ঢাকা ০৪:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আইফোনের জন্যই অপ্রতিমকে মাথায় আঘাত করে হত্যা: পুলিশ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:৪১:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 32

ছবি: সংগৃহীত

দামি আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা থেকে শিশু ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ের নির্জন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। সেখানে ফোনটি নেওয়ার চেষ্টা করলে অপ্রতিম বাধা দেয়। পরে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয় বলে গ্রেপ্তার আসামিদের জবানবন্দিতে উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অপ্রতিমের নিখোঁজের ঘটনায় করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করা হয়। আশপাশের বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ১৮ সেপ্টেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টা থেকে সোয়া ২টার মধ্যে তুহিন অপ্রতিমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার পাহাড়ঘেরা নির্জন বনের দিকে যায়।

আরও পড়ুন  থ্রিডি প্রিন্ট প্রযুক্তিতে আইফোন ও অ্যাপল ওয়াচ তৈরির পরিকল্পনা

পুলিশ সুপার জানান, অপ্রতিমের মৃত্যুর খবর আনুষ্ঠানিকভাবে পাওয়ার আগেই প্রযুক্তির সহায়তায় তুহিনকে নজরদারিতে আনা হয় এবং পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন অপ্রতিমের আইফোন নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে ওই নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করে। পুলিশ জানায়, এ পরিকল্পনায় ফাহাদ ও কামরুলও জড়িত ছিল। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ফাহাদকে এবং পরে ফাহাদের তথ্য অনুযায়ী কামরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দাবি, ঘটনার দিন বিকেল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে সানন্দা এলাকার গহিন জঙ্গলে অপ্রতিমের ফোন নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। অপ্রতিম এতে বাধা দিলে তাদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। একপর্যায়ে তুহিন এবং পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের ভারী লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করে বলে জবানবন্দিতে উঠে এসেছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অপ্রতিমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর আইফোনটি নিয়ে সেখান থেকে চলে যায় তারা।

ফোন উদ্ধারের বিষয়ে পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর তুহিন তদন্ত কর্মকর্তাদের প্রথমে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেয়। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তিনটি ভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েও ফোনটি পাওয়া যায়নি। পরে জিজ্ঞাসাবাদে সে ফোনটির অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দেয়। এরপর তার নিজ বাড়ি থেকে অপ্রতিমের আইফোন উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় তুহিন, ফাহাদ ও কামরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের জবানবন্দির ভিত্তিতে ঘটনার বিষয়ে এসব তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ছাড়া ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সিয়াম নামে আরও একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ বা কারও মদত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুত মামলার তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে। অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আদালতে বিশেষ আবেদন জানানোর কথাও জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আইফোনের জন্যই অপ্রতিমকে মাথায় আঘাত করে হত্যা: পুলিশ

আপডেট সময় ০৩:৪১:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দামি আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা থেকে শিশু ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ের নির্জন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। সেখানে ফোনটি নেওয়ার চেষ্টা করলে অপ্রতিম বাধা দেয়। পরে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয় বলে গ্রেপ্তার আসামিদের জবানবন্দিতে উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অপ্রতিমের নিখোঁজের ঘটনায় করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করা হয়। আশপাশের বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ১৮ সেপ্টেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টা থেকে সোয়া ২টার মধ্যে তুহিন অপ্রতিমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার পাহাড়ঘেরা নির্জন বনের দিকে যায়।

আরও পড়ুন  ৩ বছরের মেয়েকে হত্যা করে ট্রাংকে লাশ লুকিয়ে রাখলেন মা, নেপথ্যে কী?

পুলিশ সুপার জানান, অপ্রতিমের মৃত্যুর খবর আনুষ্ঠানিকভাবে পাওয়ার আগেই প্রযুক্তির সহায়তায় তুহিনকে নজরদারিতে আনা হয় এবং পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন অপ্রতিমের আইফোন নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে ওই নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করে। পুলিশ জানায়, এ পরিকল্পনায় ফাহাদ ও কামরুলও জড়িত ছিল। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ফাহাদকে এবং পরে ফাহাদের তথ্য অনুযায়ী কামরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দাবি, ঘটনার দিন বিকেল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে সানন্দা এলাকার গহিন জঙ্গলে অপ্রতিমের ফোন নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। অপ্রতিম এতে বাধা দিলে তাদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। একপর্যায়ে তুহিন এবং পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের ভারী লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করে বলে জবানবন্দিতে উঠে এসেছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অপ্রতিমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর আইফোনটি নিয়ে সেখান থেকে চলে যায় তারা।

ফোন উদ্ধারের বিষয়ে পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর তুহিন তদন্ত কর্মকর্তাদের প্রথমে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেয়। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তিনটি ভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েও ফোনটি পাওয়া যায়নি। পরে জিজ্ঞাসাবাদে সে ফোনটির অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দেয়। এরপর তার নিজ বাড়ি থেকে অপ্রতিমের আইফোন উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় তুহিন, ফাহাদ ও কামরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের জবানবন্দির ভিত্তিতে ঘটনার বিষয়ে এসব তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ছাড়া ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সিয়াম নামে আরও একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ বা কারও মদত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুত মামলার তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে। অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আদালতে বিশেষ আবেদন জানানোর কথাও জানান তিনি।