ঢাকা ০৮:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

মিয়ানমারে বৌদ্ধ বিহারে দুই দফা বিমান হামলা, নিহত ১৪

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:০৪:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
  • / 33

ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চলের সাগাইং অঞ্চলের একটি বৌদ্ধ বিহারে সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনজন নারী রয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় একটি বিরোধী সংগঠন ও এক গ্রামবাসীর বরাতে জানিয়েছে আল জাজিরা।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) সাগাইং অঞ্চলের মিয়াং টাউনশিপের সোয়েল লে ওহ গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। গ্রামটি দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালে থেকে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত।

মিয়াং টাউনশিপের বেসামরিক প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সংস্থার (সিডিএসওএম) মুখপাত্র নুয়ে উ জানান, একটি যুদ্ধবিমান গ্রামের একটি বৌদ্ধ বিহার প্রাঙ্গণে বোমা হামলা চালায়। এতে ১৪ জন নিহত ও ২০ জন আহত হন।

আরও পড়ুন  বোমা হামলার হুমকি: রোমে আমেরিকান এয়ারলাইনসের ফ্লাইট জরুরি অবতরণ

স্থানীয় এক বাসিন্দা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান, প্রায় ১৫ মিনিটের ব্যবধানে ওই গ্রামে দুটি বোমা ফেলা হয়। হামলার সময় বর্ষাবাস উপলক্ষে বিহার ও এর আশপাশে ১০০ জনের বেশি মানুষ অবস্থান করছিলেন।

ওই গ্রামবাসী সিডিএসওএমের দেওয়া ১৪ জন নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তার শাশুড়িও হামলায় নিহত হয়েছেন বলে জানান তিনি।

বিবিসির বর্মী বিভাগ ও স্থানীয় কয়েকটি গণমাধ্যমও হামলায় নিহতের সংখ্যা ১০ থেকে ১৪ জনের মধ্যে বলে জানিয়েছে।

হামলার বিষয়ে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে সামরিক বাহিনী দাবি করে আসছে, তারা কেবল বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচিত সরকারের কাছ থেকে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর মিয়ানমার ব্যাপক গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দমনে সামরিক বাহিনীর সহিংসতার পর দেশটির বিভিন্ন বিরোধী গোষ্ঠী অস্ত্র হাতে তুলে নেয়। বর্তমানে সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জাতিগত ও রাজনৈতিক সশস্ত্র গোষ্ঠী লড়াই করছে।

মিয়াং টাউনশিপ সাগাইং অঞ্চলে অবস্থিত। অঞ্চলটি সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধের অন্যতম শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।

জাতিসংঘের মিয়ানমারের স্বাধীন তদন্তকারী সংস্থা (আইআইএমএম) আগস্টে জানায়, দেশটিতে নির্বাচনকে সামনে রেখে ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে বিমান হামলার উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গিয়েছিল। এরপরও এসব হামলা অব্যাহত রয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।

তবে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আইআইএমএমের ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, প্রতিবেদনটি ‘সন্ত্রাসীদের’ বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনী বেসামরিকদের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সর্বোচ্চ সংযম দেখায়।

মিয়ানমারের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে ব্যাপক প্রাণহানি ও বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির সংঘাতে এক লাখের বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ৫২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

মিয়ানমারে বৌদ্ধ বিহারে দুই দফা বিমান হামলা, নিহত ১৪

আপডেট সময় ০১:০৪:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চলের সাগাইং অঞ্চলের একটি বৌদ্ধ বিহারে সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনজন নারী রয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় একটি বিরোধী সংগঠন ও এক গ্রামবাসীর বরাতে জানিয়েছে আল জাজিরা।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) সাগাইং অঞ্চলের মিয়াং টাউনশিপের সোয়েল লে ওহ গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। গ্রামটি দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালে থেকে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত।

মিয়াং টাউনশিপের বেসামরিক প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সংস্থার (সিডিএসওএম) মুখপাত্র নুয়ে উ জানান, একটি যুদ্ধবিমান গ্রামের একটি বৌদ্ধ বিহার প্রাঙ্গণে বোমা হামলা চালায়। এতে ১৪ জন নিহত ও ২০ জন আহত হন।

আরও পড়ুন  ভোরে আফগানিস্তানে হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান

স্থানীয় এক বাসিন্দা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান, প্রায় ১৫ মিনিটের ব্যবধানে ওই গ্রামে দুটি বোমা ফেলা হয়। হামলার সময় বর্ষাবাস উপলক্ষে বিহার ও এর আশপাশে ১০০ জনের বেশি মানুষ অবস্থান করছিলেন।

ওই গ্রামবাসী সিডিএসওএমের দেওয়া ১৪ জন নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তার শাশুড়িও হামলায় নিহত হয়েছেন বলে জানান তিনি।

বিবিসির বর্মী বিভাগ ও স্থানীয় কয়েকটি গণমাধ্যমও হামলায় নিহতের সংখ্যা ১০ থেকে ১৪ জনের মধ্যে বলে জানিয়েছে।

হামলার বিষয়ে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে সামরিক বাহিনী দাবি করে আসছে, তারা কেবল বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচিত সরকারের কাছ থেকে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর মিয়ানমার ব্যাপক গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দমনে সামরিক বাহিনীর সহিংসতার পর দেশটির বিভিন্ন বিরোধী গোষ্ঠী অস্ত্র হাতে তুলে নেয়। বর্তমানে সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জাতিগত ও রাজনৈতিক সশস্ত্র গোষ্ঠী লড়াই করছে।

মিয়াং টাউনশিপ সাগাইং অঞ্চলে অবস্থিত। অঞ্চলটি সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধের অন্যতম শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।

জাতিসংঘের মিয়ানমারের স্বাধীন তদন্তকারী সংস্থা (আইআইএমএম) আগস্টে জানায়, দেশটিতে নির্বাচনকে সামনে রেখে ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে বিমান হামলার উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গিয়েছিল। এরপরও এসব হামলা অব্যাহত রয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।

তবে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আইআইএমএমের ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, প্রতিবেদনটি ‘সন্ত্রাসীদের’ বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনী বেসামরিকদের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সর্বোচ্চ সংযম দেখায়।

মিয়ানমারের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে ব্যাপক প্রাণহানি ও বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির সংঘাতে এক লাখের বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ৫২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।