ঢাকা ০৭:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬
শিরোনাম :
১৬ বছরে সাড়ে ৪ হাজারের বেশি মানুষ হত্যার শিকার: আইনমন্ত্রী গণভবন থেকেই গুম-খুনের নীলনকশা হতো: পার্থ  জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনের আহ্বান জাইমা রহমানের প্রতিটি সংশোধনই একেকটি সংস্কার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবু সাঈদের ছবি না থাকলে সেটি কোনো ডকুমেন্টারি নয়: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি জাকারবার্গকে ৩ দিনের আলটিমেটাম ভারতের কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা গুম-খুনের পরও আওয়ামী লীগের কোনো অনুশোচনা নেই: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি স্টিম শিক্ষায় বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরলেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ লন্ডনের আকাশে রহস্যময় উড়ন্ত বস্তু দেখার দাবি পাইলটের

১৬ বছরে সাড়ে ৪ হাজারের বেশি মানুষ হত্যার শিকার: আইনমন্ত্রী

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:৪১:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • / 0

ছবি: সংগৃহীত

 

গত ১৬ বছরের শাসনামলে বিনা বিচারে ‘ক্রসফায়ারের’ নামে সাড়ে চার হাজারের বেশি মানুষ হত্যার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। একই সময়ে ৭০০ জনের বেশি মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন এবং ৬০ লাখের বেশি মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন।

বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক উৎসব এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে আয়োজিত বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন  সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ পর্যালোচনায় সরকার: আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী বলেন, গত ১৬ বছরের শাসনামলে বিনা বিচারে ‘ক্রসফায়ারের’ নামে সাড়ে চার হাজারেরও বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, একই সময়ে ৭০০ জনের বেশি মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন এবং বিরোধী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে ৬০ লাখের বেশি মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা করা হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না। তাঁর ভাষ্য, এটি দীর্ঘ ১৬ বছরের সংগ্রাম, ত্যাগ ও নির্যাতনের ধারাবাহিকতার যৌক্তিক পরিণতি। যারা নিহত হয়েছেন, গুমের শিকার হয়েছেন কিংবা মিথ্যা মামলার আসামি হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়েই জুলাই গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনেরা এখনো প্রিয়জনের ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এমন অনেক ঘটনাও ঘটেছে যেখানে বহু আগে মারা যাওয়া ব্যক্তি, হজে অবস্থানকারী মানুষ কিংবা দুই হাত হারানো প্রতিবন্ধী ব্যক্তির বিরুদ্ধেও বোমা হামলার অভিযোগ এনে মামলা করা হয়েছিল।

সংস্কৃতিচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি জানতে পারেন, দেশে আবৃত্তিকে শিল্পের স্বতন্ত্র শাখা হিসেবে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি ছিল না। পরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে আইন সংশোধনের মাধ্যমে আবৃত্তিকে নৃত্য ও সংগীতের মতো শিল্প-সংস্কৃতির একটি স্বীকৃত শাখা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আবৃত্তি মানুষের মধ্যে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মুক্তচিন্তা ও মানবিকতা বিকাশে ভূমিকা রাখে। বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও রক্তপাতহীন সমাজ গঠনে আবৃত্তিশিল্পীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এবং এ ধরনের উদ্যোগে সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

১৬ বছরে সাড়ে ৪ হাজারের বেশি মানুষ হত্যার শিকার: আইনমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৭:৪১:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

 

গত ১৬ বছরের শাসনামলে বিনা বিচারে ‘ক্রসফায়ারের’ নামে সাড়ে চার হাজারের বেশি মানুষ হত্যার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। একই সময়ে ৭০০ জনের বেশি মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন এবং ৬০ লাখের বেশি মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন।

বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক উৎসব এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে আয়োজিত বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন  বিচার বহির্ভূত হ/ত্যা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমেছে: আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী বলেন, গত ১৬ বছরের শাসনামলে বিনা বিচারে ‘ক্রসফায়ারের’ নামে সাড়ে চার হাজারেরও বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, একই সময়ে ৭০০ জনের বেশি মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন এবং বিরোধী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে ৬০ লাখের বেশি মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা করা হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না। তাঁর ভাষ্য, এটি দীর্ঘ ১৬ বছরের সংগ্রাম, ত্যাগ ও নির্যাতনের ধারাবাহিকতার যৌক্তিক পরিণতি। যারা নিহত হয়েছেন, গুমের শিকার হয়েছেন কিংবা মিথ্যা মামলার আসামি হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়েই জুলাই গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনেরা এখনো প্রিয়জনের ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এমন অনেক ঘটনাও ঘটেছে যেখানে বহু আগে মারা যাওয়া ব্যক্তি, হজে অবস্থানকারী মানুষ কিংবা দুই হাত হারানো প্রতিবন্ধী ব্যক্তির বিরুদ্ধেও বোমা হামলার অভিযোগ এনে মামলা করা হয়েছিল।

সংস্কৃতিচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি জানতে পারেন, দেশে আবৃত্তিকে শিল্পের স্বতন্ত্র শাখা হিসেবে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি ছিল না। পরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে আইন সংশোধনের মাধ্যমে আবৃত্তিকে নৃত্য ও সংগীতের মতো শিল্প-সংস্কৃতির একটি স্বীকৃত শাখা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আবৃত্তি মানুষের মধ্যে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মুক্তচিন্তা ও মানবিকতা বিকাশে ভূমিকা রাখে। বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও রক্তপাতহীন সমাজ গঠনে আবৃত্তিশিল্পীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এবং এ ধরনের উদ্যোগে সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।