বাজারের কলা কৃত্রিমভাবে পাকানো কি না, যেভাবে বুঝবেন
- আপডেট সময় ১১:১০:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 33
সকালের নাশতা থেকে বিকেলের হালকা খাবার—বিভিন্ন সময়ের খাদ্যতালিকায় কলা থাকে অনেকের। সহজলভ্য, পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ এবং সহজে খাওয়া যায় বলে সব বয়সী মানুষের কাছেই ফলটির চাহিদা রয়েছে। তবে বাজার থেকে কলা কেনার সময় অনেকের প্রশ্ন থাকে, সেটি স্বাভাবিকভাবে পেকেছে, নাকি দ্রুত পাকাতে কোনো রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছে।
কলার খোসার রং, দাগ কিংবা ডাঁটার অবস্থা দেখে অনেকেই ফলটি সম্পর্কে ধারণা করার চেষ্টা করেন। তবে শুধু এসব লক্ষণ দেখে কলা কৃত্রিমভাবে পাকানো হয়েছে কি না নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। পরিবহণের সময় চাপ লাগা, সংরক্ষণের পদ্ধতি, বাতাসের আর্দ্রতা এবং তাপমাত্রার পরিবর্তনের কারণেও খোসায় দাগ বা রঙের পরিবর্তন হতে পারে।
বাজারজাত করার সুবিধার জন্য অনেক সময় কলা পুরোপুরি পাকার আগেই গাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়। পরে নির্দিষ্ট পরিবেশে রাখলে সেগুলো ধীরে ধীরে পাকে। প্রাকৃতিকভাবে ফল পাকানোর ক্ষেত্রে ইথাইলিন নামের একটি উদ্ভিদ হরমোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
অনেক ক্ষেত্রে অনুমোদিত পদ্ধতিতে ইথাইলিন ব্যবহার করেও ফল পাকানোর প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করা হয়। তাই ইথাইলিন ব্যবহার করা হলেই কলা ক্ষতিকর হয়ে যায়—এমন ধারণা সঠিক নয়।
তবে কিছু ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ বা অননুমোদিত রাসায়নিক ব্যবহার করে দ্রুত ফল পাকানোর চেষ্টা করা হয়। এ ক্ষেত্রে ক্যালসিয়াম কার্বাইড অন্যতম আলোচিত উপাদান। এর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
কলা কেনার সময় তাই কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি। ফলটিতে অস্বাভাবিক তীব্র বা রাসায়নিক গন্ধ থাকলে তা এড়িয়ে চলা ভালো। একইভাবে খুব উজ্জ্বল হলুদ রং, অস্বাভাবিক শক্ত থাকা সত্ত্বেও পাকা দেখানো কিংবা অস্বাভাবিক ধরনের দাগ দেখা গেলে সতর্ক হওয়া উচিত।
বিশ্বস্ত বিক্রেতার কাছ থেকে ফল কেনার পাশাপাশি বাড়িতে আনার পর সঠিকভাবে সংরক্ষণ করাও গুরুত্বপূর্ণ। কলা অতিরিক্ত নরম হয়ে গেলে, পচনের গন্ধ বের হলে কিংবা ছত্রাকের লক্ষণ দেখা দিলে তা না খাওয়াই নিরাপদ।
তবে শুধু কলার খোসার রং বা ডাঁটা দেখে সেটি কৃত্রিমভাবে পাকানো হয়েছে কি না নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। তাই নিরাপদ উৎস থেকে ফল কেনা এবং স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
























