ঢাকা ০৯:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এক্সপ্রেসওয়েতে মরদেহ; মেয়ের বিয়ের টাকা নিয়ে ঢাকায় ফিরছিলেন ইসমাইল

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:৪৩:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 36

ছবিঃ সংগৃহীত

মেয়ের বিয়ের দিন-তারিখ চূড়ান্ত করতে জামালপুর থেকে ঢাকায় ফিরছিলেন ইসমাইল হোসেন (৫০)। সঙ্গে ছিল জমি বিক্রির পর বেঁচে থাকা ৫ লাখ টাকা, দুটি মোবাইল ফোন ও কিছু বাজারের সামগ্রী। তবে ঢাকায় পৌঁছানোর আগেই তার যাত্রা থেমে যায়। রাজধানীর ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বনানী অংশ থেকে মুখে স্কচটেপ মোড়ানো অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারের সময় তার সঙ্গে থাকা টাকা, মোবাইল ফোন ও বাজারের ব্যাগ পাওয়া যায়নি।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার পর বনানী থানা পুলিশ এক্সপ্রেসওয়ের বনানী অংশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য তা ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

ইসমাইল হোসেন জামালপুর সদর উপজেলার হবদেশ গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম জালাল উদ্দিন।

আরও পড়ুন  পলাশবাড়ীতে ভাড়া বাসা থেকে নারীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার

নিহতের ছেলে হাসান জানান, ছোট বোন শারমিনের বিয়ের দিন-তারিখ চূড়ান্ত করতেই তার বাবা ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। ভোর সাড়ে ৩টার দিকে জামালপুর থেকে ঢাকার পথে বের হন ইসমাইল। এর আগে রাত ১১টার দিকে পরিবারের সদস্যদের ফোন করে পরদিন সকালে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা জানিয়েছিলেন তিনি।

হাসান বলেন, মেয়ের বিয়ের খরচ জোগাতে সম্প্রতি ১১ শতাংশ জমি সাড়ে ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করেন তার বাবা। সেই টাকা থেকে ২ লাখ টাকা ঋণ পরিশোধ করা হয়। গ্রামের বাড়িতে ঘর নির্মাণেও কিছু টাকা খরচ করেন তিনি। এরপর অবশিষ্ট ৫ লাখ টাকা সঙ্গে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন ইসমাইল। তার কাছে একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন, একটি বাটন ফোন এবং কিছু বাজারের সামগ্রীও ছিল।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, ঢাকায় পৌঁছে ইসমাইলের প্রথমে জিরানীতে যাওয়ার কথা ছিল। সেখানে তার ছেলে হাসান অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও বাবার দেখা না পেয়ে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেন হাসান। তবে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

পরে বনানী থানা পুলিশ জামালপুরের গ্রামের বাড়ির পুলিশ ফাঁড়িতে যোগাযোগ করলে পরিবারের সদস্যরা ইসমাইলের মরদেহ উদ্ধারের খবর জানতে পারেন।

হাসান আরও জানান, মরদেহ উদ্ধারের সময় তার বাবার কাছে কোনো টাকা, মোবাইল ফোন বা বাজারের ব্যাগ পাওয়া যায়নি। তখন তার পরনে শার্ট ও লুঙ্গি ছিল এবং মুখে স্কচটেপ মোড়ানো ছিল।

ইসমাইল আগে ডেল্টা স্পিনিং মিলের নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। অসুস্থতার কারণে প্রায় নয় মাস আগে তিনি চাকরি ছেড়ে দেন। এরপর প্রায় পাঁচ মাস স্ত্রী, দুই সন্তান ও পুত্রবধূকে নিয়ে গাজীপুরের কাশিমপুরে বসবাস করেন। চার মাস আগে স্থায়ীভাবে জামালপুরের গ্রামের বাড়িতে ফিরে যান। সেখানে তার বৃদ্ধ মা ও বড় বোন থাকেন।

ইসমাইলের সঙ্গে থাকা নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য মালামালের সন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে বনানী থানা পুলিশ। তার মৃত্যুর কারণ এবং কীভাবে তিনি ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বনানী অংশে পৌঁছালেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিউজটি শেয়ার করুন

এক্সপ্রেসওয়েতে মরদেহ; মেয়ের বিয়ের টাকা নিয়ে ঢাকায় ফিরছিলেন ইসমাইল

আপডেট সময় ০৭:৪৩:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেয়ের বিয়ের দিন-তারিখ চূড়ান্ত করতে জামালপুর থেকে ঢাকায় ফিরছিলেন ইসমাইল হোসেন (৫০)। সঙ্গে ছিল জমি বিক্রির পর বেঁচে থাকা ৫ লাখ টাকা, দুটি মোবাইল ফোন ও কিছু বাজারের সামগ্রী। তবে ঢাকায় পৌঁছানোর আগেই তার যাত্রা থেমে যায়। রাজধানীর ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বনানী অংশ থেকে মুখে স্কচটেপ মোড়ানো অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারের সময় তার সঙ্গে থাকা টাকা, মোবাইল ফোন ও বাজারের ব্যাগ পাওয়া যায়নি।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার পর বনানী থানা পুলিশ এক্সপ্রেসওয়ের বনানী অংশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য তা ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

ইসমাইল হোসেন জামালপুর সদর উপজেলার হবদেশ গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম জালাল উদ্দিন।

আরও পড়ুন  দেশে পৌঁছাল কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সারের মরদেহ

নিহতের ছেলে হাসান জানান, ছোট বোন শারমিনের বিয়ের দিন-তারিখ চূড়ান্ত করতেই তার বাবা ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। ভোর সাড়ে ৩টার দিকে জামালপুর থেকে ঢাকার পথে বের হন ইসমাইল। এর আগে রাত ১১টার দিকে পরিবারের সদস্যদের ফোন করে পরদিন সকালে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা জানিয়েছিলেন তিনি।

হাসান বলেন, মেয়ের বিয়ের খরচ জোগাতে সম্প্রতি ১১ শতাংশ জমি সাড়ে ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করেন তার বাবা। সেই টাকা থেকে ২ লাখ টাকা ঋণ পরিশোধ করা হয়। গ্রামের বাড়িতে ঘর নির্মাণেও কিছু টাকা খরচ করেন তিনি। এরপর অবশিষ্ট ৫ লাখ টাকা সঙ্গে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন ইসমাইল। তার কাছে একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন, একটি বাটন ফোন এবং কিছু বাজারের সামগ্রীও ছিল।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, ঢাকায় পৌঁছে ইসমাইলের প্রথমে জিরানীতে যাওয়ার কথা ছিল। সেখানে তার ছেলে হাসান অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও বাবার দেখা না পেয়ে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেন হাসান। তবে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

পরে বনানী থানা পুলিশ জামালপুরের গ্রামের বাড়ির পুলিশ ফাঁড়িতে যোগাযোগ করলে পরিবারের সদস্যরা ইসমাইলের মরদেহ উদ্ধারের খবর জানতে পারেন।

হাসান আরও জানান, মরদেহ উদ্ধারের সময় তার বাবার কাছে কোনো টাকা, মোবাইল ফোন বা বাজারের ব্যাগ পাওয়া যায়নি। তখন তার পরনে শার্ট ও লুঙ্গি ছিল এবং মুখে স্কচটেপ মোড়ানো ছিল।

ইসমাইল আগে ডেল্টা স্পিনিং মিলের নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। অসুস্থতার কারণে প্রায় নয় মাস আগে তিনি চাকরি ছেড়ে দেন। এরপর প্রায় পাঁচ মাস স্ত্রী, দুই সন্তান ও পুত্রবধূকে নিয়ে গাজীপুরের কাশিমপুরে বসবাস করেন। চার মাস আগে স্থায়ীভাবে জামালপুরের গ্রামের বাড়িতে ফিরে যান। সেখানে তার বৃদ্ধ মা ও বড় বোন থাকেন।

ইসমাইলের সঙ্গে থাকা নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য মালামালের সন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে বনানী থানা পুলিশ। তার মৃত্যুর কারণ এবং কীভাবে তিনি ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বনানী অংশে পৌঁছালেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।