ব্রিকসের নয়াদিল্লি ঘোষণায় যুদ্ধ ও শুল্কের নিন্দা
- আপডেট সময় ০৭:৩৩:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 45
ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা’ গ্রহণ করেছেন জোটের নেতারা। ঘোষণায় একতরফা যুদ্ধের পদক্ষেপ, নির্বিচারে শুল্ক ও অশুল্ক ব্যবস্থা এবং সুরক্ষাবাদী বাণিজ্যনীতির নিন্দা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদসহ বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের সমাপনী পর্বে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঐকমত্যের ভিত্তিতে তৈরি ঘোষণাটি প্রকাশ করেন।
ঘোষণায় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ‘কাঠামোগত পরিবর্তন’সহ বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আফ্রিকা, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের উন্নয়নশীল দেশগুলোর নিরাপত্তা পরিষদে আরও বেশি প্রতিনিধিত্বের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।
সম্মেলনে নিরাপত্তা পরিষদের দুই স্থায়ী সদস্য চীন ও রাশিয়া জাতিসংঘে, বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদে, আরও বড় ভূমিকা পালনে ব্রাজিল ও ভারতের আকাঙ্ক্ষার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।
সমাপনী বক্তব্যে মোদি বলেন, পরিবর্তনশীল বিশ্বকে পুরোনো প্রতিষ্ঠান দিয়ে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। প্রতিনিধিত্ব, কার্যকারিতা এবং নিয়ম প্রণয়নের ক্ষেত্রে সংস্কার প্রয়োজন। ভবিষ্যতের প্রযুক্তি এবং সেগুলোর পরিচালনার নিয়ম তৈরিতে ‘গ্লোবাল সাউথের’ সমান অংশগ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, গৃহীত নয়াদিল্লি ঘোষণা ব্রিকসের সম্মিলিত অঙ্গীকারের একটি স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছে। এখন এসব সিদ্ধান্তকে বাস্তব ফলাফলে রূপ দেওয়া সদস্য দেশগুলোর দায়িত্ব।
ঘোষণায় ব্রিকসের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের পরিবর্তে স্থানীয় মুদ্রার ব্যবহার বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সংস্কার এবং একটি উন্মুক্ত, স্বচ্ছ, ন্যায্য ও নিয়মভিত্তিক বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
ব্রিকস বলেছে, বহুপক্ষীয় বাণিজ্য ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে সংকটের মধ্যে রয়েছে। ডব্লিউটিওর নিয়মের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ, নির্বিচারে শুল্ক ও অশুল্ক ব্যবস্থা বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত লক্ষ্য অর্জনের নামে সুরক্ষাবাদী নীতি বিশ্ব বাণিজ্য কমিয়ে দিতে পারে। একই সঙ্গে এসব পদক্ষেপ বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটিয়ে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে অনিশ্চয়তা বাড়াতে পারে বলে ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
একতরফাভাবে শুল্ক ও অশুল্ক ব্যবস্থা বাড়ানোর ঘটনায় গভীর উদ্বেগও প্রকাশ করেছে ব্রিকস। এসব পদক্ষেপ বাণিজ্যকে বিকৃত করে এবং ডব্লিউটিওর নিয়মের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। উদীয়মান বাজার ও উন্নয়নশীল অর্থনীতির প্রয়োজন ও অগ্রাধিকার বিবেচনায় নিয়ে বহুপক্ষীয় বাণিজ্য ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে সদস্য দেশগুলো একসঙ্গে কাজ করার কথা জানিয়েছে।
ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক আগ্রাসনের প্রেক্ষাপটে সমুদ্রপথে বাণিজ্য ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ‘একতরফা যুদ্ধের পদক্ষেপের’ নিন্দা জানানো হয়েছে।
ব্রিকসের ঘোষণায় সন্ত্রাসবাদেরও তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। এতে ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার কথা উল্লেখ করে ওই হামলার নিন্দা জানানো হয়। হামলায় ২৬ জন নিহত এবং আরও অনেকে আহত হন বলে ঘোষণায় বলা হয়েছে।
ঘোষণায় সব ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে অপরাধমূলক ও অগ্রহণযোগ্য হিসেবে উল্লেখ করে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে সীমান্তপারের সন্ত্রাসীদের চলাচল, সন্ত্রাসে অর্থায়ন এবং সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয় দেওয়ার বিষয়ও রয়েছে। একই সঙ্গে সন্ত্রাসবাদকে কোনো ধর্ম, জাতীয়তা, সভ্যতা বা জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি এবং তাদের সহযোগীদের সংশ্লিষ্ট জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী জবাবদিহির আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করার কথাও বলা হয়েছে।
শনিবারের সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংসহ ব্রিকসের বিভিন্ন দেশের নেতারা অংশ নেন। জোট প্রতিষ্ঠার দুই দশক পূর্তি এবং মূল সদস্যদের বাইরে এর সম্প্রসারণের পর নয়াদিল্লি ঘোষণা গ্রহণ করা হলো।























