ঢাকা ০৪:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কাপড়ের আড়ালে ৫ কোটি টাকার মোবাইল

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:৪৮:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 30

কাপড়ের আড়ালে ৫ কোটি টাকার মোবাইল চট্টগ্রাম ইপিজেডের বন্ধ একটি প্রতিষ্ঠানের নামে কাপড়ের রোলের আড়ালে হংকং থেকে ঢাকায় আনা হয়েছে ১ হাজার ৬৫৫টি মোবাইল ফোন। শুল্ক গোয়েন্দার হিসাবে, চালানটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা। ৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ারফ্রেইট এলাকা থেকে চালানটি আটক করা হয়। চট্টগ্রাম ইপিজেডের প্রতিষ্ঠান থিয়ানিস অ্যাপারেলসের নামে চালানটি আনা হয়। বেপজার তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ২০২৫ সালের মে মাস থেকে বন্ধ রয়েছে। একই সময় প্রতিষ্ঠানটির আমদানি অনুমোদন নম্বরও বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে প্রতিষ্ঠানটি নিলামে বিক্রি হয়ে যায়। বেপজার অনুমতি ছাড়া ইপিজেডের পণ্য খালাসের সুযোগ না থাকলেও এ ক্ষেত্রে ইপিজেডের আরও দুটি প্রতিষ্ঠান ইয়ং ওয়ান ও রিজেন্সির পুরোনো আইপি নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। ঘটনাটি অনুসন্ধান করতে গিয়ে সিএন্ডএফ এজেন্ট ইউ কে ডোরিনের নামও সামনে আসে। সংশ্লিষ্ট ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করা হলেও ক্যামেরার সামনে এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হয়নি বেপজা। চট্টগ্রামে ইউ কে ডোরিনের কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, আগ্রাবাদের ওই অফিসটি প্রায় তিন বছর আগে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাড়ির মালিকের দাবি, অফিস ছাড়ার পরও প্রতিষ্ঠানটি ভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেনি। বাড়িওয়ালা আব্দুল মান্নান বলেন, তারা প্রায় দুই থেকে তিন বছর আগে অফিস ছেড়ে চলে গেছে। বিদ্যুতের মিটারের ১২ হাজার টাকা নিজেদের অর্থে পরিশোধ করতে হয়েছে। অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, থিয়ানিস অ্যাপারেলসের নামে একটি প্যাড তৈরি করে সেখানে নিজেকে প্রতিষ্ঠানটির কমার্শিয়াল ম্যানেজার হিসেবে পরিচয় দেন তানভির আহমেদ। তার সহযোগী হিসেবে জেটি সরকার রুহুল আমিন কাজ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তানভির আহমেদ সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। ইউ কে ডোরিনের স্বত্বাধিকারী তানভির আহমেদ বলেন, তাকে সরাসরি ফোন করা হয়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইলিয়াস নামে একজন ফোন করার কথা তাকে জানানো হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন বিভাগ থেকে তার কর্মচারীদের কাছে নিয়মিত ফোন আসে এবং আগস্টের শুরুতে একটি পণ্য খালাস করা হয়েছে। থিয়ানিস অ্যাপারেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিসুর রহমান খান বলেন, প্রতিষ্ঠানটির নামে যে প্যাড ব্যবহার করা হয়েছে, সেটি নকল। তার দাবি, তানভির আহমেদ তাদের প্রতিষ্ঠানে কখনো কাজ করেননি এবং তিনি ইউ কে ডোরিনের মালিক। আনিসুর রহমান খান আরও বলেন, বেপজার সঙ্গে তার একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। তাকে হয়রানি বা বিপদে ফেলার উদ্দেশ্যে কেউ এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। এ ঘটনায় শুল্ক গোয়েন্দা মামলা করেছে। ৮ সেপ্টেম্বর চালানটি আটকের পর ঘটনাটি নিয়ে আইনগত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

 

চট্টগ্রাম ইপিজেডের বন্ধ একটি প্রতিষ্ঠানের নামে কাপড়ের রোলের আড়ালে হংকং থেকে ঢাকায় আনা হয়েছে ১ হাজার ৬৫৫টি মোবাইল ফোন। শুল্ক গোয়েন্দার হিসাবে, চালানটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা। ৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ারফ্রেইট এলাকা থেকে চালানটি আটক করা হয়।

চট্টগ্রাম ইপিজেডের প্রতিষ্ঠান থিয়ানিস অ্যাপারেলসের নামে চালানটি আনা হয়। বেপজার তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ২০২৫ সালের মে মাস থেকে বন্ধ রয়েছে। একই সময় প্রতিষ্ঠানটির আমদানি অনুমোদন নম্বরও বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে প্রতিষ্ঠানটি নিলামে বিক্রি হয়ে যায়।

আরও পড়ুন  চট্টগ্রাম ইপিজেডে আগুনে ধসে পড়ছে কারখানার ভবন

বেপজার অনুমতি ছাড়া ইপিজেডের পণ্য খালাসের সুযোগ না থাকলেও এ ক্ষেত্রে ইপিজেডের আরও দুটি প্রতিষ্ঠান ইয়ং ওয়ান ও রিজেন্সির পুরোনো আইপি নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

ঘটনাটি অনুসন্ধান করতে গিয়ে সিএন্ডএফ এজেন্ট ইউ কে ডোরিনের নামও সামনে আসে। সংশ্লিষ্ট ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করা হলেও ক্যামেরার সামনে এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হয়নি বেপজা।

চট্টগ্রামে ইউ কে ডোরিনের কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, আগ্রাবাদের ওই অফিসটি প্রায় তিন বছর আগে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাড়ির মালিকের দাবি, অফিস ছাড়ার পরও প্রতিষ্ঠানটি ভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেনি।

বাড়িওয়ালা আব্দুল মান্নান বলেন, তারা প্রায় দুই থেকে তিন বছর আগে অফিস ছেড়ে চলে গেছে। বিদ্যুতের মিটারের ১২ হাজার টাকা নিজেদের অর্থে পরিশোধ করতে হয়েছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, থিয়ানিস অ্যাপারেলসের নামে একটি প্যাড তৈরি করে সেখানে নিজেকে প্রতিষ্ঠানটির কমার্শিয়াল ম্যানেজার হিসেবে পরিচয় দেন তানভির আহমেদ। তার সহযোগী হিসেবে জেটি সরকার রুহুল আমিন কাজ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তানভির আহমেদ সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। ইউ কে ডোরিনের স্বত্বাধিকারী তানভির আহমেদ বলেন, তাকে সরাসরি ফোন করা হয়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইলিয়াস নামে একজন ফোন করার কথা তাকে জানানো হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন বিভাগ থেকে তার কর্মচারীদের কাছে নিয়মিত ফোন আসে এবং আগস্টের শুরুতে একটি পণ্য খালাস করা হয়েছে।

থিয়ানিস অ্যাপারেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিসুর রহমান খান বলেন, প্রতিষ্ঠানটির নামে যে প্যাড ব্যবহার করা হয়েছে, সেটি নকল। তার দাবি, তানভির আহমেদ তাদের প্রতিষ্ঠানে কখনো কাজ করেননি এবং তিনি ইউ কে ডোরিনের মালিক।

আনিসুর রহমান খান আরও বলেন, বেপজার সঙ্গে তার একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। তাকে হয়রানি বা বিপদে ফেলার উদ্দেশ্যে কেউ এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।

এ ঘটনায় শুল্ক গোয়েন্দা মামলা করেছে। ৮ সেপ্টেম্বর চালানটি আটকের পর ঘটনাটি নিয়ে আইনগত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

কাপড়ের আড়ালে ৫ কোটি টাকার মোবাইল

আপডেট সময় ০২:৪৮:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

চট্টগ্রাম ইপিজেডের বন্ধ একটি প্রতিষ্ঠানের নামে কাপড়ের রোলের আড়ালে হংকং থেকে ঢাকায় আনা হয়েছে ১ হাজার ৬৫৫টি মোবাইল ফোন। শুল্ক গোয়েন্দার হিসাবে, চালানটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা। ৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ারফ্রেইট এলাকা থেকে চালানটি আটক করা হয়।

চট্টগ্রাম ইপিজেডের প্রতিষ্ঠান থিয়ানিস অ্যাপারেলসের নামে চালানটি আনা হয়। বেপজার তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ২০২৫ সালের মে মাস থেকে বন্ধ রয়েছে। একই সময় প্রতিষ্ঠানটির আমদানি অনুমোদন নম্বরও বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে প্রতিষ্ঠানটি নিলামে বিক্রি হয়ে যায়।

আরও পড়ুন  সাপ্লাইয়ের পানি পান করে দুই দিনে ঈশ্বরদী ইপিজেডে ৫ শতাধিক শ্রমিক ডায়রিয়ায় আক্রান্ত

বেপজার অনুমতি ছাড়া ইপিজেডের পণ্য খালাসের সুযোগ না থাকলেও এ ক্ষেত্রে ইপিজেডের আরও দুটি প্রতিষ্ঠান ইয়ং ওয়ান ও রিজেন্সির পুরোনো আইপি নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

ঘটনাটি অনুসন্ধান করতে গিয়ে সিএন্ডএফ এজেন্ট ইউ কে ডোরিনের নামও সামনে আসে। সংশ্লিষ্ট ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করা হলেও ক্যামেরার সামনে এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হয়নি বেপজা।

চট্টগ্রামে ইউ কে ডোরিনের কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, আগ্রাবাদের ওই অফিসটি প্রায় তিন বছর আগে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাড়ির মালিকের দাবি, অফিস ছাড়ার পরও প্রতিষ্ঠানটি ভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেনি।

বাড়িওয়ালা আব্দুল মান্নান বলেন, তারা প্রায় দুই থেকে তিন বছর আগে অফিস ছেড়ে চলে গেছে। বিদ্যুতের মিটারের ১২ হাজার টাকা নিজেদের অর্থে পরিশোধ করতে হয়েছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, থিয়ানিস অ্যাপারেলসের নামে একটি প্যাড তৈরি করে সেখানে নিজেকে প্রতিষ্ঠানটির কমার্শিয়াল ম্যানেজার হিসেবে পরিচয় দেন তানভির আহমেদ। তার সহযোগী হিসেবে জেটি সরকার রুহুল আমিন কাজ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তানভির আহমেদ সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। ইউ কে ডোরিনের স্বত্বাধিকারী তানভির আহমেদ বলেন, তাকে সরাসরি ফোন করা হয়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইলিয়াস নামে একজন ফোন করার কথা তাকে জানানো হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন বিভাগ থেকে তার কর্মচারীদের কাছে নিয়মিত ফোন আসে এবং আগস্টের শুরুতে একটি পণ্য খালাস করা হয়েছে।

থিয়ানিস অ্যাপারেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিসুর রহমান খান বলেন, প্রতিষ্ঠানটির নামে যে প্যাড ব্যবহার করা হয়েছে, সেটি নকল। তার দাবি, তানভির আহমেদ তাদের প্রতিষ্ঠানে কখনো কাজ করেননি এবং তিনি ইউ কে ডোরিনের মালিক।

আনিসুর রহমান খান আরও বলেন, বেপজার সঙ্গে তার একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। তাকে হয়রানি বা বিপদে ফেলার উদ্দেশ্যে কেউ এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।

এ ঘটনায় শুল্ক গোয়েন্দা মামলা করেছে। ৮ সেপ্টেম্বর চালানটি আটকের পর ঘটনাটি নিয়ে আইনগত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।