ঢাকা ০৮:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
শিরোনাম :
ডারউইনে ইতিহাস, ওয়াসিম আকরামদের পাশে হাসান মাহমুদ মৎস্য উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানি কমাতে হবে: সংস্কৃতিমন্ত্রী তথ্যসেবাকে প্রযুক্তিনির্ভর ও জনবান্ধব করা হবে: তথ্যমন্ত্রী জলাশয়ের সর্বোচ্চ ব্যবহারে মৎস্য, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর হরমুজ প্রণালি ইরানের ছিল, আছে ও থাকবে, ট্রাম্পকে তেহরানের কড়া জবাব আলোচনার টেবিলে বসতে মিসর যাচ্ছেন হামাস প্রধান তিন ইরানি পাইলটকে আটকের অভিযোগ কাতারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের মনোনয়ন বৈধ বিদ্যুৎ সংকটের সুযোগ নিয়ে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা চলছে: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আগে অনুকূল পরিবেশ চায় ঢাকা

ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পে নিহত অন্তত ২০, ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকার শঙ্কা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:১৭:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
  • / 25

ছবি সংগৃহীত

 

ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপের কাছে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। ধ্বংসস্তূপের নিচে দুজন আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধার অভিযান চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শনিবার স্থানীয় সময় ভোরে ফ্লোরেস অঞ্চলে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ইন্দোনেশিয়ার ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংস্থা বিএমকেজি জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১৫ কিলোমিটার গভীরে। তবে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস এর গভীরতা প্রায় ১০ কিলোমিটার বলে জানিয়েছে।

আরও পড়ুন  মিয়ানমারে ভূমিকম্পে সহায়তাকারী বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দলকে সশস্ত্র বাহিনীর সংবর্ধনা

তীব্র কম্পনে ফ্লোরেসের বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ি, গুদাম ও সরকারি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশ কয়েকটি ভবন ধসে পড়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি মাউমেরেতে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে হতাহতদের উদ্ধারে কাজ করছেন উদ্ধারকারীরা।

স্থানীয় উদ্ধার সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাউমেরে এলাকা থেকে ২০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও দুজন আটকে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভূমিকম্পের পর বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় উদ্ধার তৎপরতায়ও সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় ভূমিধসের কারণে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। দুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধারকারী দলের পৌঁছাতেও সমস্যা হচ্ছে।

মূল ভূমিকম্পের পর ফ্লোরেসে একের পর এক আফটারশক অনুভূত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালীটির মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ১। এ কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে ফিরে যেতে ভয় পাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নিরাপত্তার জন্য অনেকেই রাত বাইরে কাটিয়েছেন।

ভূমিকম্পের পরপরই উপকূলীয় এলাকাগুলোর জন্য সুনামি সতর্কতা জারি করে কর্তৃপক্ষ। আতঙ্কিত হয়ে হাজারো মানুষ নিরাপদ স্থানে সরে যান। প্রায় তিন ঘণ্টা পর বড় ধরনের সুনামির আশঙ্কা না থাকায় সেই সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়। বিভিন্ন এলাকায় এক মিটারের কম উচ্চতার ঢেউ রেকর্ড করা হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নাজেকেও এলাকায় প্রায় ২ হাজার বাসিন্দা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।

ভূমিকম্পপ্রবণ ও দুর্গম ফ্লোরেস অঞ্চলে উদ্ধারকাজ এখনও চলছে। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব পাওয়া যায়নি। ধ্বংসস্তূপ সরানোর পর হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বাসিন্দাদের শান্ত থাকার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত বা ফাটল ধরা ভবনে প্রবেশ না করার আহ্বান জানিয়েছে। আফটারশকের আশঙ্কায় উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত ইন্দোনেশিয়ায় প্রায়ই শক্তিশালী ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। ফ্লোরেস অঞ্চলও অতীতে বড় ধরনের ভূমিকম্প ও সুনামির মুখোমুখি হয়েছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পে নিহত অন্তত ২০, ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকার শঙ্কা

আপডেট সময় ০৪:১৭:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

 

ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপের কাছে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। ধ্বংসস্তূপের নিচে দুজন আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধার অভিযান চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শনিবার স্থানীয় সময় ভোরে ফ্লোরেস অঞ্চলে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ইন্দোনেশিয়ার ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংস্থা বিএমকেজি জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১৫ কিলোমিটার গভীরে। তবে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস এর গভীরতা প্রায় ১০ কিলোমিটার বলে জানিয়েছে।

আরও পড়ুন  রাজধানীতে আবারও ভূমিকম্প অনুভূত

তীব্র কম্পনে ফ্লোরেসের বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ি, গুদাম ও সরকারি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশ কয়েকটি ভবন ধসে পড়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি মাউমেরেতে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে হতাহতদের উদ্ধারে কাজ করছেন উদ্ধারকারীরা।

স্থানীয় উদ্ধার সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাউমেরে এলাকা থেকে ২০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও দুজন আটকে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভূমিকম্পের পর বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় উদ্ধার তৎপরতায়ও সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় ভূমিধসের কারণে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। দুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধারকারী দলের পৌঁছাতেও সমস্যা হচ্ছে।

মূল ভূমিকম্পের পর ফ্লোরেসে একের পর এক আফটারশক অনুভূত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালীটির মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ১। এ কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে ফিরে যেতে ভয় পাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নিরাপত্তার জন্য অনেকেই রাত বাইরে কাটিয়েছেন।

ভূমিকম্পের পরপরই উপকূলীয় এলাকাগুলোর জন্য সুনামি সতর্কতা জারি করে কর্তৃপক্ষ। আতঙ্কিত হয়ে হাজারো মানুষ নিরাপদ স্থানে সরে যান। প্রায় তিন ঘণ্টা পর বড় ধরনের সুনামির আশঙ্কা না থাকায় সেই সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়। বিভিন্ন এলাকায় এক মিটারের কম উচ্চতার ঢেউ রেকর্ড করা হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নাজেকেও এলাকায় প্রায় ২ হাজার বাসিন্দা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।

ভূমিকম্পপ্রবণ ও দুর্গম ফ্লোরেস অঞ্চলে উদ্ধারকাজ এখনও চলছে। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব পাওয়া যায়নি। ধ্বংসস্তূপ সরানোর পর হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বাসিন্দাদের শান্ত থাকার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত বা ফাটল ধরা ভবনে প্রবেশ না করার আহ্বান জানিয়েছে। আফটারশকের আশঙ্কায় উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত ইন্দোনেশিয়ায় প্রায়ই শক্তিশালী ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। ফ্লোরেস অঞ্চলও অতীতে বড় ধরনের ভূমিকম্প ও সুনামির মুখোমুখি হয়েছে।