ঢাকা ০২:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বন্যার আতঙ্ক না কাটতেই নেপালে ৫ মাত্রার ভূমিকম্প

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:০৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 27

ছবি সংগৃহীত

 

ভয়াবহ বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই নেপালে আঘাত হেনেছে ৫ মাত্রার ভূমিকম্প। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ৯টা ৩৮ মিনিটে দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়।

ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১৪৩ কিলোমিটার গভীরে। এর উপকেন্দ্র ছিল ২৯.০২২ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ ও ৮৩.৯৭৮ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে।

আরও পড়ুন  নেপাল পুনর্গঠনে লাগবে ৫ বিলিয়ন ডলার

ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল গভীরে হওয়ায় ভূপৃষ্ঠে এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের স্থাপনা ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এরই মধ্যে ভয়াবহ বন্যার ধাক্কা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে নেপাল। ভোতে কোশি নদীর ভয়াবহ বন্যার পর দেশটিতে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান ১৪তম দিনে গড়িয়েছে।

নেপাল পুলিশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত ৮টা পর্যন্ত দুর্যোগে ১ হাজার ৩৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৪ হাজার ৭৭৭ জন।

উদ্ধার হওয়া মরদেহ ও দেহাবশেষের মধ্যে ৫৩৩ জন পুরুষ ও ৩৩৯ জন নারী। এ ছাড়া ৫০২টি দেহাবশেষের আংশিক অংশ পাওয়া গেছে। এখন পর্যন্ত ১০২টি মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি—এমন মরদেহের ফরেনসিক প্রক্রিয়া শেষ করে ১ হাজার ১৪৭টি মরদেহ সমাহিত করা হয়েছে।

নিখোঁজদের মধ্যে ৩ হাজার ৪৬৯ জন নেপালি নাগরিক। তাদের মধ্যে ২ হাজার ৯০৭ জন পুরুষ ও ৫৬২ জন নারী। পাশাপাশি ৩৫টি দেশের প্রায় ৬০০ বিদেশি নাগরিকও নিখোঁজ রয়েছেন।

নেপাল পুলিশের নেতৃত্বে পরিচালিত উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রমে এখন পর্যন্ত ৯ হাজার ২৫৪ জনকে উদ্ধার অথবা আহত অবস্থায় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৬ হাজার ৩৮০ জন পুরুষ, ২ হাজার ৮২৪ জন নারী এবং পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি এমন ৫০ জন রয়েছেন। বাস্তুচ্যুত ৩ হাজার ৩০ জনকে বিভিন্ন অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।

নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্তে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৬৯৮টি ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে মৃতদের ১ হাজার ২৮৬টি এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের ১ হাজার ৪১২টি নমুনা রয়েছে। পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি এমন ১ হাজার ৩১০ জনের ছবি ও প্রোফাইল সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

উদ্ধার অভিযানে নেপাল পুলিশের প্রায় ৭ হাজার ৯৭৫ সদস্য মাঠে কাজ করছেন। দুর্যোগে পুলিশের ৬৫ সদস্যও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৫ জনের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের সংখ্যা প্রায় ৬০০। বিপুল ক্ষয়ক্ষতির মধ্যেও উদ্ধারকারীরা এখন পর্যন্ত ১৩ হাজার ৫৮৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছেন। তাদের মধ্যে ৩০০ জনের বেশি বিদেশি নাগরিক।

গত পাঁচ দিনে ধ্বংসস্তূপ থেকে চারজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ৪ সেপ্টেম্বর আপার ত্রিশূলি-৩এ জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের টানেল থেকে দুই নেপালি নাগরিককে উদ্ধার করা হয়। একইভাবে আপার ত্রিশূলি-১ টানেল থেকে একজন চীনা নাগরিক এবং ৫ সেপ্টেম্বর বেত্রাবতীর একটি ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি থেকে একজন নেপালি নাগরিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

মাইলুং খোলা, আপার ত্রিশূলি-১, ৩এ ও ৩বি, চিলিমে, রাসুওয়াগাড়ি এবং লাংটাংসহ ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে এখনো উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চলছে।

উদ্ধারকাজে নেপালের সঙ্গে ভারত, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষায়িত টানেল উদ্ধারকারী দল অংশ নিয়েছে। নেপালি সেনাবাহিনীর পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার উদ্ধারকারী দলও মাঠে কাজ করছে।

নিখোঁজদের সন্ধানে ড্রোন, ভারী খননযন্ত্র এবং পানির নিচে চলাচলকারী ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বিশেষায়িত সরঞ্জাম চেয়েছে নেপাল। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ড্রোন, লিডার ব্যবস্থা, অস্থায়ী সেতু, পানির নিচে চলাচলকারী ড্রোন, জেনারেটর, পানি নিষ্কাশন পাম্প এবং দ্রুত ডিএনএ পরীক্ষার কিট।

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, রাসুওয়া ও নুওয়াকোট জেলার ৩৪টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে বর্তমানে ৩ হাজার ৩২৮ জন বাস্তুচ্যুত মানুষ অবস্থান করছেন। জরুরি চিকিৎসা দলগুলো এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৭২২ জনের বেশি রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছে। পাশাপাশি ৪ হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষকে মানসিক সহায়তা ও কাউন্সেলিং দেওয়া হয়েছে।

ভূমিধসের কারণে কিমরুং নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় নয়াপুল ও বিরেথান্থি এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক করে নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পরিচয় শনাক্তের কাজে ভারত, চীন, জাপান, সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ কোরিয়ার ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা নেপালের স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করছেন। নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধান করা পরিবারগুলোকে কাঠমান্ডুর মহারাজগঞ্জে নেপাল পুলিশ হাসপাতালে যোগাযোগ অথবা সরকারি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ডিএনএ প্রোফাইল জমা দিতে বলা হয়েছে।

এদিকে নেপালে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত নবীন শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, চিলিমে টানেল থেকে ধ্বংসাবশেষ ও কাদা সরিয়ে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে ভারত ও নেপালের যৌথ দল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, ঢালু টানেলের কারণে উদ্ধারকাজে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় ভেতরে চলাচল সহজ করতে এইচডিপিই পাইপ স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে সিয়াফ্রুবেশি থেকে টানেলের প্রবেশমুখ পর্যন্ত একটি অস্থায়ী সড়ক তৈরির কাজও এগিয়ে চলছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

বন্যার আতঙ্ক না কাটতেই নেপালে ৫ মাত্রার ভূমিকম্প

আপডেট সময় ০৯:০৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

ভয়াবহ বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই নেপালে আঘাত হেনেছে ৫ মাত্রার ভূমিকম্প। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ৯টা ৩৮ মিনিটে দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়।

ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১৪৩ কিলোমিটার গভীরে। এর উপকেন্দ্র ছিল ২৯.০২২ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ ও ৮৩.৯৭৮ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে।

আরও পড়ুন  তিব্বতে শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রাণহানি ৫৩, আহত অর্ধশতাধিক

ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল গভীরে হওয়ায় ভূপৃষ্ঠে এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের স্থাপনা ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এরই মধ্যে ভয়াবহ বন্যার ধাক্কা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে নেপাল। ভোতে কোশি নদীর ভয়াবহ বন্যার পর দেশটিতে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান ১৪তম দিনে গড়িয়েছে।

নেপাল পুলিশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত ৮টা পর্যন্ত দুর্যোগে ১ হাজার ৩৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৪ হাজার ৭৭৭ জন।

উদ্ধার হওয়া মরদেহ ও দেহাবশেষের মধ্যে ৫৩৩ জন পুরুষ ও ৩৩৯ জন নারী। এ ছাড়া ৫০২টি দেহাবশেষের আংশিক অংশ পাওয়া গেছে। এখন পর্যন্ত ১০২টি মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি—এমন মরদেহের ফরেনসিক প্রক্রিয়া শেষ করে ১ হাজার ১৪৭টি মরদেহ সমাহিত করা হয়েছে।

নিখোঁজদের মধ্যে ৩ হাজার ৪৬৯ জন নেপালি নাগরিক। তাদের মধ্যে ২ হাজার ৯০৭ জন পুরুষ ও ৫৬২ জন নারী। পাশাপাশি ৩৫টি দেশের প্রায় ৬০০ বিদেশি নাগরিকও নিখোঁজ রয়েছেন।

নেপাল পুলিশের নেতৃত্বে পরিচালিত উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রমে এখন পর্যন্ত ৯ হাজার ২৫৪ জনকে উদ্ধার অথবা আহত অবস্থায় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৬ হাজার ৩৮০ জন পুরুষ, ২ হাজার ৮২৪ জন নারী এবং পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি এমন ৫০ জন রয়েছেন। বাস্তুচ্যুত ৩ হাজার ৩০ জনকে বিভিন্ন অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।

নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্তে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৬৯৮টি ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে মৃতদের ১ হাজার ২৮৬টি এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের ১ হাজার ৪১২টি নমুনা রয়েছে। পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি এমন ১ হাজার ৩১০ জনের ছবি ও প্রোফাইল সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

উদ্ধার অভিযানে নেপাল পুলিশের প্রায় ৭ হাজার ৯৭৫ সদস্য মাঠে কাজ করছেন। দুর্যোগে পুলিশের ৬৫ সদস্যও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৫ জনের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের সংখ্যা প্রায় ৬০০। বিপুল ক্ষয়ক্ষতির মধ্যেও উদ্ধারকারীরা এখন পর্যন্ত ১৩ হাজার ৫৮৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছেন। তাদের মধ্যে ৩০০ জনের বেশি বিদেশি নাগরিক।

গত পাঁচ দিনে ধ্বংসস্তূপ থেকে চারজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ৪ সেপ্টেম্বর আপার ত্রিশূলি-৩এ জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের টানেল থেকে দুই নেপালি নাগরিককে উদ্ধার করা হয়। একইভাবে আপার ত্রিশূলি-১ টানেল থেকে একজন চীনা নাগরিক এবং ৫ সেপ্টেম্বর বেত্রাবতীর একটি ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি থেকে একজন নেপালি নাগরিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

মাইলুং খোলা, আপার ত্রিশূলি-১, ৩এ ও ৩বি, চিলিমে, রাসুওয়াগাড়ি এবং লাংটাংসহ ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে এখনো উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চলছে।

উদ্ধারকাজে নেপালের সঙ্গে ভারত, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষায়িত টানেল উদ্ধারকারী দল অংশ নিয়েছে। নেপালি সেনাবাহিনীর পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার উদ্ধারকারী দলও মাঠে কাজ করছে।

নিখোঁজদের সন্ধানে ড্রোন, ভারী খননযন্ত্র এবং পানির নিচে চলাচলকারী ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বিশেষায়িত সরঞ্জাম চেয়েছে নেপাল। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ড্রোন, লিডার ব্যবস্থা, অস্থায়ী সেতু, পানির নিচে চলাচলকারী ড্রোন, জেনারেটর, পানি নিষ্কাশন পাম্প এবং দ্রুত ডিএনএ পরীক্ষার কিট।

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, রাসুওয়া ও নুওয়াকোট জেলার ৩৪টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে বর্তমানে ৩ হাজার ৩২৮ জন বাস্তুচ্যুত মানুষ অবস্থান করছেন। জরুরি চিকিৎসা দলগুলো এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৭২২ জনের বেশি রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছে। পাশাপাশি ৪ হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষকে মানসিক সহায়তা ও কাউন্সেলিং দেওয়া হয়েছে।

ভূমিধসের কারণে কিমরুং নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় নয়াপুল ও বিরেথান্থি এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক করে নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পরিচয় শনাক্তের কাজে ভারত, চীন, জাপান, সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ কোরিয়ার ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা নেপালের স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করছেন। নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধান করা পরিবারগুলোকে কাঠমান্ডুর মহারাজগঞ্জে নেপাল পুলিশ হাসপাতালে যোগাযোগ অথবা সরকারি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ডিএনএ প্রোফাইল জমা দিতে বলা হয়েছে।

এদিকে নেপালে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত নবীন শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, চিলিমে টানেল থেকে ধ্বংসাবশেষ ও কাদা সরিয়ে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে ভারত ও নেপালের যৌথ দল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, ঢালু টানেলের কারণে উদ্ধারকাজে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় ভেতরে চলাচল সহজ করতে এইচডিপিই পাইপ স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে সিয়াফ্রুবেশি থেকে টানেলের প্রবেশমুখ পর্যন্ত একটি অস্থায়ী সড়ক তৈরির কাজও এগিয়ে চলছে।