ঢাকা ০৮:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

নিম্নমানের ১০ পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:৪৭:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
  • / 23

ছবি সংগৃহীত

 

ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় বাংলাদেশ মানের নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় ১০টি পণ্য বাজার থেকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। একই সঙ্গে এসব পণ্যের লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার, ২৬ আগস্ট নিম্নমানের প্রমাণিত এসব পণ্য না কেনার জন্য ভোক্তাদের পরামর্শ দিয়েছে বিএসটিআই।

আরও পড়ুন  মামলা প্রত্যাহারে ৩ সপ্তাহের আল্টিমেটাম শিবিরের

নিয়মিত সার্ভিল্যান্স কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সম্প্রতি বাজার থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পণ্য সংগ্রহ করে বিএসটিআইয়ের নিজস্ব ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়। এসব পরীক্ষায় বেশ কিছু পণ্যের মান নির্ধারিত মান অনুযায়ী পাওয়া গেলেও কিছু ব্র্যান্ডের ঘি, বাটার অয়েল ও মসলা মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।

বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় বাঘাবাড়ি ব্র্যান্ডের ঘিতে নির্ধারিত মাত্রায় মিল্ক ফ্যাট পাওয়া যায়নি। এতে পাম অলিন ও বনস্পতি ব্যবহার করে ঘি হিসেবে বাজারজাত করার বিষয়টি পরীক্ষায় উঠে এসেছে।

এ ছাড়া বম্বে সুইটস অ্যান্ড কোং লিমিটেডের উৎপাদিত বিভিন্ন মসলার মান বাংলাদেশ মানের নির্ধারিত কয়েকটি প্যারামিটারের তুলনায় নিম্নমানের পাওয়া গেছে।

পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির কারি পাউডার, হাঁসের মাংসের মসলা (ব্যাচ নং-১৪১২২৪), তেহারি মসলা (ব্যাচ নং-১৪০২২৬), কালা ভুনা মসলা (ব্যাচ নং-২৬০৯২৭), গরুর মাংসের মসলা (ব্যাচ-এ) এবং মাছের মসলা (ব্যাচ নং-এ) মোট অ্যাশ ও লবণের মাত্রা নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি থাকায় অকৃতকার্য হয়েছে।

বাংলাদেশ মানের তুলনায় নিম্নমানের প্রমাণিত ঘি ও বাটার অয়েলের মধ্যে রয়েছে বাঘাবাড়ি প্রিমিয়াম ঘি কোম্পানির ‘বাঘাবাড়ি’ ব্র্যান্ডের ঘি, কিশোরগঞ্জ ফুড প্রোডাক্টসের ‘অরুন বাঘাবাড়ী’ ব্র্যান্ডের ঘি, মেসার্স মামুন ফুড প্রোডাক্টের ‘নিউ রাঁধুনী’ ও ‘সিটি’ ব্র্যান্ডের ঘি এবং এলডার্স ফুড প্রোডাক্টস অ্যান্ড প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজের ‘এলডার্স’ ব্র্যান্ডের বাটার অয়েল।

বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় এসব ঘি ও বাটার অয়েলের রিফ্র্যাকটিভ ইনডেক্স, আয়োডিন ভ্যালু, স্যাপোনিফিকেশন ভ্যালু ও পোলেনস্কে ভ্যালুসহ বিভিন্ন প্যারামিটার নির্ধারিত সীমার বাইরে পাওয়া গেছে।

বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, জাতীয় মান অনুযায়ী পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখা প্রতিটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব। কোনো প্রতিষ্ঠান এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে বিএসটিআই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

তিনি বলেন, পণ্যের মান সনদ দেওয়ার পাশাপাশি নকল ও ভেজাল রোধে সার্ভিল্যান্স কার্যক্রমের মাধ্যমে বিএসটিআইয়ের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

পণ্য কেনার আগে বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন, লাইসেন্স নম্বর, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, উপাদানসহ প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করার জন্য ভোক্তাদের পরামর্শ দিয়েছেন মহাপরিচালক।

কোনো পণ্যের মান, ভেজাল, প্রতারণা বা বিএসটিআইয়ের মানচিহ্নের অপব্যবহার নিয়ে অভিযোগ থাকলে দ্রুত ১৬১১৯ নম্বরে অথবা dg@bsti.gov.bd ই-মেইলে জানাতে অনুরোধ করেছেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

নিম্নমানের ১০ পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ

আপডেট সময় ০৬:৪৭:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

 

ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় বাংলাদেশ মানের নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় ১০টি পণ্য বাজার থেকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। একই সঙ্গে এসব পণ্যের লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার, ২৬ আগস্ট নিম্নমানের প্রমাণিত এসব পণ্য না কেনার জন্য ভোক্তাদের পরামর্শ দিয়েছে বিএসটিআই।

আরও পড়ুন  পশ্চিম তীরে সহিংসতার পর ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহার

নিয়মিত সার্ভিল্যান্স কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সম্প্রতি বাজার থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পণ্য সংগ্রহ করে বিএসটিআইয়ের নিজস্ব ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়। এসব পরীক্ষায় বেশ কিছু পণ্যের মান নির্ধারিত মান অনুযায়ী পাওয়া গেলেও কিছু ব্র্যান্ডের ঘি, বাটার অয়েল ও মসলা মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।

বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় বাঘাবাড়ি ব্র্যান্ডের ঘিতে নির্ধারিত মাত্রায় মিল্ক ফ্যাট পাওয়া যায়নি। এতে পাম অলিন ও বনস্পতি ব্যবহার করে ঘি হিসেবে বাজারজাত করার বিষয়টি পরীক্ষায় উঠে এসেছে।

এ ছাড়া বম্বে সুইটস অ্যান্ড কোং লিমিটেডের উৎপাদিত বিভিন্ন মসলার মান বাংলাদেশ মানের নির্ধারিত কয়েকটি প্যারামিটারের তুলনায় নিম্নমানের পাওয়া গেছে।

পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির কারি পাউডার, হাঁসের মাংসের মসলা (ব্যাচ নং-১৪১২২৪), তেহারি মসলা (ব্যাচ নং-১৪০২২৬), কালা ভুনা মসলা (ব্যাচ নং-২৬০৯২৭), গরুর মাংসের মসলা (ব্যাচ-এ) এবং মাছের মসলা (ব্যাচ নং-এ) মোট অ্যাশ ও লবণের মাত্রা নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি থাকায় অকৃতকার্য হয়েছে।

বাংলাদেশ মানের তুলনায় নিম্নমানের প্রমাণিত ঘি ও বাটার অয়েলের মধ্যে রয়েছে বাঘাবাড়ি প্রিমিয়াম ঘি কোম্পানির ‘বাঘাবাড়ি’ ব্র্যান্ডের ঘি, কিশোরগঞ্জ ফুড প্রোডাক্টসের ‘অরুন বাঘাবাড়ী’ ব্র্যান্ডের ঘি, মেসার্স মামুন ফুড প্রোডাক্টের ‘নিউ রাঁধুনী’ ও ‘সিটি’ ব্র্যান্ডের ঘি এবং এলডার্স ফুড প্রোডাক্টস অ্যান্ড প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজের ‘এলডার্স’ ব্র্যান্ডের বাটার অয়েল।

বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় এসব ঘি ও বাটার অয়েলের রিফ্র্যাকটিভ ইনডেক্স, আয়োডিন ভ্যালু, স্যাপোনিফিকেশন ভ্যালু ও পোলেনস্কে ভ্যালুসহ বিভিন্ন প্যারামিটার নির্ধারিত সীমার বাইরে পাওয়া গেছে।

বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, জাতীয় মান অনুযায়ী পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখা প্রতিটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব। কোনো প্রতিষ্ঠান এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে বিএসটিআই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

তিনি বলেন, পণ্যের মান সনদ দেওয়ার পাশাপাশি নকল ও ভেজাল রোধে সার্ভিল্যান্স কার্যক্রমের মাধ্যমে বিএসটিআইয়ের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

পণ্য কেনার আগে বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন, লাইসেন্স নম্বর, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, উপাদানসহ প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করার জন্য ভোক্তাদের পরামর্শ দিয়েছেন মহাপরিচালক।

কোনো পণ্যের মান, ভেজাল, প্রতারণা বা বিএসটিআইয়ের মানচিহ্নের অপব্যবহার নিয়ে অভিযোগ থাকলে দ্রুত ১৬১১৯ নম্বরে অথবা dg@bsti.gov.bd ই-মেইলে জানাতে অনুরোধ করেছেন তিনি।