দুই পক্ষের স্বার্থ মানার তাগিদ জয়শঙ্করের
- আপডেট সময় ০৭:০৯:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
- / 19
বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে দুই পক্ষের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি বলেছেন, কোনো দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক কার্যকর ও টেকসই করতে হলে উভয় পক্ষকে একে অপরের স্বার্থ বুঝে সমঝোতার জায়গা খুঁজে নিতে হবে।
শনিবার (২২ আগস্ট) নয়াদিল্লিতে ‘ইকোনমিক টাইমস ওয়ার্ল্ড লিডার্স ফোরামে’ বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জয়শঙ্কর সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। তবে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পারস্পরিক স্বার্থের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
জয়শঙ্কর বলেন, কোনো সম্পর্ক সফল করতে হলে তা দুই দেশের জন্যই কিছুটা উপকারী হতে হবে। এক পক্ষ শুধু নিজের স্বার্থ অনুযায়ী অন্য পক্ষের কাছ থেকে সবকিছু আশা করতে পারে না। একইভাবে অন্য পক্ষের স্বার্থকেও সম্মান করতে হয়।
তার মতে, দুই পক্ষ যখন নিজেদের স্বার্থের সমন্বয়ের একটি জায়গায় পৌঁছাতে পারে, তখনই সম্পর্ক স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে যায়। এই ‘কমন গ্রাউন্ড’ বা অভিন্ন জায়গাই দুই দেশের সম্পর্ককে মসৃণভাবে এগিয়ে নেওয়ার ভিত্তি।
জয়শঙ্করের এই বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন শেখ হাসিনাকে ঘিরে ঢাকা ও নয়াদিল্লির সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। বাংলাদেশ শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠাতে ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়ে আসছে। বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগে বিচারও হয়েছে। বিষয়টি দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা চললেও এখনো সফরের চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারিত হয়নি।
এর আগে ভারতের সাবেক কয়েকজন কূটনীতিক মন্তব্য করেছিলেন, তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকায় সফরটি কবে হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এমন পরিস্থিতিতে জয়শঙ্করের বক্তব্যকে দুই দেশের সম্পর্কের বিষয়ে ভারতের সাধারণ কূটনৈতিক অবস্থানের প্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার বক্তব্যে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে শুধু ভারতের স্বার্থ নয়, সংশ্লিষ্ট দেশের স্বার্থকেও বিবেচনায় নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে এসেছে।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের পাশাপাশি বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, বিশ্বে সংঘাত, প্রতিযোগিতা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে ঝুঁকি কমানো বা ‘ডি-রিস্কিং’ গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হওয়া উচিত।
তার মতে, কোনো একটি দেশ বা উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না থেকে বিভিন্ন দেশ ও উৎসের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা প্রয়োজন। এতে সরবরাহ ব্যবস্থা বা অর্থনীতির কোনো একটি জায়গায় সমস্যা দেখা দিলে তার প্রভাব কমানো সম্ভব হবে।
বিশেষ করে জ্বালানি, সার ও আন্তর্জাতিক নৌপথের বাজারে সাম্প্রতিক অস্থিরতার প্রসঙ্গ তুলে জয়শঙ্কর বলেন, শুধু কম খরচের বিষয়টি বিবেচনা করলেই হবে না; ভবিষ্যতের সম্ভাব্য ঝুঁকিও হিসাবের মধ্যে রাখতে হবে।
চীনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিয়েও বক্তব্য দেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সীমান্ত পরিস্থিতির কারণে দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা দুই দেশের সুসম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তবে পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলে ভারত ও চীনের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন জয়শঙ্কর। তার ভাষায়, ভারত ও চীন উভয়ই বড় অর্থনীতি এবং একে অপরের গুরুত্বপূর্ণ বাজার।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো চীনের সঙ্গেও ভারতের ব্যবসা করতে হবে উল্লেখ করে তিনি একই সঙ্গে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানো এবং আত্মনির্ভরশীল অর্থনীতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস





















