নুসরাত হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল, খালাস ১০ জন
- আপডেট সময় ০১:৫৬:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
- / 35
ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১০ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা দুই আসামি হলেন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা (৫৭) এবং শাহাদাত হোসেন শামীম (২০)।
মামলার নথি ও বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় নুসরাতের পরিবার আইনি পদক্ষেপ নিলে সিরাজ ও তার অনুসারীরা মামলা তুলে নিতে তাকে হুমকি দেয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
নুসরাত এতে রাজি না হওয়ায় ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল তাকে পরীক্ষাকেন্দ্র মাদ্রাসা ভবনের ছাদে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তার মুখ ও হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে মামলার বিবরণে বলা হয়েছে।
পরে গুরুতর দগ্ধ নুসরাতকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ১০ এপ্রিল তার মৃত্যু হয়।
দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেওয়া এ ঘটনায় ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
ওই রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা ছিলেন—সোনাগাজী ইসলামিয়া মাদ্রাসার বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা, উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন, কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম, শিক্ষক হাফেজ আবদুল কাদের, প্রভাষক আফসার উদ্দিন, মাদ্রাসাছাত্র নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত, কামরুন নাহার মণি, উম্মে সুলতানা পপি, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম ও মহি উদ্দিন শাকিল।
ওই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের শুনানি শেষে হাইকোর্ট সোমবার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ১৬ আসামির মধ্যে দুইজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে, চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং ১০ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।





















