মায়ের কবরের পাশেই দাফন হবে সেনাসদস্য রিফাতের
- আপডেট সময় ০৯:২৯:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 60
ভোরের আলো ফুটলেও রাজশাহীর পবা উপজেলার বিন্দারামপুর গ্রামের তাসনিম রিফাতের বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ট্যাংক ফায়ারিং দুর্ঘটনায় নিহত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মড কোরের সদস্য সৈনিক (গানার) তাসনিম রিফাতের মরদেহের অপেক্ষায় রয়েছেন স্বজনরা। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মায়ের কবরের পাশেই দাফন করা হবে তাকে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে পবা উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়নের বিন্দারামপুর গ্রামে রিফাতের বাড়িতে গিয়ে স্বজন ও স্থানীয়দের ভিড় দেখা যায়। বাড়ির আঙিনায় নারী-পুরুষের উপস্থিতি থাকলেও চারপাশে ছিল শোকের আবহ। অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী বাবা আসাদুল হক নীরবে বসে ছিলেন। ঘরের ভেতর থেকে স্বজনদের কান্নার শব্দ ভেসে আসছিল।
এর আগে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ার রেঞ্জে ট্যাংক ফায়ারিংয়ের সময় দুর্ঘটনায় নিহত হন ২৮ বছর বয়সী তাসনিম রিফাত। তার মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছানোর পর থেকেই পরিবারে চলছে শোক ও আহাজারি।
সেনাবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বেলা ১২টার দিকে হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ার রেঞ্জে ট্যাংক ফায়ারিং চলাকালে দুর্ঘটনাবশত ট্যাংকের ভেতরে গোলা বিস্ফোরিত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই রিফাতের মৃত্যু হয়। তিনি চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ১৫ স্বতন্ত্র সাঁজোয়া স্কোয়াড্রনে কর্মরত ছিলেন।
রিফাতের মা তিন বছর আগে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। মায়ের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই ছেলেকে হারিয়ে পরিবারটি আবারও গভীর শোকে পড়েছে।
চার ভাইবোনের মধ্যে রিফাত ছিলেন দ্বিতীয়। তার বড় ভাই এবি মাহমুদ দীপ্ত এবং ছোট ভাই শামসাদ আহমেদ বিশাল। ভাইয়ের আকস্মিক মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তারা।
রিফাত বিবাহিত ছিলেন। স্ত্রী ও ছোট মেয়েকে নিয়ে চট্টগ্রাম সেনানিবাসের সরকারি বাসভবনে থাকতেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, মেয়েকে ঘিরে রিফাতের অনেক স্বপ্ন ছিল। তার সঙ্গে সময় কাটানো এবং মেয়েকে বড় হতে দেখার আকাঙ্ক্ষা ছিল। তার আকস্মিক মৃত্যুতে সেই স্বপ্নগুলো আর পূরণ হলো না।
ছোট ভাইয়ের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বড় ভাই এবি মাহমুদ দীপ্ত। তিনি বলেন, পিঠাপিঠি দুই ভাই একসঙ্গে বড় হয়েছেন। একই ক্লাসে পড়েছেন। হঠাৎ করে ভাইকে হারানোর বিষয়টি তিনি মেনে নিতে পারছেন না।
নিহত রিফাতের বাবা আসাদুল হক বলেন, গত কোরবানি ছুটিতে রিফাত গ্রামের বাড়িতে এসেছিল। এরপর নিয়মিত যোগাযোগ হতো। মৃত্যুর কয়েকদিন আগেও ভিডিও কলে ছেলের সঙ্গে কথা হয়েছিল তার।
ছেলেকে হারিয়ে শোকাহত বাবা বলেন, স্ত্রীকে ক্যানসারে হারানোর পর এবার ছেলেকেও হারাতে হলো। বাবার কাঁধে ছেলের লাশ কতটা ভারী, তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তিনি জানান, মায়ের কবরের পাশেই রিফাতকে দাফন করা হবে।
সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে ঢাকা থেকে রিফাতের মরদেহ রাজশাহী ক্যান্টনমেন্টে নেওয়ার কথা রয়েছে। সেখান থেকে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হবে। এরপর নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে।





















