ঢাকা ০৩:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
শিরোনাম :
অর্থের অভাবে কেউ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হবে না: প্রধানমন্ত্রী নিউরোসায়েন্সেসে ৫০০ শয্যার ভবন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী সোনারগাঁয়ে ম্যারাথনে দৌড়ের সময় অসুস্থ হয়ে দৌড়বিদের মৃত্যু ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প দুপুরের মধ্যে ৭ জেলায় ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস ২১৯ রানের লিড নিয়ে মধ্যাহ্নভোজে বাংলাদেশ নারী চিকিৎসকদের স্যার-ম্যাডাম সম্বোধনের নির্দেশনা, মুরাদনগর হাসপাতালে হাতে লেখা নোটিশ ঘিরে বিতর্ক গৃহবধূ থেকে প্রধানমন্ত্রী, দীর্ঘ সংগ্রামে বেগম খালেদা জিয়ার যে রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ১৫ আগস্ট ঘিরে ঢাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা লোকসভা আসন নিয়ে মোদিকে বিজয়ের ৩ দাবি

নারী চিকিৎসকদের স্যার-ম্যাডাম সম্বোধনের নির্দেশনা, মুরাদনগর হাসপাতালে হাতে লেখা নোটিশ ঘিরে বিতর্ক

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:১৮:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
  • / 33

ছবি সংগৃহীত

 

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নারী চিকিৎসকদের ‘স্যার’ বা ‘ম্যাডাম’ ছাড়া অন্য কোনো সম্বোধন না করার নির্দেশনা ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসকের কক্ষের দরজায় হাতে লেখা ওই নির্দেশনার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রোগী ও স্বজনদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নির্দেশনাটি সরিয়ে ফেলে।

শুক্রবার, ১৪ আগস্ট বিকেলে বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরে আসে বলে জানান মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকা আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, সরকারি চাকরির বিধিমালায় কোনো চিকিৎসককে ‘স্যার’ বা ‘ম্যাডাম’ বলে সম্বোধন করতেই হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

আরও পড়ুন  আদ্-দ্বীনের অন্য শাখা চালু রাখতে বাধা নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

জরুরি বিভাগের দরজায় এ ধরনের নির্দেশনা টানানোকে অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেন আবুল কালাম আজাদ। তাঁর ভাষ্য, বিষয়টি নজরে আসার পর বিকেলেই স্টাফদের মাধ্যমে হাতে লেখা নির্দেশনাটি সরিয়ে নেওয়া হয়।

তিনি বলেন, একজন চিকিৎসকের সবচেয়ে বড় গুণ হলো মানবিক হওয়া এবং রোগীদের সেবা দেওয়া। চিকিৎসকদের ‘স্যার’ বা ‘ম্যাডাম’ বলেই সম্বোধন করতে হবে—এমন নির্দেশনা সরকারি চাকরির বিধিমালায় নেই বলেও জানান তিনি।

হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, প্রায় এক মাস আগে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসকের কক্ষের দরজায় হাতে লেখা ওই নির্দেশনা টানানো হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালের ভেতরেও আলোচনা ও সমালোচনা চলছিল। তবে নির্দেশনাটির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা প্রকাশ্যে আসে।

মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষের বড় একটি অংশ গ্রামের বাসিন্দা। তাদের মধ্যে কেউ হতদরিদ্র, কেউ কম শিক্ষিত এবং কেউ সহজ-সরল প্রকৃতির। স্থানীয় ভাষা ও প্রচলিত সামাজিক রীতির কারণে তারা অনেক সময় নারী চিকিৎসকদের ‘আপা’ এবং পুরুষ চিকিৎসকদের ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করেন। রোগীদের ভাষ্য, এতে চিকিৎসকদের অসম্মান করার কোনো উদ্দেশ্য থাকে না।

সম্প্রতি ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে যাওয়া নবীপুর এলাকার বাসিন্দা ফাতেমা বেগম বলেন, তারা গ্রামের মানুষ হওয়ায় নারী চিকিৎসকদের ‘আপা’ এবং পুরুষদের ‘ভাই’ বলে ডাকেন। তাঁর অভিযোগ, হাসপাতালে কোনো চিকিৎসককে ‘ভাই’ বা ‘আপা’ বলে সম্বোধন করলে কখনো কখনো তারা বিরক্ত হন এবং সেবার পরিবর্তে রোগী বা স্বজনদের সঙ্গে রাগারাগি করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের এক কর্মচারী বলেন, কয়েক মাস আগে কয়েকজন নতুন নারী চিকিৎসক হাসপাতালে যোগ দেওয়ার পর এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাঁর দাবি, তিনিও একবার এক নারী চিকিৎসককে ‘আপা’ বলে ডাকলে ওই চিকিৎসক বিরক্ত হয়ে তাঁকে ‘ম্যাডাম’ অথবা ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করতে বলেন।

তবে হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসক মনে করেন, এ ধরনের একটি নির্দেশনার কারণে পুরো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হওয়া উচিত নয়। তাঁদের মতে, চিকিৎসক ও রোগীর মধ্যে পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার পাশাপাশি রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করাই গুরুত্বপূর্ণ।

ঠিক কোন নারী চিকিৎসককে কেন্দ্র করে ওই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, তা নিশ্চিত নন বলে জানান ভারপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কয়েকজন নবীন নারী চিকিৎসক রয়েছেন। তাঁদের কারও কারণে দরজায় এমন নির্দেশনা লাগানো হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। তবে নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসকের কারণে এটি করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখার কথা জানিয়েছেন কুমিল্লার সিভিল সার্জন আলী নূর মোহাম্মদ বশীর আহমেদ।

তিনি বলেন, মানুষের সেবা করাই চিকিৎসক ও সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব। কেউ তাঁকে ‘তুই’ বলে সম্বোধন করলেও তিনি বিষয়টি মনে করেন না। মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কী ঘটেছে, তা তাঁর জানা নেই বলে জানান তিনি। তবে বিষয়টি বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে দেখবেন।

কুমিল্লার সিভিল সার্জনও স্পষ্ট করে বলেন, কোনো চিকিৎসককে ‘স্যার’ বা ‘ম্যাডাম’ বলেই সম্বোধন করতে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

নারী চিকিৎসকদের স্যার-ম্যাডাম সম্বোধনের নির্দেশনা, মুরাদনগর হাসপাতালে হাতে লেখা নোটিশ ঘিরে বিতর্ক

আপডেট সময় ০৯:১৮:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

 

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নারী চিকিৎসকদের ‘স্যার’ বা ‘ম্যাডাম’ ছাড়া অন্য কোনো সম্বোধন না করার নির্দেশনা ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসকের কক্ষের দরজায় হাতে লেখা ওই নির্দেশনার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রোগী ও স্বজনদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নির্দেশনাটি সরিয়ে ফেলে।

শুক্রবার, ১৪ আগস্ট বিকেলে বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরে আসে বলে জানান মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকা আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, সরকারি চাকরির বিধিমালায় কোনো চিকিৎসককে ‘স্যার’ বা ‘ম্যাডাম’ বলে সম্বোধন করতেই হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

আরও পড়ুন  অর্থের অভাবে কেউ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হবে না: প্রধানমন্ত্রী

জরুরি বিভাগের দরজায় এ ধরনের নির্দেশনা টানানোকে অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেন আবুল কালাম আজাদ। তাঁর ভাষ্য, বিষয়টি নজরে আসার পর বিকেলেই স্টাফদের মাধ্যমে হাতে লেখা নির্দেশনাটি সরিয়ে নেওয়া হয়।

তিনি বলেন, একজন চিকিৎসকের সবচেয়ে বড় গুণ হলো মানবিক হওয়া এবং রোগীদের সেবা দেওয়া। চিকিৎসকদের ‘স্যার’ বা ‘ম্যাডাম’ বলেই সম্বোধন করতে হবে—এমন নির্দেশনা সরকারি চাকরির বিধিমালায় নেই বলেও জানান তিনি।

হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, প্রায় এক মাস আগে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসকের কক্ষের দরজায় হাতে লেখা ওই নির্দেশনা টানানো হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালের ভেতরেও আলোচনা ও সমালোচনা চলছিল। তবে নির্দেশনাটির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা প্রকাশ্যে আসে।

মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষের বড় একটি অংশ গ্রামের বাসিন্দা। তাদের মধ্যে কেউ হতদরিদ্র, কেউ কম শিক্ষিত এবং কেউ সহজ-সরল প্রকৃতির। স্থানীয় ভাষা ও প্রচলিত সামাজিক রীতির কারণে তারা অনেক সময় নারী চিকিৎসকদের ‘আপা’ এবং পুরুষ চিকিৎসকদের ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করেন। রোগীদের ভাষ্য, এতে চিকিৎসকদের অসম্মান করার কোনো উদ্দেশ্য থাকে না।

সম্প্রতি ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে যাওয়া নবীপুর এলাকার বাসিন্দা ফাতেমা বেগম বলেন, তারা গ্রামের মানুষ হওয়ায় নারী চিকিৎসকদের ‘আপা’ এবং পুরুষদের ‘ভাই’ বলে ডাকেন। তাঁর অভিযোগ, হাসপাতালে কোনো চিকিৎসককে ‘ভাই’ বা ‘আপা’ বলে সম্বোধন করলে কখনো কখনো তারা বিরক্ত হন এবং সেবার পরিবর্তে রোগী বা স্বজনদের সঙ্গে রাগারাগি করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের এক কর্মচারী বলেন, কয়েক মাস আগে কয়েকজন নতুন নারী চিকিৎসক হাসপাতালে যোগ দেওয়ার পর এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাঁর দাবি, তিনিও একবার এক নারী চিকিৎসককে ‘আপা’ বলে ডাকলে ওই চিকিৎসক বিরক্ত হয়ে তাঁকে ‘ম্যাডাম’ অথবা ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করতে বলেন।

তবে হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসক মনে করেন, এ ধরনের একটি নির্দেশনার কারণে পুরো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হওয়া উচিত নয়। তাঁদের মতে, চিকিৎসক ও রোগীর মধ্যে পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার পাশাপাশি রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করাই গুরুত্বপূর্ণ।

ঠিক কোন নারী চিকিৎসককে কেন্দ্র করে ওই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, তা নিশ্চিত নন বলে জানান ভারপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কয়েকজন নবীন নারী চিকিৎসক রয়েছেন। তাঁদের কারও কারণে দরজায় এমন নির্দেশনা লাগানো হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। তবে নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসকের কারণে এটি করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখার কথা জানিয়েছেন কুমিল্লার সিভিল সার্জন আলী নূর মোহাম্মদ বশীর আহমেদ।

তিনি বলেন, মানুষের সেবা করাই চিকিৎসক ও সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব। কেউ তাঁকে ‘তুই’ বলে সম্বোধন করলেও তিনি বিষয়টি মনে করেন না। মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কী ঘটেছে, তা তাঁর জানা নেই বলে জানান তিনি। তবে বিষয়টি বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে দেখবেন।

কুমিল্লার সিভিল সার্জনও স্পষ্ট করে বলেন, কোনো চিকিৎসককে ‘স্যার’ বা ‘ম্যাডাম’ বলেই সম্বোধন করতে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।