ঢাকা ০৮:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :
আমিরাতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করল আলজেরিয়া দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা চান রাষ্ট্রপতি বিলুপ্ত হলো র‍্যাব, সংসদে বিল পাস ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু কেড়ে নিল ৬ প্রাণ, আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ১,৪৯২ ফিলিস্তিনিদের পাশে সবসময় থাকবে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মাননীয় নয়, শুধু প্রধানমন্ত্রী: নিজ দপ্তর থেকেই নির্দেশনা বাস্তবায়ন প্রধানমন্ত্রীর গণঅভ্যুত্থানের অঙ্গীকার ছিল র‍্যাব বিলুপ্ত করা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে: রাষ্ট্রপতি ‘আ.লীগ এভাবে পালাবে, কোনো জ্যোতিষও ভাবেনি: ধর্মমন্ত্রী ইরানকে হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রাখার অনুরোধ পাকিস্তানের

আমিরাতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করল আলজেরিয়া

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:৫৮:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 1

ছবি সংগৃহীত

 

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ধারাবাহিক ‘উসকানিমূলক ও বৈরী’ আচরণের অভিযোগ তুলে দেশটির সঙ্গে সব ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে আলজেরিয়া। একই সঙ্গে আলজেরিয়ায় নিযুক্ত আমিরাতের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে দেশ ছাড়তে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে আলজেরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্তের কথা জানায়।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশ-আলজেরিয়া বাণিজ্য বাড়াতে যৌথ উদ্যোগের আহ্বান

বিবৃতিতে বলা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্মকাণ্ড এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা আর গ্রহণযোগ্য বা সহ্য করার মতো নয়। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখা ও রক্ষার সব পথ শেষ হয়ে যাওয়ায় আলজেরিয়া সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।

আলজেরিয়ার এ ঘোষণার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের সম্পর্কে ক্রমেই উত্তেজনা বাড়ছিল। আলজেরিয়ার বিভিন্ন গণমাধ্যমে আমিরাতের সমালোচনা করে অভিযোগ করা হচ্ছিল, আবুধাবি উত্তর আফ্রিকা ও আশপাশের অঞ্চলে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

দুই দেশের বিরোধের পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক বিষয় রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রশ্ন। আলজেরিয়া দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিরোধিতা করে আসছে। বিপরীতে ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া ‘আব্রাহাম চুক্তি’র মাধ্যমে ইসরায়েলের সঙ্গে পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে সংযুক্ত আরব আমিরাত।

একই প্রক্রিয়ায় আলজেরিয়ার প্রধান আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী মরক্কোও ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক গড়ে তোলে।

পশ্চিম সাহারা ইস্যুতেও দুই দেশের অবস্থান পরস্পরবিরোধী। আমিরাত পশ্চিম সাহারার ওপর মরক্কোর সার্বভৌমত্বকে সমর্থন করে এবং সেখানে নিজেদের কনস্যুলেটও স্থাপন করেছে। অন্যদিকে আলজেরিয়া স্বাধীন পশ্চিম সাহারার দাবিতে আন্দোলনরত পলিসারিও ফ্রন্টকে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে সমর্থন ও সহায়তা দিয়ে আসছে।

সাহেল অঞ্চলের ভূরাজনীতিতেও দুই দেশের স্বার্থের সংঘাত রয়েছে। সামরিক অভ্যুত্থানের পর সাহেল অঞ্চলের কয়েকটি প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আলজেরিয়ার দূরত্ব বাড়তে থাকলেও ওই সামরিক সরকারগুলোর সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।

গত বছর আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট আবদেলমাজিদ তেব্বুন সরাসরি আমিরাতের নাম উল্লেখ না করে দেশটির সমালোচনা করেছিলেন। সে সময় সৌদি আরব, কুয়েত, ওমান ও কাতারের সঙ্গে আলজেরিয়ার সম্পর্ককে ‘ভ্রাতৃত্বপূর্ণ’ উল্লেখ করে তিনি বলেছিলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের একটি দেশের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েন রয়েছে।

ওই দেশটির বিরুদ্ধে আলজেরিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টার অভিযোগও করেছিলেন তিনি।

দুই দেশের উত্তেজনার মধ্যে গত ফেব্রুয়ারিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে ২০১৩ সালের মে মাসে আবুধাবিতে স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক বিমান পরিষেবা চুক্তি বাতিলের আইনি প্রক্রিয়াও শুরু করেছিল আলজেরিয়া।

নিউজটি শেয়ার করুন

আমিরাতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করল আলজেরিয়া

আপডেট সময় ০৭:৫৮:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ধারাবাহিক ‘উসকানিমূলক ও বৈরী’ আচরণের অভিযোগ তুলে দেশটির সঙ্গে সব ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে আলজেরিয়া। একই সঙ্গে আলজেরিয়ায় নিযুক্ত আমিরাতের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে দেশ ছাড়তে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে আলজেরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্তের কথা জানায়।

আরও পড়ুন  কাশ্মীর প্রসঙ্গে পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের মন্তব্যে কূটনৈতিক অঙ্গনে আলোড়ন

বিবৃতিতে বলা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্মকাণ্ড এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা আর গ্রহণযোগ্য বা সহ্য করার মতো নয়। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখা ও রক্ষার সব পথ শেষ হয়ে যাওয়ায় আলজেরিয়া সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।

আলজেরিয়ার এ ঘোষণার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের সম্পর্কে ক্রমেই উত্তেজনা বাড়ছিল। আলজেরিয়ার বিভিন্ন গণমাধ্যমে আমিরাতের সমালোচনা করে অভিযোগ করা হচ্ছিল, আবুধাবি উত্তর আফ্রিকা ও আশপাশের অঞ্চলে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

দুই দেশের বিরোধের পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক বিষয় রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রশ্ন। আলজেরিয়া দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিরোধিতা করে আসছে। বিপরীতে ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া ‘আব্রাহাম চুক্তি’র মাধ্যমে ইসরায়েলের সঙ্গে পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে সংযুক্ত আরব আমিরাত।

একই প্রক্রিয়ায় আলজেরিয়ার প্রধান আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী মরক্কোও ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক গড়ে তোলে।

পশ্চিম সাহারা ইস্যুতেও দুই দেশের অবস্থান পরস্পরবিরোধী। আমিরাত পশ্চিম সাহারার ওপর মরক্কোর সার্বভৌমত্বকে সমর্থন করে এবং সেখানে নিজেদের কনস্যুলেটও স্থাপন করেছে। অন্যদিকে আলজেরিয়া স্বাধীন পশ্চিম সাহারার দাবিতে আন্দোলনরত পলিসারিও ফ্রন্টকে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে সমর্থন ও সহায়তা দিয়ে আসছে।

সাহেল অঞ্চলের ভূরাজনীতিতেও দুই দেশের স্বার্থের সংঘাত রয়েছে। সামরিক অভ্যুত্থানের পর সাহেল অঞ্চলের কয়েকটি প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আলজেরিয়ার দূরত্ব বাড়তে থাকলেও ওই সামরিক সরকারগুলোর সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।

গত বছর আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট আবদেলমাজিদ তেব্বুন সরাসরি আমিরাতের নাম উল্লেখ না করে দেশটির সমালোচনা করেছিলেন। সে সময় সৌদি আরব, কুয়েত, ওমান ও কাতারের সঙ্গে আলজেরিয়ার সম্পর্ককে ‘ভ্রাতৃত্বপূর্ণ’ উল্লেখ করে তিনি বলেছিলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের একটি দেশের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েন রয়েছে।

ওই দেশটির বিরুদ্ধে আলজেরিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টার অভিযোগও করেছিলেন তিনি।

দুই দেশের উত্তেজনার মধ্যে গত ফেব্রুয়ারিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে ২০১৩ সালের মে মাসে আবুধাবিতে স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক বিমান পরিষেবা চুক্তি বাতিলের আইনি প্রক্রিয়াও শুরু করেছিল আলজেরিয়া।