রোহিঙ্গা সংকট ২০ বছরে যেতে দেওয়া যাবে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
- আপডেট সময় ০৫:২৭:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
- / 25
রোহিঙ্গা সংকটের ১০ বছরকে কোনোভাবেই ২০ বছরে পরিণত হতে দেওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তার সংকট দীর্ঘায়িত না করে দ্রুত প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি সরকারের জন্য ১০ বছর একটি নীতিগত চক্র হলেও শরণার্থী শিবিরে বেড়ে ওঠা একটি শিশুর কাছে এটি পুরো শৈশব। একজন তরুণের কাছে এটি হারিয়ে যাওয়া শিক্ষাজীবন এবং একটি পরিবারের কাছে ঘরছাড়া জীবনের এক দশক। তাই কোনোভাবেই এই সংকটকে আরও দীর্ঘায়িত করা উচিত নয়।
তিনি বলেন, ২০১৭ সালের ব্যাপক অনুপ্রবেশের পর বাংলাদেশ সীমান্ত ও হৃদয় উন্মুক্ত করে ১০ লাখের বেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। খাদ্য, বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মানবিক ও নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকেই বাংলাদেশ কাজ করে আসছে।
তবে বাংলাদেশ এমন একটি সংকটের চূড়ান্ত সমাধান করতে পারে না, যে সংকট দেশটি সৃষ্টি করেনি বলে মন্তব্য করেন শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে। ফলে এর টেকসই সমাধানও চূড়ান্তভাবে মিয়ানমারেই খুঁজে বের করতে হবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা। তার মতে, এটি শুধু একটি কূটনৈতিক পথ নয়, সামনে এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র টেকসই উপায়।
রোহিঙ্গারাও বারবার নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের এই আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান করে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে হবে।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার ওপরও গুরুত্ব দেন শামা ওবায়েদ। একই সঙ্গে ২০১৭ সালের পর রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শিবিরে জন্ম নেওয়া শিশুদেরও যাচাই প্রক্রিয়ার আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।
মানবিক সহায়তার ঘাটতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০২৬ সালের যৌথ প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা বা জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যানের পরিসর সংকুচিত হলেও রোহিঙ্গাদের প্রয়োজন কমেনি।
খাদ্য, পুষ্টি, পানি, স্যানিটেশন, শিক্ষা ও সুরক্ষাকে কোনোভাবেই বিলাসিতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, এগুলো জীবন রক্ষার অপরিহার্য উপাদান।
কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকটের প্রভাবের কথাও তুলে ধরেন শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে গিয়ে স্থানীয় জনগণ জমি, সম্পদ, পরিবেশ ও জনসেবার ওপর বাড়তি চাপ সহ্য করছে।
স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য সহায়তাকেও মানবিক কার্যক্রমের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয়, জাতিসংঘ ও আঞ্চলিক উদ্যোগের মাধ্যমে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য কাজ চালিয়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, টেকসই কূটনীতি, নিশ্চিত অর্থায়ন ও জবাবদিহিতা প্রয়োজন।





















