টাইফুন ডলফিনের আঘাতে লণ্ডভণ্ড চীন, বাতিল ১,৪০০ ফ্লাইট
- আপডেট সময় ১১:১৭:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
- / 14
চীনের পূর্ব উপকূলে শক্তিশালী টাইফুন ‘ডলফিন’ আঘাত হানার পর দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত, বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ঝড়ের প্রভাবে সাংহাইয়ের দুটি প্রধান বিমানবন্দরে প্রায় ১ হাজার ৪০০ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে কয়েক লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
চীনের আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রোববার (৯ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঝেজিয়াং প্রদেশের ইউহুয়ান শহরের কাছে টাইফুন ‘ডলফিন’ স্থলভাগে আঘাত হানে। এ সময় ঝড়টির কেন্দ্রের কাছাকাছি বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটারের বেশি ছিল। এর আগে শনিবার ঝড়টির বহিরাংশের প্রভাবে উত্তর তাইওয়ানে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়।
ঝেজিয়াং প্রদেশের তাইঝো শহর ও পাশের ফুজিয়ান প্রদেশের উত্তরাঞ্চলে আঘাত হানার সময় ঝড়টির বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ৯৩ মাইল ছিল। এর প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় বড় ঢেউ সৃষ্টি হয়। প্রবল বৃষ্টির কারণে ঝেজিয়াংয়ে বন্যার আশঙ্কার পাশাপাশি ভূমিধসের ঝুঁকি বেড়েছে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।
সাংহাইয়ের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম দ্য পেপারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার শহরের হংকিয়াও ও পুডং বিমানবন্দরে নির্ধারিত ফ্লাইটের প্রায় ৬০ শতাংশ বাতিল করা হয়। পরে সাংহাইয়ের দুটি প্রধান বিমানবন্দরে আসা-যাওয়ার প্রায় ১ হাজার ৪০০টি ফ্লাইট বাতিলের কথা জানানো হয়।
এ ছাড়া ঝেজিয়াংয়ের হাংঝৌ বিমানবন্দরে প্রায় ২৭০টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য বেশ কিছু এলাকায় ট্রেন চলাচলও স্থগিত রাখা হয়েছে।
চীনের আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনে বিভিন্ন এলাকায় ৮ থেকে ১৬ ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। আবহাওয়া দপ্তর ঝেজিয়াং প্রদেশের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলে অত্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কতা জারি করেছে। কোনো কোনো এলাকায় ২৫০ থেকে ৫০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঝড়ের ঝুঁকিতে ঝেজিয়াং ও ফুজিয়ান অঞ্চলে ২০০টির বেশি ফেরি চলাচল স্থগিত করা হয়েছে। উপকূলীয় প্রকল্পগুলোর কাজও বন্ধ রাখা হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য নির্মাণকাজে ব্যবহৃত শত শত জাহাজকে বন্দরে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার কাজও শুরু হয়েছে। ওয়েনঝৌ শহর থেকেই প্রায় ৯ লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য এক হাজারের বেশি জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ফুজিয়ানের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকেও প্রায় ৯৯ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র রোববার সকালে টাইফুন ‘ডলফিন’-এর জন্য ‘রেড অ্যালার্ট’ বা সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করে। চীনে টাইফুনের ক্ষেত্রে এটি সর্বোচ্চ সতর্কতার স্তর।
আবহাওয়া বিভাগ ঝেজিয়াংয়ের কয়েকটি এলাকায় অতিভারি বৃষ্টিপাতের বিষয়ে সতর্ক করেছে। সোমবার বিকেলের মধ্যে সাংহাই এবং ফুজিয়ান, আনহুই ও জিয়াংসু প্রদেশের কিছু অংশেও ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে।























