আদালতে জামিননামা জমা দিলেন এমপি গাজী নজরুল
- আপডেট সময় ০৬:১৬:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 16
ঢাকার পল্লবী থানায় করা হত্যাচেষ্টা মামলায় আদালতে জামিননামা জমা দিয়েছেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। উচ্চ আদালত থেকে আট সপ্তাহের জামিন পাওয়ার পর রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে তিনি জামিননামা জমা দেন।
ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদের আদালতে জামিননামা জমা দেন জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত এই রাজনীতিক।
প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই সাইফুল ইসলাম বলেন, গাজী নজরুল ইসলাম উচ্চ আদালত থেকে আট সপ্তাহের জামিন পেয়েছেন। রোববার তিনি আদালতে সেই জামিননামা জমা দিয়েছেন।
অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে গত ২১ জুলাই পল্লবী থানায় মামলাটি করেন গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান। পরে গত ১০ আগস্ট এই মামলায় গাজী নজরুল ইসলামকে আট সপ্তাহের জামিন দেন হাইকোর্ট।
মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম (৭৪) ছাড়াও আসামি করা হয়েছে আমিনুর রহমান (৫৫), মাসুম বিল্লাহ (৪১), মোতাসসিম বিল্লাহ (২৫) ও রাকিবুল হাসানকে (৩০)।
এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, বাদী ওবায়দুর রহমান পল্লবীর কালশী এলাকার রোজগার্ডেন টাওয়ারে তার বোনের বাসায় থাকতেন। তিনি গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়িচালক হিসেবে কাজ করতেন। আত্মীয়তার সূত্রে নজরুল ইসলাম ওই বাসায় যাতায়াত করতেন।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, একপর্যায়ে নজরুল ইসলামের সঙ্গে ওবায়দুরের ভাগনির অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানতে পেরে ওবায়দুর তার পরিবারকে জানান এবং নজরুল ইসলামকে এ সম্পর্ক থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নজরুল ইসলাম তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, সম্প্রতি মগবাজারের একটি চক্র নজরুল ইসলাম ও তার ভাগনির কিছু ‘অপ্রীতিকর ভিডিও’ সংগ্রহ করে তাকে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে। নজরুল ইসলামের ধারণা হয়, ওবায়দুরই ওই ভিডিও ধারণ করে সংবাদমাধ্যম ও চক্রটির হাতে দিয়েছেন।
এ নিয়ে বিরোধের জেরে গত ১৪ জুলাই নজরুল ইসলামের নির্দেশে অন্য আসামিরা ওবায়দুরের ওপর হামলা চালান বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
ওবায়দুরের বর্ণনা অনুযায়ী, ওই দিন বেলা ১১টার দিকে আমিনুর রহমান তাকে কৌশলে ড্রয়িংরুমে ডেকে নেন। সেখানে অন্য আসামিরা তাকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন। একপর্যায়ে আমিনুর তাকে মেঝেতে ফেলে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ওবায়দুরের মা তাহমিনা ও ছোট বোন মীম এগিয়ে এসে চিৎকার শুরু করলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে আহত অবস্থায় ওবায়দুর স্থানীয় কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, হামলার পর থেকে আসামিরা তাকে যেখানে পাবেন, সেখানেই হত্যা করবেন বলে হুমকি দিয়ে আসছেন।
























