ফিফার শাস্তির মুখে লো সেলসোদের উদযাপন
- আপডেট সময় ১০:১৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
- / 30
ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার আনন্দের মধ্যেই নতুন বিতর্কে জড়িয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। সেমিফাইনালের পর ‘লাস মালভিনাস সন আর্জেন্তিনাস’ লেখা একটি পতাকা মাঠে প্রদর্শনের ঘটনায় দলটির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ফিফার প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বুধবার, ১৬ জুলাই আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নাটকীয় জয়ের পর মাঠে একটি পতাকা হাতে দেখা যায় আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার জিওভানি লো সেলসোকে। ওই পতাকায় লেখা ছিল, ‘লাস মালভিনাস সন আর্জেন্তিনাস’, যার অর্থ ‘মালভিনাস আর্জেন্টিনার’। পরে ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দিকেও তার সঙ্গে দেখা যায়। শুরুতে পতাকাটি দর্শকদের হাতে থাকলেও পরে সেটি মাঠে প্রদর্শন করা হয়।
আন্তর্জাতিক ফুটবলের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা আইএফএবি এবং ফিফার বিধিমালায় রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত বার্তাসংবলিত পতাকা, স্লোগান কিংবা প্রতীক প্রদর্শনের বিষয়ে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, এমন কোনো বার্তা প্রদর্শিত হলে প্রতিযোগিতা আয়োজক, সংশ্লিষ্ট জাতীয় ফুটবল সংস্থা বা ফিফা খেলোয়াড় ও দলের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে।
সাধারণত ম্যাচ-পরবর্তী সব ধরনের প্রতিবেদন জমা হওয়ার পরই ফিফা কোনো ঘটনার মূল্যায়ন করে। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনগুলো পর্যালোচনার পর বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য জানতে ফিফার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
‘লাস মালভিনাস’ নামটি আর্জেন্টিনায় ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। ব্রিটেনের নিয়ন্ত্রণাধীন এই দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার পূর্ব উপকূল থেকে প্রায় ৩০০ মাইল দূরে অবস্থিত এবং দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে এ অঞ্চল নিয়ে বিরোধ রয়েছে।
এই বিরোধের ইতিহাস ঊনবিংশ শতকের শুরু পর্যন্ত বিস্তৃত। ১৭৭৪ সালে ব্রিটেন প্রথম ফকল্যান্ডের দাবি করে এবং ১৮৩২ সালে সেখানে পুনরায় নিজেদের শাসন প্রতিষ্ঠা করে। পরে ১৯৮২ সালে আর্জেন্টিনার সামরিক সরকার দ্বীপপুঞ্জটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করলে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। ২ এপ্রিল শুরু হওয়া সেই সংঘর্ষ ১৪ জুন আর্জেন্টিনার আত্মসমর্পণের মাধ্যমে শেষ হয়। যুদ্ধে তিনজন বেসামরিক ব্যক্তি, ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনা এবং ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন সেনা নিহত হন।
ফিফার স্টেডিয়াম আচরণবিধিতেও রাজনৈতিক, আপত্তিকর বা বৈষম্যমূলক বার্তাসংবলিত ব্যানার, পতাকা, লিফলেট বা পোশাক নিষিদ্ধ সামগ্রীর তালিকায় রয়েছে। যদি প্রদর্শিত পতাকাটিকে রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তাহলে সেটি এই আচরণবিধিরও লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হতে পারে।
এর আগে গত জুনে বিপ্লব-পূর্ব ইরানের পতাকার ওপর ফিফার আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখেন যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি আদালত।
এদিকে বিশ্বকাপের ফাইনালে রোববার নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে জিততে পারলে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়া তৃতীয় দল হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখাবে তারা।


























