সাংবাদিক দেবাশীষ ও ছেলের সৎকার, স্ত্রী-শ্বশুরের দাফন
- আপডেট সময় ১২:০৫:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
- / 43
ভারতের কলকাতার একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত ও তার শিশুপুত্র শর্ণশীষ দত্তের সৎকার এবং স্ত্রী আফসানা শারমিন মনীষা ও শ্বশুর আকরাম হোসেনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট) দিবাগত রাতে কুষ্টিয়ায় ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তাদের শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।
শনিবার দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত ও তার সাড়ে তিন বছরের ছেলে শর্ণশীষ দত্তের মরদেহ কুষ্টিয়া মহাশ্মশানে নেওয়া হয়। সেখানে সনাতন ধর্মীয় রীতিতে তাদের সৎকার করা হয়। এ সময় স্বজন, সহকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে, রাত আড়াইটার দিকে কুষ্টিয়া মডেল মসজিদে দেবাশীষের স্ত্রী আফসানা শারমিন মনীষা ও শ্বশুর আকরাম হোসেনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে রাত সাড়ে ৩টার দিকে তাদের মরদেহ শহরের পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়।
স্থানীয় সাংবাদিক ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে মরদেহগুলো গ্রহণ করেন কুষ্টিয়া থেকে যাওয়া দেবাশীষের সহকর্মী সাংবাদিকরা। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে দুটি অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহগুলো কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ায় দেবাশীষের ভাড়া বাসায় নেওয়া হয়।
মরদেহ আসার আগেই সন্ধ্যার পর থেকে দেবাশীষের বাড়ি ও আশপাশের সড়কে মানুষের ভিড় জমে। অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছানোর পর স্বজন, সহকর্মী ও স্থানীয়রা তাদের শেষবারের মতো দেখতে সেখানে জড়ো হন। একপর্যায়ে ভিড় বেড়ে গেলে সেখানে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
পরে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স দুটি বাড়ির কাছেই তরুণ সংঘ ক্লাব মাঠে রাখা হয়। সেখানেও বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হন। রাত পৌনে ১টার দিকে ভিড় কিছুটা কমলে মরদেহগুলো আবার দেবাশীষের বাড়ির সামনে নেওয়া হয়।
এ সময় পরিবারের সদস্যরা স্বজনদের মরদেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। সহকর্মী সাংবাদিকসহ উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
পরে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এরপর আফসানা শারমিন মনীষা ও আকরাম হোসেনের মরদেহ কুঠিপাড়ার কুষ্টিয়া মডেল মসজিদে নেওয়া হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য দর্শনা-গেদে চেকপোস্ট দিয়ে কলকাতা যান সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত। পরদিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্ত্রী, শিশুপুত্র ও শ্বশুরকে নিয়ে উড়োজাহাজে তামিলনাড়ু রাজ্যের বেঙ্গালুরু যান তারা। সেখানে নারায়ানান হাসপাতালে আফসানা শারমিন মনীষার চিকিৎসা শেষে মঙ্গলবার সকালে উড়োজাহাজে কলকাতায় ফেরেন তারা।
পরিবারের পরিকল্পনা ছিল, কলকাতা থেকে কেনাকাটা শেষে পরদিন সকালে দেশে ফিরবেন তারা। এ জন্য রাতে থাকার উদ্দেশ্যে নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন হোটেলে ওঠেন।
সারাদিন পরিবারের সদস্যদের জন্য কেনাকাটা করার পর রাতে হোটেলে অবস্থান করছিলেন তারা। রাত আড়াইটার দিকে হোটেলটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী, শিশুপুত্র ও শ্বশুর—একই পরিবারের চারজনের মৃত্যু হয়।

























