নবম পে স্কেল: আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষ হলেই গেজেট
- আপডেট সময় ০৪:৪৪:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 41
সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপনের খসড়া বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ভেটিংয়ের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বাকি আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত শেষ করে গেজেট প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং-সংক্রান্ত প্রায় সব কাজ শেষ হয়েছে। কিছু আনুষ্ঠানিকতা বাকি রয়েছে, সেগুলোও বৃহস্পতিবার বিকেলের মধ্যে শেষ করার চেষ্টা চলছে।
এর আগে গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভা নতুন জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুমোদন করে। নতুন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির কথা থাকলেও প্রায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে যাওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে অপেক্ষা তৈরি হয়। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে থাকায় এ নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই।
নতুন বেতন কাঠামোয় গ্রেডভেদে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে। আর প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে। ফলে গেজেট প্রকাশে কিছুটা সময় লাগলেও কার্যকর হওয়ার তারিখ পরিবর্তন হবে না। নতুন কাঠামো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মূল বেতন ধাপে ধাপে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে ২০২৫ সালে সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ‘জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫’ গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। কমিশন গত ২২ জানুয়ারি সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। সেখানে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়।
কমিশনের সুপারিশে বিদ্যমান সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ধাপের বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি বৈশাখী ভাতা, যাতায়াত ভাতা ও অন্যান্য ভাতা সংস্কারের সুপারিশও ছিল।
পরবর্তীতে কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়। ৩১ আগস্টের বৈঠকে সেটি অনুমোদন পায়। এরপর প্রজ্ঞাপন জারির জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়।
এখন আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষ হলে গেজেট প্রকাশের পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। এতে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।






















