ইয়েমেনে ২৪ ঘণ্টায় ২৬ সৌদি হামলার দাবি হুথিদের
- আপডেট সময় ০৯:৪০:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 49
ইয়েমেনে গত ২৪ ঘণ্টায় হুথি নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন এলাকায় সৌদি আরব ২৬টি হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে হুথি বিদ্রোহীরা। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটিতে চলমান সংঘাতের মধ্যে সৌদি সমর্থিত ইয়েমেন সরকার ও হুথিদের পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে।
শুক্রবার হুথিরা আরও দাবি করে, গত এক সপ্তাহে তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে সৌদি হামলার সংখ্যা প্রায় ৩০০টিতে পৌঁছেছে। এসব হামলায় বিভিন্ন স্থাপনা ও অবস্থান লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে জানায় তারা।
অন্যদিকে সৌদি সমর্থিত ইয়েমেন সরকার জানিয়েছে, তাইজ প্রদেশের আল-ওয়াজিইয়াহ জেলায় সংঘর্ষে তাদের বাহিনীর অভিযানে ৩০ জন হুথি যোদ্ধা নিহত এবং ৬০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। চলতি সপ্তাহে যেসব এলাকায় লড়াই বেড়েছে, সেগুলোর মধ্যে ওই অঞ্চল অন্যতম।
ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী ও হুথি যোদ্ধাদের মধ্যে সংঘাত ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ার পরই সেখানে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার রাজধানী সানায় হাজারো মানুষ মিছিল করে ইরান-সমর্থিত হুথিদের প্রতি সমর্থন জানায় এবং সৌদি আরবের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। একই সময়ে হুথিরা লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব-এল-মান্দেব প্রণালিও ওই অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইয়েমেন সরকার ও হুথিদের মধ্যে সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। নিহতদের মধ্যে তিনজন শিশু ছিল বলে দুই পক্ষের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
সৌদি আরব জানিয়েছে, তায়েফ প্রদেশে হুথিদের একটি ড্রোন প্রতিহত করার পর সেখানে একজন নিহত হন। অন্যদিকে হুথি-সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের দাবি, তাইজ ও আবস শহরে সৌদি হামলায় প্রাণহানি হয়েছে।
ইয়েমেনের পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রও কূটনৈতিকভাবে সক্রিয় হয়েছে। বাব-এল-মান্দেব দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে গত সপ্তাহান্তে ওমানের রাজধানী মাস্কাটে মার্কিন কর্মকর্তারা হুথি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হিসেবে পরিচিত এই প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে উত্তেজনা বাড়ছে।
বৈঠকে হুথিরা ওয়াশিংটনকে আশ্বস্ত করেছে বলে জানা গেছে, সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক নেই—এমন কোনো জাহাজকে তারা লক্ষ্যবস্তু করবে না।
এদিকে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি হামলার আহ্বান জানানো হলেও ওয়াশিংটন এখনো সরাসরি সামরিকভাবে জড়ায়নি। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে বড় ধরনের ব্যয়ের মুখে রয়েছে। নতুন কোনো সংঘাতে জড়ানোর বিষয়ে তাই সতর্ক অবস্থানে রয়েছে দেশটি।
অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কায়া কালাস শুক্রবার জানিয়েছেন, লোহিত সাগরে ইইউর নৌ মিশন ‘অপারেশন অ্যাসপাইডিস’ তাদের সতর্কতার মাত্রা বাড়িয়েছে। অঞ্চলটির পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
কালাস এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, সৌদি আরবের ওপর হুথিদের হামলা গ্রহণযোগ্য নয় এবং এ ধরনের হামলা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর।
তিনি আরও জানান, ইয়েমেনের যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে।






















