ভারতের অবস্থান জানতে চাইলে জয়সওয়াল বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে উন্নয়ন, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা শেষে যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। ফিলিস্তিন ইস্যুতে ভারতের অবস্থান দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের পক্ষেই রয়েছে বলে জানান তিনি।
পারস্য উপসাগরে ভারতীয় পতাকাবাহী ও ভারতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট জাহাজের সংখ্যা এবং সেখানে কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের বিষয়ে জানতে চাইলে জয়সওয়াল জানান, হরমুজ প্রণালির পশ্চিমে ছয়টি ভারতীয় পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ এবং ভারতের দিকে আসা ছয়টি বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজ রয়েছে। সব মিলিয়ে জাহাজের সংখ্যা ১২টি।
তিনি জানান, এসব জাহাজে ১৬৩ জন ভারতীয় নাবিক কর্মরত আছেন। পুরো অঞ্চলের অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজে আরও ৪ হাজার ৫০০ জনের বেশি ভারতীয় নাবিক কাজ করছেন। শিপিং মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলো তাদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে বলেও জানান তিনি।
সম্প্রতি হাঙ্গেরির একটি গণমাধ্যমে ভারত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় (এসসিও) তুরস্কের সদস্যপদের বিরোধিতা করেছে বলে যে দাবি করা হয়েছে, সে বিষয়েও প্রশ্ন করা হয়। জয়সওয়াল বলেন, এসসিওতে নতুন কোনো সদস্য নেওয়ার বিষয়টি সব সদস্যরাষ্ট্রের সর্বসম্মত ও যৌথ সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে।
ভারত-চীন সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকে দেওয়া দিকনির্দেশনা অনুযায়ী দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে যাচ্ছে।















