ঢাকা ০৮:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘে প্রথম ভাষণে যেসব বিষয় বলবেন প্রধানমন্ত্রী

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৫২:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 134

ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রথমবার ভাষণ দিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বরের ওই ভাষণে রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত এবং পরিবেশ রক্ষায় বাংলাদেশের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরার কথা রয়েছে। এর আগে সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন তিনি।

প্রায় চার দশক পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন একজন বাংলাদেশি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। তাঁর সভাপতিত্বে চলা অধিবেশনেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো ভাষণ দেবেন।

জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রত্যাশা ও অবস্থান বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি অনুযায়ী, ২৩ সেপ্টেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণে একটি নৈশভোজে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দেবেন।

আরও পড়ুন  বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে রাষ্ট্রীয় অভ্যর্থনা

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য যারা বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিতে দায়ী, তাদের কাছ থেকে অর্থায়নের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন বলে বাংলাদেশ মনে করে। এ জন্য গ্রান্টভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়ন গড়ে তুলতে সরকারের প্রচেষ্টার কথাও জাতিসংঘে তুলে ধরা হবে।

পরিবেশ রক্ষায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে গুরুত্ব পাবে বলে জানান তিনি। এর মধ্যে বৃক্ষরোপণ, খাল খনন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর মতো কর্মসূচির কথা তুলে ধরা হবে।

সাইমুম পারভেজ বলেন, পরিবেশ রক্ষায় দেশে নেওয়া কার্যক্রম আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরা হবে। তিনি জানান, পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের প্রত্যাশা, জাতিসংঘের অধিবেশনের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ বাড়তে পারে।

সাইমুম পারভেজ বলেন, পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারের আগ্রহ এবং বিশ্বব্যাপী জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের ভূমিকার মধ্যে সামঞ্জস্য তৈরি হলে বিদেশি বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এদিকে জাতিসংঘের অধিবেশনে রোহিঙ্গা সংকটও বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে থাকবে। এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানিয়েছিলেন, ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের আয়োজন করবে বাংলাদেশ, যেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মূল বক্তা হিসেবে অংশ নেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামও জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম জাতিসংঘ ভাষণে জলবায়ু পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণভাবে উঠে আসবে। বাংলাদেশের জলবায়ু কূটনীতি এবং পরিবেশ রক্ষায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরা হবে বলে তিনি জানান।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে বাংলাদেশের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও তুলে ধরবেন। গণতান্ত্রিক রূপান্তর, দেশের ভবিষ্যৎ এবং বৈশ্বিক শান্তি ও বিভিন্ন সংকটের টেকসই সমাধানে বাংলাদেশের ভূমিকার বিষয়ও তাঁর বক্তব্যে আসতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে ২৬ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

জাতিসংঘে প্রথম ভাষণে যেসব বিষয় বলবেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ১০:৫২:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রথমবার ভাষণ দিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বরের ওই ভাষণে রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত এবং পরিবেশ রক্ষায় বাংলাদেশের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরার কথা রয়েছে। এর আগে সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন তিনি।

প্রায় চার দশক পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন একজন বাংলাদেশি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। তাঁর সভাপতিত্বে চলা অধিবেশনেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো ভাষণ দেবেন।

জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রত্যাশা ও অবস্থান বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি অনুযায়ী, ২৩ সেপ্টেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণে একটি নৈশভোজে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দেবেন।

আরও পড়ুন  জাতিসংঘ মহাসচিবের আহ্বান: ভারত-পাকিস্তানকে শান্ত থাকার পরামর্শ

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য যারা বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিতে দায়ী, তাদের কাছ থেকে অর্থায়নের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন বলে বাংলাদেশ মনে করে। এ জন্য গ্রান্টভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়ন গড়ে তুলতে সরকারের প্রচেষ্টার কথাও জাতিসংঘে তুলে ধরা হবে।

পরিবেশ রক্ষায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে গুরুত্ব পাবে বলে জানান তিনি। এর মধ্যে বৃক্ষরোপণ, খাল খনন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর মতো কর্মসূচির কথা তুলে ধরা হবে।

সাইমুম পারভেজ বলেন, পরিবেশ রক্ষায় দেশে নেওয়া কার্যক্রম আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরা হবে। তিনি জানান, পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের প্রত্যাশা, জাতিসংঘের অধিবেশনের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ বাড়তে পারে।

সাইমুম পারভেজ বলেন, পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারের আগ্রহ এবং বিশ্বব্যাপী জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের ভূমিকার মধ্যে সামঞ্জস্য তৈরি হলে বিদেশি বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এদিকে জাতিসংঘের অধিবেশনে রোহিঙ্গা সংকটও বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে থাকবে। এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানিয়েছিলেন, ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের আয়োজন করবে বাংলাদেশ, যেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মূল বক্তা হিসেবে অংশ নেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামও জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম জাতিসংঘ ভাষণে জলবায়ু পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণভাবে উঠে আসবে। বাংলাদেশের জলবায়ু কূটনীতি এবং পরিবেশ রক্ষায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরা হবে বলে তিনি জানান।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে বাংলাদেশের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও তুলে ধরবেন। গণতান্ত্রিক রূপান্তর, দেশের ভবিষ্যৎ এবং বৈশ্বিক শান্তি ও বিভিন্ন সংকটের টেকসই সমাধানে বাংলাদেশের ভূমিকার বিষয়ও তাঁর বক্তব্যে আসতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে ২৬ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।