ঢাকা ০১:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :
আগামীকাল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হচ্ছেন খলিলুর রহমান ‘চ্যাম্পিয়ন্স লিগ আমাদের প্রতিযোগিতা, এবার শিরোপা জিতব’—ভিনিসিয়ুস সিগারেটের দাম বাড়ছে, নিম্নস্তরে ১০ শলাকায় নতুন মূল্য ৬৫ টাকা অটোরিকশা বন্ধের বদলে নিয়ন্ত্রণ, সরকারের নতুন পরিকল্পনা ভুয়া মেজর-কর্নেলের পরিচয়ে প্রতারণা, স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের বাণিজ্য-বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা ‘বই মানুষকে চিন্তার শক্তি দেয়, ভাবনাশক্তি বাড়ায়’ – খাদ্যমন্ত্রী চিকিৎসক-রোগীর নিরাপত্তা অগ্রাধিকার: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের অভিযোগ সিঙ্গাপুরের শীর্ষ ৫০ ধনীর তালিকা থেকে বাদ আজিজ খান

অটোরিকশা বন্ধের বদলে নিয়ন্ত্রণ, সরকারের নতুন পরিকল্পনা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৪১:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 23

ছবি সংগৃহীত

 

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা সম্পূর্ণ বন্ধ না করে নিবন্ধন, ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও নির্দিষ্ট এলাকায় চলাচলের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে এসব যানবাহনে ব্যবহৃত লেড-এসিড ব্যাটারির পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব ব্যাটারি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে উত্থাপিত একটি নোটিশের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এসব তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু ৭১ বিধিতে মনোযোগ আকর্ষণ করলে তিনি এ বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

আরও পড়ুন  গাজীপুরে অটোরিকশা চালক হত্যায় দুই আসামি গ্রেফতার

সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু রাজধানীর ১৭টি সিগন্যালে চালু থাকা ৫০টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ট্রাফিক ক্যামেরার কার্যকারিতা এবং ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার কারণে সৃষ্ট বিভিন্ন সমস্যার কথা সংসদে তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, এআই প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ক্যামেরা চালুর পর ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য, অননুমোদিত লেন পরিবর্তন এবং অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর মতো বিভিন্ন অনিয়ম কমেছে। তবে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাগুলো এখনো অনেক ক্ষেত্রে ট্রাফিক আইন না মেনে চলাচল করছে। এসব যানবাহনে নম্বর প্লেট না থাকায় ক্যামেরায় অনিয়ম ধরা পড়লেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে জরিমানা বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হচ্ছে।
রেহানা আক্তার রানু আরও বলেন, ঢাকার প্রধান সড়কগুলোতেও বিপুলসংখ্যক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে। যানগুলোর কাঠামোগত নকশা ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার ঘাটতির কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। তবে স্বল্প ভাড়া ও সহজলভ্যতার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে এসব যান জনপ্রিয়।

এ কারণে অটোরিকশা নিষিদ্ধ না করে এগুলোর কাঠামোগত উন্নয়ন, নম্বর প্লেট সংযোজন, চালকদের লাইসেন্স প্রদান এবং প্রশিক্ষণের আওতায় আনার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত এক দশকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ইজি বাইকসহ বিভিন্ন ধরনের তিন চাকার বৈদ্যুতিক যান দেশের শহর ও গ্রামীণ পরিবহন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। কম খরচে যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হওয়ায় সাধারণ মানুষ যেমন সুবিধা পাচ্ছেন, তেমনি চালক, গ্যারেজকর্মী, যন্ত্রাংশ ব্যবসায়ী ও চার্জিং সেবার সঙ্গে যুক্ত বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানও তৈরি হয়েছে।
তবে অনিয়ন্ত্রিতভাবে এসব যানবাহনের সংখ্যা বাড়তে থাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা, সড়ক নিরাপত্তা, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে বলে জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে আনুমানিক ৫০ থেকে ৮০ লাখ বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার রয়েছে। এসব যান দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ ব্যবহার করে। অথচ বৈধ চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৩০০টি। শুধু ঢাকাতেই প্রায় ৪৮ হাজার অনানুষ্ঠানিক ও অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের কারণে প্রতিবছর সরকারের প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে বলেও সংসদে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
পরিবেশগত ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশায় ব্যবহৃত লেড-এসিড ব্যাটারি এবং সেগুলোর অনিরাপদ পুনর্ব্যবহার ও প্রক্রিয়াজাতকরণের ফলে সিসা ও ক্ষতিকর ধোঁয়া পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে বায়ু, মাটি ও পানি দূষণের পাশাপাশি আশপাশের পোল্ট্রি শিল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ২০২৫ সালে দেশে মোট ৬ হাজার ৭২৯টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এসব দুর্ঘটনায় ৯ হাজার ১১ জন নিহত হন। এর মধ্যে ১৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ দুর্ঘটনার সঙ্গে অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সম্পৃক্ততা ছিল।
তিনি জানান, ঢাকার প্রধান সড়কগুলোতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচল নিষিদ্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে এবং অবৈধ যানবাহন জব্দ করে ডাম্পিং করা হচ্ছে। পাশাপাশি ডিএমপি, ডেসকো ও ডিপিডিসির সমন্বিত অভিযানে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে।
রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এআই প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়ানো হচ্ছে। ১৭টি সিগন্যালে স্থাপিত ৫০টি এআই ক্যামেরা থেকে ইতিবাচক ফল পাওয়ার পর তেজগাঁও ও রমনা বিভাগে আরও ২০০টি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে এসব ক্যামেরা পুরো রাজধানীতে সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানান তিনি।

এরপর সম্পূরক প্রশ্নে রেহানা আক্তার রানু স্পষ্ট করে বলেন, তিনি অটোরিকশা নিষিদ্ধ করার দাবি জানাননি। বরং নির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে এসব যানকে নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনার কথা বলেছেন।
তিনি দাবি করেন, প্রতিদিন শুধু ঢাকাতেই প্রায় ৩০০টি নতুন অটোরিকশা যুক্ত হচ্ছে। এসব যান প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। অটোরিকশা জব্দ, ডাম্পিং ও চালকদের হয়রানির পরিবর্তে শহরের অভ্যন্তরীণ সড়ক ও গলিতে চলাচলের ব্যবস্থা, সৌরবিদ্যুৎভিত্তিক চার্জিং অবকাঠামো, বিআরটিএ নিবন্ধন এবং এলাকাভিত্তিক জোনিং ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দেন তিনি।
একই সঙ্গে সমন্বিত নীতিমালা কবে নাগাদ কার্যকর হবে, তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চান সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নীতিমালা ও বিধিবিধান ইতোমধ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ নীতিমালাটি চূড়ান্ত করেছে। এতে অটোরিকশার সঙ্গে যুক্ত চালকদের কর্মসংস্থান যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি অটোরিকশার জন্য ডিজিটাল নিবন্ধনের ব্যবস্থা থাকবে। প্রতিটি যানে কিউআর কোড ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা যুক্ত করা হবে। এর ফলে একটি নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে একাধিক অবৈধ অটোরিকশা পরিচালনার সুযোগ বন্ধ করা সম্ভব হবে বলে জানান মন্ত্রী।
এ ছাড়া লেড-এসিড ব্যাটারি বাদ দিয়ে পরিবেশবান্ধব ব্যাটারি ব্যবহারের বিষয়ে কঠোর শর্ত আরোপ করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতীয় স্বার্থ, সড়ক নিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে অটোরিকশা ব্যবস্থাপনাকে একটি নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর মধ্যে আনা হবে। এ নীতিমালার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন দ্রুত করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

অটোরিকশা বন্ধের বদলে নিয়ন্ত্রণ, সরকারের নতুন পরিকল্পনা

আপডেট সময় ১১:৪১:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা সম্পূর্ণ বন্ধ না করে নিবন্ধন, ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও নির্দিষ্ট এলাকায় চলাচলের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে এসব যানবাহনে ব্যবহৃত লেড-এসিড ব্যাটারির পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব ব্যাটারি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে উত্থাপিত একটি নোটিশের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এসব তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু ৭১ বিধিতে মনোযোগ আকর্ষণ করলে তিনি এ বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

আরও পড়ুন  সরকারের শীর্ষ থেকে তৃণমূল পর্যন্ত পচন ধরেছে: বিএনপির মহাসমাবেশে মির্জা আব্বাস

সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু রাজধানীর ১৭টি সিগন্যালে চালু থাকা ৫০টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ট্রাফিক ক্যামেরার কার্যকারিতা এবং ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার কারণে সৃষ্ট বিভিন্ন সমস্যার কথা সংসদে তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, এআই প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ক্যামেরা চালুর পর ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য, অননুমোদিত লেন পরিবর্তন এবং অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর মতো বিভিন্ন অনিয়ম কমেছে। তবে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাগুলো এখনো অনেক ক্ষেত্রে ট্রাফিক আইন না মেনে চলাচল করছে। এসব যানবাহনে নম্বর প্লেট না থাকায় ক্যামেরায় অনিয়ম ধরা পড়লেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে জরিমানা বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হচ্ছে।
রেহানা আক্তার রানু আরও বলেন, ঢাকার প্রধান সড়কগুলোতেও বিপুলসংখ্যক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে। যানগুলোর কাঠামোগত নকশা ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার ঘাটতির কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। তবে স্বল্প ভাড়া ও সহজলভ্যতার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে এসব যান জনপ্রিয়।

এ কারণে অটোরিকশা নিষিদ্ধ না করে এগুলোর কাঠামোগত উন্নয়ন, নম্বর প্লেট সংযোজন, চালকদের লাইসেন্স প্রদান এবং প্রশিক্ষণের আওতায় আনার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত এক দশকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ইজি বাইকসহ বিভিন্ন ধরনের তিন চাকার বৈদ্যুতিক যান দেশের শহর ও গ্রামীণ পরিবহন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। কম খরচে যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হওয়ায় সাধারণ মানুষ যেমন সুবিধা পাচ্ছেন, তেমনি চালক, গ্যারেজকর্মী, যন্ত্রাংশ ব্যবসায়ী ও চার্জিং সেবার সঙ্গে যুক্ত বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানও তৈরি হয়েছে।
তবে অনিয়ন্ত্রিতভাবে এসব যানবাহনের সংখ্যা বাড়তে থাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা, সড়ক নিরাপত্তা, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে বলে জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে আনুমানিক ৫০ থেকে ৮০ লাখ বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার রয়েছে। এসব যান দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ ব্যবহার করে। অথচ বৈধ চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৩০০টি। শুধু ঢাকাতেই প্রায় ৪৮ হাজার অনানুষ্ঠানিক ও অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের কারণে প্রতিবছর সরকারের প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে বলেও সংসদে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
পরিবেশগত ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশায় ব্যবহৃত লেড-এসিড ব্যাটারি এবং সেগুলোর অনিরাপদ পুনর্ব্যবহার ও প্রক্রিয়াজাতকরণের ফলে সিসা ও ক্ষতিকর ধোঁয়া পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে বায়ু, মাটি ও পানি দূষণের পাশাপাশি আশপাশের পোল্ট্রি শিল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ২০২৫ সালে দেশে মোট ৬ হাজার ৭২৯টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এসব দুর্ঘটনায় ৯ হাজার ১১ জন নিহত হন। এর মধ্যে ১৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ দুর্ঘটনার সঙ্গে অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সম্পৃক্ততা ছিল।
তিনি জানান, ঢাকার প্রধান সড়কগুলোতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচল নিষিদ্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে এবং অবৈধ যানবাহন জব্দ করে ডাম্পিং করা হচ্ছে। পাশাপাশি ডিএমপি, ডেসকো ও ডিপিডিসির সমন্বিত অভিযানে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে।
রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এআই প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়ানো হচ্ছে। ১৭টি সিগন্যালে স্থাপিত ৫০টি এআই ক্যামেরা থেকে ইতিবাচক ফল পাওয়ার পর তেজগাঁও ও রমনা বিভাগে আরও ২০০টি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে এসব ক্যামেরা পুরো রাজধানীতে সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানান তিনি।

এরপর সম্পূরক প্রশ্নে রেহানা আক্তার রানু স্পষ্ট করে বলেন, তিনি অটোরিকশা নিষিদ্ধ করার দাবি জানাননি। বরং নির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে এসব যানকে নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনার কথা বলেছেন।
তিনি দাবি করেন, প্রতিদিন শুধু ঢাকাতেই প্রায় ৩০০টি নতুন অটোরিকশা যুক্ত হচ্ছে। এসব যান প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। অটোরিকশা জব্দ, ডাম্পিং ও চালকদের হয়রানির পরিবর্তে শহরের অভ্যন্তরীণ সড়ক ও গলিতে চলাচলের ব্যবস্থা, সৌরবিদ্যুৎভিত্তিক চার্জিং অবকাঠামো, বিআরটিএ নিবন্ধন এবং এলাকাভিত্তিক জোনিং ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দেন তিনি।
একই সঙ্গে সমন্বিত নীতিমালা কবে নাগাদ কার্যকর হবে, তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চান সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নীতিমালা ও বিধিবিধান ইতোমধ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ নীতিমালাটি চূড়ান্ত করেছে। এতে অটোরিকশার সঙ্গে যুক্ত চালকদের কর্মসংস্থান যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি অটোরিকশার জন্য ডিজিটাল নিবন্ধনের ব্যবস্থা থাকবে। প্রতিটি যানে কিউআর কোড ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা যুক্ত করা হবে। এর ফলে একটি নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে একাধিক অবৈধ অটোরিকশা পরিচালনার সুযোগ বন্ধ করা সম্ভব হবে বলে জানান মন্ত্রী।
এ ছাড়া লেড-এসিড ব্যাটারি বাদ দিয়ে পরিবেশবান্ধব ব্যাটারি ব্যবহারের বিষয়ে কঠোর শর্ত আরোপ করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতীয় স্বার্থ, সড়ক নিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে অটোরিকশা ব্যবস্থাপনাকে একটি নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর মধ্যে আনা হবে। এ নীতিমালার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন দ্রুত করা হবে।