ছিনতাইয়ের ঘটনায় শিক্ষিকার মৃত্যু: উদ্ধার বাইক নিয়ে প্রশ্ন, ডিবির ছায়া তদন্ত
- আপডেট সময় ০৮:৫৬:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 14
জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইয়ের ঘটনায় স্কুলশিক্ষিকা রনজিলা পারভীনের মৃত্যুর ঘটনায় উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলটি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া দুই ব্যক্তির মধ্যে প্রকৃত অপরাধী কে, তা নিয়েও এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি তদন্তকারী সংস্থাগুলো। ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখতে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ছায়া তদন্ত চালাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ঘটনাটি ব্যাপক আলোচিত হওয়ায় ঘটনার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট তদন্তে কাজ করছে। তদন্ত এখনো চলমান থাকায় এই মুহূর্তে নির্দিষ্ট করে কাউকে মূল অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা সম্ভব নয়।
র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তির প্রসঙ্গে শফিকুল ইসলাম বলেন, তাদের একজনের বিরুদ্ধে এর আগে ১২টি ছিনতাইয়ের মামলা রয়েছে। তাই তাকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বলার সুযোগ নেই। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে ঘটনার সঙ্গে তার প্রকৃত সম্পৃক্ততা সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
মূল আসামিকে গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, থানার তদন্তের পাশাপাশি স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোতে ডিবি ছায়া তদন্ত করে থাকে। এই ঘটনাতেও গোয়েন্দা পুলিশের নজরদারি রয়েছে।
জাতীয় সংসদ ভবনের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ছিনতাইকারীর টানে পড়ে একজন শিক্ষিকার মৃত্যুর ঘটনায় নিরাপত্তাব্যবস্থা বা দায়িত্বে থাকা পুলিশের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, সে বিষয়েও প্রশ্ন ওঠে।
এ বিষয়ে ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে দায়িত্বে অবহেলার বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তবে কোনো এলাকায় পুলিশ সদস্যদের দায়িত্বে থাকার কথা থাকলেও তারা সেখানে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন কি না, তা যাচাই করা হবে। প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, সংসদ ভবনের ঘটনার পর রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। আগে থেকেই বাস টার্মিনাল, হাসপাতালসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পোশাকধারী পুলিশ ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যদের টহল ছিল। তবে সাম্প্রতিক ঘটনার পর কমিশনারের নির্দেশে প্রয়োজন অনুযায়ী কোনো কোনো এলাকায় একটি টহল দলের পরিবর্তে তিনটি টহল দল মোতায়েন করা হয়েছে।
এ ছাড়া গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যসংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি মোটরসাইকেল টিমও মাঠে নামানো হয়েছে। রাজধানীর বিশাল আয়তনের কথা বিবেচনায় রেখে গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে টহল আরও জোরদার করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, প্রকৃত অপরাধীকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে থানা পুলিশের তদন্তের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশও কাজ করছে।

























