ঢাকা ০২:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

জুলাই থেকে কার্যকর হবে নতুন পে-স্কেল

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:২১:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
  • / 16

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় পে-স্কেলের চূড়ান্ত প্রস্তাব সোমবার (৩১ আগস্ট) মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হতে পারে। অনুমোদনের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। সরকারের লক্ষ্য, সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ করা। সবকিছু নির্ধারিতভাবে এগোলে অক্টোবর থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পেতে পারেন।

তবে নতুন বেতন কাঠামোর কার্যকর তারিখ ধরা হচ্ছে চলতি বছরের ১ জুলাই। ফলে গেজেট প্রকাশে কিছুটা সময় লাগলেও বেতন বৃদ্ধির কার্যকর তারিখ পিছিয়ে যাওয়ার কথা নয়।

এ হিসাবে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসের বেতন নতুন কাঠামো অনুযায়ী পুনর্নির্ধারণ করা হবে। পরে ওই তিন মাসের বর্ধিত অর্থ বকেয়া হিসেবে পরিশোধ বা সমন্বয় করা হতে পারে।

আরও পড়ুন  শিক্ষকদের জন্য পৃথক পে স্কেলের প্রস্তাব শিক্ষামন্ত্রীর

অর্থাৎ, অক্টোবর থেকে নতুন কাঠামোয় বেতন পাওয়া শুরু হলে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়তি যে অর্থ প্রাপ্য হবে, তা পরবর্তী সময়ে চাকরিজীবীদের বেতনের সঙ্গে সমন্বয় অথবা একসঙ্গে পরিশোধের সুযোগ থাকবে।

অর্থ বিভাগের সূত্র জানিয়েছে, নবম পে-স্কেলের মূল বিষয়গুলো এখন প্রায় চূড়ান্ত। মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর প্রয়োজন অনুযায়ী প্রস্তাবটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। ভেটিং শেষ হলে প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।

জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছিল।

কমিশনের প্রস্তাবে বিভিন্ন পর্যায়ে বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশের বেশি বাড়ানোর কথা ছিল। তবে পুরো সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হলে সরকারের ওপর বড় ধরনের অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় বেতন বৃদ্ধির হার কিছুটা কমিয়ে চূড়ান্ত সুপারিশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সচিব কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনে প্রথম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

নতুন পে-স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রথম ধাপে নতুন মূল বেতন কার্যকর করার কথা রয়েছে। পরবর্তী ধাপে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, যাতায়াতসহ অন্যান্য ভাতা ও সুযোগ-সুবিধায় পরিবর্তন আনা হতে পারে।

এর আগে তিন ধাপে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের একটি পরিকল্পনা সামনে এসেছিল। পরে সেই পরিকল্পনা পরিবর্তন করে দুই ধাপে বাস্তবায়নের দিকে এগিয়েছে সরকার।

নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অর্থসংস্থানকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জাতীয় বেতন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, তাদের সুপারিশ বাস্তবায়নে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ এ খাতে মোট বরাদ্দ ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা।

এ কারণে নতুন পে-স্কেলের চূড়ান্ত কাঠামো নির্ধারণে সরকারের আর্থিক সক্ষমতাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

গেজেট অক্টোবরের আগে প্রকাশিত হলে সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পেতে শুরু করতে পারেন। তবে কার্যকর তারিখ ১ জুলাই হওয়ায় জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের বর্ধিত বেতনও তাদের প্রাপ্য হবে।

গেজেট প্রকাশের পর নতুন মূল বেতন নির্ধারণ করে ওই তিন মাসের বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হবে। এরপর নিয়ম অনুযায়ী বকেয়া অর্থ একসঙ্গে পরিশোধ অথবা পরবর্তী মাসগুলোর বেতনের সঙ্গে সমন্বয় করা হতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

জুলাই থেকে কার্যকর হবে নতুন পে-স্কেল

আপডেট সময় ০১:২১:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় পে-স্কেলের চূড়ান্ত প্রস্তাব সোমবার (৩১ আগস্ট) মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হতে পারে। অনুমোদনের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। সরকারের লক্ষ্য, সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ করা। সবকিছু নির্ধারিতভাবে এগোলে অক্টোবর থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পেতে পারেন।

তবে নতুন বেতন কাঠামোর কার্যকর তারিখ ধরা হচ্ছে চলতি বছরের ১ জুলাই। ফলে গেজেট প্রকাশে কিছুটা সময় লাগলেও বেতন বৃদ্ধির কার্যকর তারিখ পিছিয়ে যাওয়ার কথা নয়।

এ হিসাবে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসের বেতন নতুন কাঠামো অনুযায়ী পুনর্নির্ধারণ করা হবে। পরে ওই তিন মাসের বর্ধিত অর্থ বকেয়া হিসেবে পরিশোধ বা সমন্বয় করা হতে পারে।

আরও পড়ুন  জুলাই গণহত্যার ভিডিও প্রদর্শন উদ্যোগ, শহরের বিভিন্ন মোড়ে প্রচার

অর্থাৎ, অক্টোবর থেকে নতুন কাঠামোয় বেতন পাওয়া শুরু হলে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়তি যে অর্থ প্রাপ্য হবে, তা পরবর্তী সময়ে চাকরিজীবীদের বেতনের সঙ্গে সমন্বয় অথবা একসঙ্গে পরিশোধের সুযোগ থাকবে।

অর্থ বিভাগের সূত্র জানিয়েছে, নবম পে-স্কেলের মূল বিষয়গুলো এখন প্রায় চূড়ান্ত। মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর প্রয়োজন অনুযায়ী প্রস্তাবটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। ভেটিং শেষ হলে প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।

জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছিল।

কমিশনের প্রস্তাবে বিভিন্ন পর্যায়ে বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশের বেশি বাড়ানোর কথা ছিল। তবে পুরো সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হলে সরকারের ওপর বড় ধরনের অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় বেতন বৃদ্ধির হার কিছুটা কমিয়ে চূড়ান্ত সুপারিশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সচিব কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনে প্রথম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

নতুন পে-স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রথম ধাপে নতুন মূল বেতন কার্যকর করার কথা রয়েছে। পরবর্তী ধাপে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, যাতায়াতসহ অন্যান্য ভাতা ও সুযোগ-সুবিধায় পরিবর্তন আনা হতে পারে।

এর আগে তিন ধাপে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের একটি পরিকল্পনা সামনে এসেছিল। পরে সেই পরিকল্পনা পরিবর্তন করে দুই ধাপে বাস্তবায়নের দিকে এগিয়েছে সরকার।

নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অর্থসংস্থানকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জাতীয় বেতন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, তাদের সুপারিশ বাস্তবায়নে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ এ খাতে মোট বরাদ্দ ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা।

এ কারণে নতুন পে-স্কেলের চূড়ান্ত কাঠামো নির্ধারণে সরকারের আর্থিক সক্ষমতাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

গেজেট অক্টোবরের আগে প্রকাশিত হলে সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পেতে শুরু করতে পারেন। তবে কার্যকর তারিখ ১ জুলাই হওয়ায় জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের বর্ধিত বেতনও তাদের প্রাপ্য হবে।

গেজেট প্রকাশের পর নতুন মূল বেতন নির্ধারণ করে ওই তিন মাসের বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হবে। এরপর নিয়ম অনুযায়ী বকেয়া অর্থ একসঙ্গে পরিশোধ অথবা পরবর্তী মাসগুলোর বেতনের সঙ্গে সমন্বয় করা হতে পারে।