ট্রাম্পের ৫০% শুল্কের জবাব দেবে কানাডা
- আপডেট সময় ০৮:৩৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
- / 30
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ৫০ শতাংশ শুল্ককে ‘ভুল হিসাব’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। তার দাবি, কানাডাকে ‘আঘাত করা ও বিভক্ত করার’ লক্ষ্যেই নতুন করে এই শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা শুল্কের সমপরিমাণ পাল্টা শুল্ক কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার রাতে দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর শনিবার (২২ আগস্ট) সকালে জাতির উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী।
কার্নি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় অনেক বেশি চেয়েছে, কিন্তু বিনিময়ে খুব কম প্রস্তাব দিয়েছে। আলোচনার ব্যর্থতার পর কানাডা এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বাণিজ্য ‘যুদ্ধে’ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা শুল্কের সমপরিমাণ শুল্ক কানাডাও বিভিন্ন মার্কিন পণ্যের ওপর আরোপ করবে। ‘ডলার-ফর-ডলার’ ভিত্তিতে এই পাল্টা শুল্ক দেওয়া হবে। এর আওতায় ইস্পাত, দুগ্ধজাত পণ্য, গৃহস্থালি সরঞ্জাম ও ইলেকট্রনিকসসহ বিভিন্ন পণ্য থাকবে।
দুই দেশের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ ও পরস্পরনির্ভরশীল বাণিজ্যিক সম্পর্কের মধ্যে আলোচনা ভেঙে পড়াকে বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এই সংকট নিরসনে এখন পর্যন্ত কোনো সুস্পষ্ট পথ দেখা যাচ্ছে না।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো কানাডার প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
চলতি সপ্তাহের শুরুতেও দুই দেশ একটি বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে আশাবাদী ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে আলোচনার শর্ত পরিবর্তনের অভিযোগ তুললে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। পরে শুক্রবার রাতে আলোচনা ভেঙে যায়।
আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর কানাডার বিভিন্ন পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়েছে। এর পাশাপাশি কানাডার ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, গাড়ি ও কাঠজাত পণ্যের ওপর আগে থেকে আরোপিত মার্কিন শুল্কও বহাল রয়েছে।
তবে নতুন ৫০ শতাংশ শুল্কের আওতা তুলনামূলকভাবে সীমিত। প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ২৮ বিলিয়ন কানাডীয় ডলারের কানাডীয় পণ্য এই শুল্কের আওতায় পড়বে, যা দেশটির মোট রপ্তানির প্রায় ৫ শতাংশ।
নতুন শুল্কের আওতাভুক্ত পণ্যের মধ্যে রয়েছে ওয়াইন, দুগ্ধজাত পণ্য, সিমেন্ট, পোশাক ও হকি সরঞ্জামসহ বিভিন্ন পণ্য।

























